শেবাচিমে নার্সদের ভুলে ২ রোগীর মৃত্যু, তদন্তে কমিটি

Printed Edition

বরিশাল ব্যুরো

বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের আগে ভুল ইনজেকশন পুশ করায় দুই নারী রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। গত রোববার সকালে হাসপাতালের নাক-কান-গলা বিভাগের মহিলা ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে ‘চিকিৎসায় অবহেলা’ হিসেবে স্বীকার করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

মৃত ব্যক্তিরা হলেন, বরিশাল নগরীর সারসী গ্রামের হেলেনা বেগম (৪৫) এবং পটুয়াখালীর কলাপাড়ার শেফালি বেগম (৬০)। হেলেনা থাইরয়েড এবং শেফালি মুখের টিউমার নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।

স্বজনদের অভিযোগ, গতকাল সকালে অস্ত্রোপচারের আগে সেবিকারা রোগীদের শরীরে ‘নরকিউ’ নামক একটি ইনজেকশন পুশ করেন। এটি মূলত অস্ত্রোপচারের সময় রোগীকে অজ্ঞান করার কাজে ব্যবহৃত হয়। ইনজেকশন দেয়ার পরপরই দুই রোগী ছটফট করতে করতে মারা যান। মৃত হেলেনার স্বজন মনির বলেন, অজ্ঞান করার ওষুধ ওডেই দিয়ে দিলো! রোগী লাফ দিয়ে পড়ে মারা গেল। আমরা এর বিচার চাই।

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মশিউল মুনীর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘কিছু ওষুধ অপারেশন থিয়েটারে দেয়ার নিয়ম, যা সেবিকারা ওয়ার্ডেই দিয়ে দিয়েছেন। অ্যানেসথেটিক ড্রাগ দেয়ার পর ফুসফুস কাজ করা বন্ধ করে দেয়, যা মেশিনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। ওয়ার্ডে সেই সুবিধা না থাকায় রোগীরা মারা গেছেন। এটি স্পষ্টত চিকিৎসায় অবহেলা এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

অভিযুক্ত সেবিকা হেলেন অধিকারী ও মলিনা হালদার দায় এড়ানোর চেষ্টা করলেও নার্সিং তত্ত্বাবধায়ক খাদিজা বেগম একে দায়িত্বহীনতা হিসেবে অভিহিত করেছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, সহকারী অধ্যাপক ডা: আমিনুল হককে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি আইনি প্রক্রিয়ায় স্বজনদের সহযোগিতা করা হবে।