সিন্ডিকেটে নেয়া শাস্তির সিদ্ধান্ত রহস্যজনক কারণে স্থগিত
খুবি কর্মকর্তার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ
Printed Edition
খুলনা ব্যুরো
খুলনা বিশ^বিদ্যালয় সিন্ডিকেট একজন ডেপুটি রেজিস্ট্রারকে বিশ^বিদ্যালয়ের অর্থ আত্মসাতের দায়ে বাধ্যতামূলক অবসর দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। কিন্তু এক রহস্যজনক কারণে সে সিদ্ধান্ত কার্যকর না করে সেই সিন্ডিকেটই আবার ব্যাপারটি অধিকতর তদন্তে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। উক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফ্যাসিস্ট আমলে আওয়ামী বিরোধী মতের শিক্ষক-কর্মচারীদের মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করা ও অর্থ আদায় করার অভিযোগও রয়েছে। এখন তার শাস্তি প্রদানে প্রশাসনের ভূমিকায় তাকে বাঁচিয়ে দেয়ার চেষ্টা হচ্ছে বলে বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মকর্তাদের মধ্যে সন্দেহ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
বিশ^বিদ্যালয়ের কয়েকটি সূত্রে জানা গেছে, ডেপুটি রেজিস্ট্রার দিপক চন্দ্র মণ্ডল ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় ৮ বছরের বেশি সময় ধরে ভার্সিটির মাইকেল মধুসূদন দত্ত অতিথি ভবনের (গেস্ট হাউজ) দায়িত্বে ছিলেন। এ সময়কালে গেস্ট হাউজের অতিথিদের কাছ থেকে পাওয়া রুম ভাড়ার অর্থ ভার্সিটির তহবিলে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেন। আত্মসাৎ করা অর্থের সঠিক পরিমাণ জানা যায়নি। সিন্ডিকেটের একজন সদস্য বলেন, পরিমাণটা আমার মনে নেই। তবে তা এক লাখ টাকার বেশি এবং দুই লাখ টাকার কম। ২৪-এর পরিবর্তনের পর তাকে সে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। এরপর তার এ অর্থ তছরুপের ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যায়। তার ভিত্তিতে চলতি বছরে অনুষ্ঠিত বিশ^বিদ্যালয় সিন্ডিকেটের পরপর দুইটি সভায় আত্মসাৎ করা সব অর্থ আদায় করে তাকে বাধ্যতামূলক অবসর দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কিন্তু সে সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়নি। তদুপরি তৃতীয় সভায় সেটা পরিবর্তন করে দিপক বাবুর বিরুদ্ধে অভিযোগ অধিকতর তদন্ত করার সিদ্ধান্ত দেয় সিন্ডিকেট।
এ ছাড়া খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে আওয়ামীপন্থী অফিসারদের টপ টেন নামে একটি গ্রুপ অনেক আগে থেকে আছে বলে জানা গেছে। তারা আওয়ামী আমলে সব ধরনের নিয়োগ, আপগ্রেডেশন, প্রমোশন, বিভিন্ন লাভজনক পদে পদায়ন এবং টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করতো। এ ছাড়াও বিএনপিপন্থী শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের হয়রানিমূলক অভিযোগ দিয়ে মামলা করে চাকরি থেকে বরখাস্ত করাত। এরপর ওই সব শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের কৌশলে খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও খুলনা আইনজীবী সমিতির পলাতক সভাপতি অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলামের কাছে নিয়ে গিয়ে মামলা থেকে খালাসের আশ্বাসের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিত। দিপক চন্দ্র ওই গ্রুপের সদস্য ছিলেন। নয়া দিগন্তের সাথে কথা বলার সময় একজন কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা বেশ কয়েকজন ভিসি স্যারের সাথে দেখা করে দিপক মণ্ডলের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছি। কিন্তু পরিবর্তে তাকে সুরক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা হচ্ছে বলেই মনে হচ্ছে।
এ ব্যাপারে ভার্সিটির রেজিস্ট্রার প্রফেসর এস এম মহবুবুর রহমানের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, দিপক বাবুর আত্মসাৎ করা অর্থের পরিমাণ নির্দিষ্ট করা যায়নি। রিভিউয়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সিন্ডিকেট আরো তদন্ত করার সিদ্ধান্ত দিয়েছে। আগামী সভায় সেটা আলোচিত হবে। রিভিউয়ের আবেদন দিপক বাবু করেছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি করেননি। অন্যদের কাছ থেকে এসেছে।