‘ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই সমান অধিকার ভোগ করবে’

Printed Edition
Font-------------------------1
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গতকাল বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতাদের সাথে শুভেচ্ছাবিনিময় করেন : পিআইডি

নিজস্ব প্রতিবেদক

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই সব েেত্র সমানভাবে অধিকার ভোগ করবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

গৌতম বুদ্ধের জন্ম তিথি ‘বুদ্ধ পূর্ণিমা’ উপলে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতারা গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে সচিবালয়ে সাাৎ করতে এলে প্রধানমন্ত্রী তাদের উদ্দেশে ভাষণে এই মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করতে চায় না। ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে আমরা ব্যবহার করতে চাই না, অতীতেও আমরা তা করিনি। আমাদের সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে, যা একটু আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, আমিও জোর দিয়ে আবারো একই কথা বলতে চাই, ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাবার অধিকার সবার।

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালি-অবাঙালি বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী সবাই সব েেত্র সমানভাবে অধিকার ভোগ করবে, এটাই বর্তমান সরকারের নীতি।

প্রধানমন্ত্রীর হাতে বৌদ্ধদের প থেকে একটি শুভেচ্ছা ক্রেস্ট এবং মহামতি গৌতম বুদ্ধের মূর্তির প্রতিবিম্ব তুলে দেন প্রতিনিধি দলের নেতৃবৃন্দ।

কেউ নিজেকে সংখ্যালঘু ভাববেন না

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের একটি রাজনৈতিক দর্শন ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’। বাংলাদেশে এটি বারবার প্রমাণিত হয়েছে, একমাত্র বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের দর্শনই দেশের সব বর্ণ, ধর্মীয় সম্প্রদায় ও নৃগোষ্ঠীর নিবিড় সহাবস্থান নিশ্চিত করতে পারে।

সুতরাং আপনারা কেউ নিজেদেরকে কখনোই সংখ্যালঘু ভাববেন না। রাষ্ট্র আমার আপনার আমাদের সবার। আমরা প্রত্যেকে, প্রত্যেক নাগরিক, সকলে ‘আমরা বাংলাদেশী’।

বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীকে বৌদ্ধ পূর্ণিমার শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা জানি পৃথিবীতে অনেকগুলো ধর্ম আছে। প্রতি ধর্মেরই অসংখ্য অনুসারী রয়েছেন। প্রতিটি ধর্মই মানুষকে কল্যাণের দিকে আহ্বান করে। প্রতিটি ধর্মেরই কিছু বিধিবদ্ধ নিয়মনীতি রয়েছে। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মগুরু মহামতি গৌতম বুদ্ধ তার অনুসারীদের জন্য পঞ্চশীল নীতি দিয়েছিলেন। এই পঞ্চশীল নীতি হলো প্রাণী হত্যা না করা, চুরি, ব্যাভিচার, মিথ্যা এবং মাদক থেকে বিরত থাকা। প্রেম, অহিংস এবং সর্বজীবে দয়াও বৌদ্ধ ধর্মের শিা। যেই কয়টি জিনিস এখানে অনুসরণের কথা বলা হয়েছে এই নির্দেশনা প্রতিটি মানুষের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। আমার মনে হয়, রাষ্ট্রীয় বিধিবিধানের পাশাপাশি প্রতিটি নাগরিক যে যার ধর্মীয় নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করলে আমরা সবাই মিলে একটি মানবিক রাষ্ট্র এবং সমাজ নির্মাণ করতে পারব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী প্রতি মানুষের জন্যই একটি নিরাপদ বাংলাদেশ বিনির্মাণের আকাক্সক্ষা নিয়েই মুক্তিযোদ্ধারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন করেছিলেন। মুসলমান-হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান সবাই মিলে লাখো প্রাণের বিনিময়ে এই দেশটা আমরা স্বাধীন করেছিলাম। মুক্তিযুদ্ধের সময় কে কোন ধর্মের অনুসারী, কে বিশ্বাসী কিংবা অবিশ্বাসী এটি কারো জিজ্ঞাসা ছিল না। তাই এই স্বাধীন বাংলাদেশ আপনার আমার, আমাদের সবার।

বৌদ্ধ পূর্ণিমার এই বিশেষ দিনটি ‘বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য হয়ে উঠুক আনন্দময় ও তাৎপর্যপূর্ণ’ এই কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ, ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান, প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, প্রধানমন্ত্রী হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও নৃগোষ্ঠীবিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, পার্বত্য বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচি প্রু জেরী, পার্বত্য অঞ্চলের বিএনপির মনোনীত সংরতি নারী আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মাধবী মারমা, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া উপস্থিত ছিলেন।