মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার প্রভাব : রিমোট ওয়ার্কে ঝুঁকছে এশিয়ার দেশগুলো
Printed Edition
আনাদোলু
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েই চলেছে। এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি চাহিদা কমানো এবং ভঙ্গুর অর্থনীতিকে রক্ষার উদ্দেশ্যে এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশ রিমোট ওয়ার্ক বা বাসা থেকে কাজ করার পদ্ধতি গ্রহণ করছে।
ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড এবং ফিলিপাইনের মতো দেশগুলো ইতোমধ্যে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ নীতি চালু করেছে। একই সাথে তারা কোভিড-১৯ মহামারীর সময়ের মতো বিভিন্ন সাশ্রয়ী পদক্ষেপও গ্রহণ করতে শুরু করেছে।
ইন্দোনেশিয়ার সরকারি কর্মকর্তারা জ্বালানি খরচ কমাতে হাইব্রিড কাজের মডেল এবং অনলাইনে স্কুল পরিচালনার বিষয়টি বিবেচনা করছেন। জাকার্তা গ্লোবের তথ্যানুযায়ী, যাতায়াত কমানো গেলে জ্বালানি ব্যবহার ২০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে। অন্যদিকে, আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল ভিয়েতনামে পেট্রল ও ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। গত মার্চের মাঝামাঝি সময়ে এক বিবৃতিতে ভিয়েতনামের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘যাতায়াত ও পরিবহনের প্রয়োজনীয়তা কমাতে সম্ভব হলে ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাসা থেকে কাজ করতে উৎসাহিত করা দরকার।’ এদিকে, থাইল্যান্ড ইতোমধ্যে তাদের সরকারি খাতের কিছু অংশকে রিমোট কার্যক্রমে স্থানান্তর করেছে। এর পাশাপাশি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের ব্যবহার সীমিত করা এবং সরকারি ভ্রমণ কমানোর মতো শক্তি-সাশ্রয়ী পদক্ষেপও নেয়া হয়েছে। ফিলিপাইনে সরকারি কর্মচারীদের জন্য কাজের ক্ষেত্রে নমনীয় ব্যবস্থা এবং সপ্তাহে চার দিন অফিসের নিয়ম চালু করা হয়েছে। মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র একটি জাতীয় জ্বালানি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। ক্রমবর্ধমান জ্বালানি খরচ থেকে অর্থনীতিকে রক্ষা করতে এবং সরবরাহ স্থিতিশীল রাখার জন্য এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এদিকে এই অঞ্চলে সবচেয়ে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে পাকিস্তান। সরকারি কর্মচারীদের জন্য আংশিক রিমোট ওয়ার্ক, জ্বালানি ভাতা হ্রাস এবং সাময়িকভাবে স্কুল বন্ধ রাখার মতো সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি।
চলমান সঙ্ঘাতের কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজার ব্যাপকভাবে ব্যাহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে এসব পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল বিমান হামলা চালিয়েছে। এতে ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনিসহ এখন পর্যন্ত এক হাজার ৩৪০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এর জবাবে ইসরাইল এবং জর্দান, ইরাক ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান।
গত মার্চের শুরু থেকে বিশ্বব্যাপী জাহাজ চলাচলের অন্যতম প্রধান পথ হরমুজ প্রণালী কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে আছে। প্রতিদিন প্রায় দুই কোটি ব্যারেল তেল এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই পথে বাধা সৃষ্টির কারণে জাহাজ চলাচলের খরচ বেড়ে গেছে এবং বিশ্ববাজারে তেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।