সৌদি রাজপরিবারের কোম্পানি থেকে কেনা হচ্ছে সোয়া লাখ টন তেল

Printed Edition

সৈয়দ সামসুজ্জামান নীপু

দেশের জ্বালানি তেলের চাহিদা মেটাতে জরুরি ভিত্তিতে সৌদি রাজপরিবারের মালিকানাধীন একটি কোম্পানি থেকে এক লাখ ২৫ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেল আমদানি করছে সরকার। এর মধ্যে এক লাখ মেট্রিক টন ডিজেল এবং ২৫ হাজার মেট্রিক টন গ্যাসোলিন রয়েছে। দুবাইভিত্তিক রাজকীয় কোম্পানি ‘পেট্রোগ্যাস ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশন’ এই তেল সরবরাহ করবে। সরাসরি ক্রয়পদ্ধতি বা বিনা টেন্ডারে এই পরিমাণ তেল আমদানি করতে ব্যয় হবে দুই হাজার ৪৬ কোটি ৭২ লাখ টাকা।

সরকারি ছুটি থাকায় সরকারি ক্রয় কমিটির জরুরি জুম সভায় গতকাল মঙ্গলবার রাতে এ জ্বালানি তেল ক্রয়ের অনুমোদন দেয়া হয় বলে জানা গেছে। অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট এক সূত্র জানায়। বৈঠকে তেল কেনার একটি অ্যাজেন্ডাই ছিল বলে জানা যায়। এর আগে একই প্রক্রিয়ায় দুই কার্গো এলএনজি আমদানির অনুমোদন দেয়া হয়।

জ্বালানি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে উদ্ভূত অস্থিতিশীল ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশে জরুরি জ্বালানি চাহিদা পূরণের জন্য দুবাইভিত্তিক সৌদি রাজপরিবারের মালিকানাধীন পেট্রোগ্যাস ইন্টারন্যাশনাল করপ-এর কাছ থেকে আন্তর্জাতিক সরাসরি ক্রয়পদ্ধতির মাধ্যমে এক লাখ মেট্রিক টন ডিজেল এবং ২৫ হাজার মেট্রিক টন গ্যাসোলিন ক্রয়ের অনুমোদন চাওয়া হয় ক্রয় কমিটির কাছে।

জানা গেছে, সরকারের পক্ষে বিপিসি বিভিন্ন গ্রেডের পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করে থাকে। পাশাপাশি জি-টু-জি চুক্তির আওতায় সৌদি আরামকো, সৌদি থেকে অ্যারাবিয়ান লাইট ক্রুড (এএলসি) আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি (এডিএনওসি), ইউএই থেকে মারবান ক্রুড অয়েল আমদানি করে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডে (ইআরএল) প্রক্রিয়াকরণ করা হয়। দেশে জ্বালানি তেলের চাহিদার বেশির ভাগ আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়ে থাকে।

জ্বালানি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি তেল পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। এ প্রেক্ষিতে বিপিসির অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি কার্যক্রম বিঘিœত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানিতে বিলম্ব হলে পরিকল্পনা অনুযায়ী পরিশোধিত জ্বালানি তেল উৎপাদন ও সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না এবং ওই ঘাটতি পূরণের জন্য অতিরিক্ত পরিমাণ পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির প্রয়োজন হবে।

উল্লেখ্য, গত ৯ মার্চ তারিখে সারা দেশে ডিজেলের প্রারম্ভিক মজুদ ছিল এক লাখ ৫৮ হাজার ৯২১ টন যা দ্বারা ১৩ দিনের চাহিদা পূরণ সম্ভব। এ পরিস্থিতিতে পরিশোধিত জ্বালানি তেলের আমদানি লাইন আপ অক্ষুণœ রাখার লক্ষ্যে জরুরি ভিত্তিতে জ্বালানি তেল আমদানি করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।

সূত্র জানায়, বর্তমানে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রিতভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা আরো সঙ্কটাপন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইতোমধ্যে পরিশোধিত জ্বালানি তেল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো মার্চ ও এপ্রিল মাসের পার্সেলগুলো সরবরাহে প্রাথমিকভাবে সম্মত হলেও বাস্তবে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারছে না।

জানা গেছে, ২০২৬ সালের মার্চ মাসে ১৭টি এলসি খোলা হয়। অদ্যাবধি চারটি পার্সেলের মাধ্যমে দেশে তেল সরবরাহ করা হয়েছে। ছয়টি পার্সেল অপেক্ষমাণ আছে বলে জানা যায়। অবশিষ্ট সাতটি পার্সেল এই বিষয়ে কোনো নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি। অপরদিকে, এপ্রিল মাসের জন্য ১৫টি এলসি খোলা হয়। প্রাথমিকভাবে ১৩টি পার্সেল সরবরাহে সম্মত হলেও তার মধ্যে মাত্র তিনটি পার্সেল সরবরাহের নিশ্চয়তা পাওয়া গেছে।

এ পরিস্থিতিতে, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিদ্যমান চুক্তির বাইরেও জরুরি ভিত্তিতে অতিরিক্ত জ্বালানি তেল আমদানির প্রয়োজন মর্মে প্রতীয়মান হয় বলে জ্বালানি মন্ত্রণালয় মতপ্রকাশ করেছে। এবং সে অনুযায়ী অতিরিক্ত জ্বালানি তেল আমদানির জন্য বিভিন্ন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করা হয়।

এ ধারাবাহিকতায় গত ৬ মার্চ তারিখে পেট্রোগ্যাস ইন্টারন্যাশনাল করপ এর সাথে যোগাযোগ হয়। এটি সৌদি রাজপরিবারের দুবাইয়ে অবস্থিত একটি স্বনামধন্য জ্বালানি তেল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি জিসিসি এবং ইউরোপে জ্বালানি তেল সরবরাহ করে আসছে ।