যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনায় বসতে বাধ্য হলো কিউবা
ট্রাম্পের আরোপিত তেল অবরোধে চরম অর্থনৈতিক সঙ্কটে পড়েছে দেশটি
Printed Edition
রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত তেল অবরোধে চরম অর্থনৈতিক সঙ্কটে পড়ে ওয়াশিংটনের সাথে আলোচনায় বসতে বাধ্য হয়েছে কিউবা। শুক্রবার কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ ক্যানেল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভিডিও বার্তায় দিয়াজ ক্যানেল বলেন, উভয় দেশের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় মতপার্থক্য সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের লক্ষ্যেই এ আলোচনা শুরু হয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ আলোচনা দীর্ঘদিনের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দেশকে সঙ্ঘাতের পথ থেকে দূরে সরিয়ে আনবে। কিউবা বর্তমানে চরম বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বছরের পর বছর ধরে চলা অর্থনৈতিক সঙ্কট ও পণ্যের অভাবে ক্লান্ত নাগরিকদের এখন দিনের বেশির ভাগ সময় বিদ্যুৎহীন অবস্থায় কাটাতে হচ্ছে। ক্রমবর্ধমান দাম, জ্বালানির কঠোর রেশনিং এবং ওষুধের সঙ্কট সাধারণ মানুষকে খাদের কিনারে ঠেলে দিয়েছে।
গত জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে আটক করার পর কিউবার সবচেয়ে বড় বিদেশী পৃষ্ঠপোষক দেশটি ক্ষমতা হারায়। এর পর থেকেই ট্রাম্প কিউবায় ভেনেজুয়েলার তেল সরবরাহ বন্ধ করে দেন এবং কিউবার কাছে তেল বিক্রি করা যেকোনো দেশের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দেন। ট্রাম্প বলে আসছেন যে, কিউবা পতনের দ্বারপ্রান্তে অথবা যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চুক্তি করতে মরিয়া। গত সোমবার তিনি মন্তব্য করেন, কিউবা হয়তো একটি ‘বন্ধুত্বপূর্ণ দখলের’ শিকার হতে পারে। পরে তিনি যোগ করেন, এটি বন্ধুত্বপূর্ণ না-ও হতে পারে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা ইমেইল বার্তায় বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট যেমনটা বলেছেন, আমরা কিউবার সাথে কথা বলছি। তাদের নেতাদের উচিত একটি চুক্তিতে আসা, যা তিনি (ট্রাম্প) মনে করেন যে ‘খুব সহজেই করা সম্ভব’। তিনি আরো বলেন, ভেনেজুয়েলার সমর্থন হারানো এবং মেক্সিকো তেল পাঠানো বন্ধ করে দেয়ায় কিউবা এখন একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে।
হাভানার রাস্তায় সাধারণ মানুষ এ আলোচনার খবরকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা একে বিদ্যুৎ-বিভ্রাট থেকে মুক্তির উপায় হিসেবে দেখছেন। এ সপ্তাহে অন্ধকারে হাঁড়ি-পাতিল বাজিয়ে লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদ করতে দেখা গেছে স্থানীয় লোকজনকে। ৪৪ বছর বয়সী গৃহিণী ইয়াইমি গনজালেস বলেন, ‘আমরা দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার মতো অবস্থায় আছি। এ পরিস্থিতি আর সহ্য করা যাচ্ছে না। আমি মনে করি কিউবা ও যুক্তরাষ্ট্রের এ আলোচনা ভালো কিছুর দিকে নিয়ে যাবে।’