ডাকসু নেতাদের ওপর হামলাকারীদের গ্রেফতার করতে হবে : নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর শাহবাগ থানার ভেতরে ছাত্রদলের হামলায় আহত ডাকসু নেতাদের শারীরিক খোঁজ-খবর নিতে গতকাল শুক্রবার হাসপাতালে ছুটে যান জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো: নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি।
গতকাল বিকেলে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা: মোহাম্মদ মোর্তজা মেডিক্যাল সেন্টারে যান এবং আহত ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ, সমাজসেবা সম্পাদক এ বি জোবায়ের, মাস্টারদা সূর্য সেন হল সংসদের সদস্য মো: সাইয়েদুজ্জামান নূর আলভী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানজিমুল ইসলামের শারীরিক খোঁজ-খবর নেন এবং দ্রুত সুস্থতা কামনা করে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে দোয়া করেন।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন- জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ দেলাওয়ার হোসেন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ কামাল হোসেন এমপি, মহানগরীর শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে আবার একই স্থানে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
বিক্ষোভ মিছিলে তিন শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘ডাকসুতে হামলা কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘শিক্ষা-সন্ত্রাস একসাথে চলে না’ এবং ‘হামলাকারীদের বিচার চাই’সহ বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান দেন।
সমাবেশে রাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, ‘ডাকসু প্রতিনিধিদের ওপর এই হামলা শুধু ব্যক্তিকেন্দ্রিক নয়, এটি মুক্তচিন্তা ও ছাত্র রাজনীতির ওপর আঘাত। ছাত্রদল এখন শুধু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নয়, বরং সাধারণ শিক্ষার্থী, দোকানদার ও সাংবাদিকদের ওপরও চড়াও হচ্ছে। রাজশাহীতে মাত্র ৫০ টাকার জন্য দোকানদারের ওপর হামলা এবং নিরস্ত্র শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাত প্রমাণ করে তারা দেশে নতুন করে ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চায়।’ তিনি অবিলম্বে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।
রাকসুর সহ-সাধারণ সম্পাদক (এএসজিএস) সালমান সাব্বির বলেন, ‘নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপর এই নৃশংস হামলা কোনোভাবেই মেনে নেয়া হবে না। সুপরিকল্পিতভাবে ঢাবিতে যে অস্থিতিশীলতা তৈরি করা হয়েছে, তার সুবিচার নিশ্চিত করতে হবে। হামলাকারীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য ফাহিম রেজা বলেন, ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন হওয়ায় ছাত্রদল এখন বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ‘পায়ে পাড়া দিয়ে’ ঝগড়া করছে। চট্টগ্রাম থেকে ঈশ্বরদী- সর্বত্র তারা রামদা নিয়ে তাণ্ডব চালাচ্ছে। তারা ‘রামদা লীগের’ পথ অনুসরণ করে এখন ‘রামদা দলে’ পরিণত হয়েছে। তিনি দেশের বর্তমান জ্বালানি সঙ্কট, লোডশেডিং ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির সমালোচনা করে বলেন, সরকারের অদূরদর্শিতার মাশুল সাধারণ মানুষ ও কৃষকদের দিতে হচ্ছে।
বিক্ষোভ মিছিলে রাকসু ও বিভিন্ন হল সংসদের নেতারাসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা হুঁশিয়ারি দেন যে, ছাত্রদলের এই ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ বন্ধ না হলে সারা দেশের ছাত্রসমাজ ঐক্যবদ্ধ হয়ে কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।