দেশে কিডনি রোগীর হার বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে বেশি
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশে কিডনি রোগে আক্রান্তের হার বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় বেশি। চিকিৎসা বিষয়ক সাময়িকী লেনসেট-এ প্রকাশিত ২০২৩ সালের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতি ১০ জন প্রাপ্ত বয়স্কের একজন কিডনি রোগে আক্রান্ত। তবে বাংলাদেশে এই হার দ্বিগুণেরও বেশি বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিশ্ব কিডনি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা এসব তথ্য তুলে ধরেন। তাদের মতে, দেশে কিডনি রোগের উচ্চহারের প্রধান কারণ হলো অসচেতনতা, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত না হওয়া এবং জটিলতা দেখা দেয়ার পর রোগ ধরা পড়া। অনেক ক্ষেত্রেই রোগটি দীর্ঘদিন নীরবে অগ্রসর হয় এবং গুরুতর অবস্থায় পৌঁছানোর পর তা শনাক্ত হয়। ফলে দেশে দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগ ধীরে ধীরে একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত হচ্ছে।
‘প্রেভেল্যান্স অফ ক্রোনিক কিডনি ডিজিজ ইন বাংলাদেশ : অ্যা সিস্টেমেটিক রিভিউ অ্যান্ড মেটা অ্যানালাইসিস’ শীর্ষক এক গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে প্রায় প্রতি চারজনের মধ্যে একজন কোনো না কোনোভাবে কিডনি রোগে আক্রান্ত, যা বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এ ছাড়া প্রতি বছর প্রায় ৩৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার মানুষ কিডনি বিকলের পর্যায়ে পৌঁছে যায়।
কিডনি রোগ দ্রুত শনাক্ত, নির্ণয় ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা জোরদার করতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ (এনসিডিসি) একটি জাতীয় চিকিৎসা প্রটোকল তৈরি করেছে। এ প্রটোকল দেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্যব্যবস্থায় কিডনি রোগ শনাক্ত ও ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ ও আইসিডিডিআর,বি যৌথভাবে সায়েন্টিফিক ওয়ার্কিং গ্রুপের মাধ্যমে এই প্রটোকল প্রণয়ন করেছে। এর লক্ষ্য হলো প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার মধ্যেই কিডনি রোগের পরীক্ষা ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা অন্তর্ভুক্ত করা।
এই ব্যবস্থায় কমিউনিটি কিনিকে কর্মরত কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডাররা (সিএইচসিপি) কিডনি রোগ, উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিসের প্রাথমিক পরীক্ষা করবেন এবং সন্দেহজনক রোগীদের প্রয়োজন অনুযায়ী রেফার করবেন। উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসকেরা নির্ধারিত নির্দেশনা অনুসরণ করে রোগ নির্ণয়, ঝুঁকি নির্ধারণ এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা করবেন।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, কিডনি রোগ অনেক সময় নীরবে বাড়তে থাকে। ফলে অনেক রোগী শেষ পর্যায়ে যাওয়ার আগে বুঝতেই পারেন না যে তাদের কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ অথবা পরিবারে কিডনি রোগের ইতিহাস থাকলে ঝুঁকি বেশি থাকে।
এ ছাড়া উপকূলীয় অঞ্চলে পানির লবণাক্ততা, অতিরিক্ত গরমে দীর্ঘসময় কাজ করা এবং পানির মানের অবনতিও কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে তারা উল্লেখ করেন।
ইনসাফ বারাকাহ হাসপাতালে কর্মসূচি : বিশ্ব কিডনি দিবস উপলক্ষে রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত ইনসাফ বারাকাহ কিডনি অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল মাসব্যাপী বিনামূল্যে মেডিক্যাল চেকআপ ক্যাম্পের উদ্বোধন করেছে। ক্যাম্পে রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি দুই হাজার টাকায় সাতটি পরীক্ষার একটি প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। পরীক্ষাগুলোর মধ্যে রয়েছে সিবিসি, লিপিড প্রোফাইল, ফাস্টিং ব্লাড সুগার, এইচবিএ১সি, এসজিপিটি, ইউরিন আর/এম/ই এবং সিরাম ক্রিয়েটিনিন।