হাদির হত্যাকারীদের বিচারসহ বিভিন্ন দাবি

৩ জানুয়ারি ঢাকায় মহাসমাবেশ করবে জামায়াত

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই বিপ্লবের অন্যতম নায়ক শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় আনা ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবিতে মহাসমাবেশের ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। আগামী ৩ জানুয়ারি শনিবার দুপুর ১২টায় ঢাকা শহরের মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে কর্মসূচি শুরু হবে। কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সাম্প্রতিক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সমাবেশে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করবেন। তৃণমূল পর্যায়ে প্রস্তুতিও ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে।

জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী প্রচার সম্পাদক আবদুস সাত্তার সুমন নয়া দিগন্তকে জানান, গত ২২ ডিসেম্বর মহাসমাবেশের অনুমতির জন্য ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। আজ আবার কেন্দ্রীয় নেতারা ওই কার্যালয়ে যাবেন সর্বশেষ পরিস্থিতি জানতে। তিনি জানান, মহাসমাবেশে সারা দেশ থেকে নেতাকর্মীরা অংশ নেবেন। এ জন্য প্রস্তুতি চলছে।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার প্রয়োজন। পাশাপাশি দেশব্যাপী ছড়িয়ে থাকা সব অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং সন্ত্রাসীদের আটক করা অত্যাবশ্যক। তিনি বলেন, এ দাবিগুলো পূরণ না হলে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না।

আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মা’ছুম জানান, দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তাই জনগণের স্বার্থে এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে তারা এ মহাসমাবেশ করছেন।

দুর্নীতি ও সন্ত্রাসমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে জামায়াতের : জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, আমাদের ভিশন এবং মিশন সামনে রেখে যে কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে, তার মূল উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশকে এমন একটি রাষ্ট্রে পরিণত করা যেখানে দুর্নীতি চিরবিদায়, সন্ত্রাস বিদায় এবং আইনশৃঙ্খলা নতুনভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

গতকাল ‘স্টার নির্বাচনী সংলাপ : আপনার দল, ভোটারের প্রশ্ন’ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, মায়ের কোলে যেমন শিশু নিরাপদ থাকে, বাংলাদেশের নাগরিকরাও যেন আগামী প্রজন্মের জন্য নিরাপদ পরিবেশে বাঁচতে পারে। আমাদের লক্ষ্য হলো নৈতিক মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করে শিক্ষাকে কার্যকর করা, যাতে শিক্ষার্থীরা তাদের কর্মজীবনে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে।

শিক্ষাব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করার পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় আমাদের শিক্ষার মান প্রয়োজন অনুযায়ী উন্নত করতে হবে। শিক্ষার বাজেট বর্তমানে জিডিপির ১.৬৯ শতাংশ, যা পর্যায়ক্রমে ৬ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। কারিগরি শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে এবং আন্তর্জাতিক ভাষা ও ইংরেজি শিক্ষার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হবে। শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ এবং গবেষণার সুযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে তারা দেশের বাইরে জ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে অবদান রাখতে পারবে। তিনি আরো বলেন, দেশের মেধা পাচার রোধ করতে হলে গবেষণার সুযোগ বৃদ্ধি করতে হবে। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও শিক্ষার দুরবস্থা এবং অর্থনীতির পেছানো অবস্থাকে ঠিক করার জন্য শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন অপরিহার্য। অর্থনীতি ও বাণিজ্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সম্পদ সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও তা কার্যকরভাবে কাজে লাগানো যায়নি। এ জন্য প্রান্তিক অর্থনীতি, ট্যাক্স নীতি ও বৈচিত্র্যময় বাণিজ্য বাড়ানোর পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। প্রতি তিন বছর অন্তর করদাতাদের জন্য ইনসেন্টিভ ব্যবস্থা চালু করা হবে। এ ছাড়াও নারী শিক্ষা, নারী অধিকার এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি জানান, কৃষকদের জন্য নতুন কার্ড-ভিত্তিক রেশন-ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পরা নেয়া হয়েছে। মৎস্যজীবীদের জন্যও সরকারি সহায়তা বাড়ানোর পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং তরুণদেরকে বেকার না রেখে দেশের অর্থনীতিতে কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হবে।