প্রধান শিক্ষক নিয়োগে ১৮ বছরের অভিজ্ঞতা শর্ত নিয়ে বিতর্ক
Printed Edition
শাহেদ মতিউর রহমান
প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগে অভিজ্ঞতার বয়সসীমা বাড়ানোর প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে শিক্ষাঙ্গনে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষক নেতাদের অভিযোগ, অভিজ্ঞতার শর্ত বাড়ানোর আড়ালে বয়সে তরুণ ও আইসিটি দক্ষ শিক্ষকদের পদোন্নতির পথ কার্যত বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, নতুন এই শর্ত আরোপের পেছনে ভিন্ন উদ্দেশ্যও থাকতে পারে। তাদের মতে, অতীতে বিভিন্ন অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া কয়েক হাজার শিক্ষকের পদোন্নতির পথ রুদ্ধ করতেই অভিজ্ঞতার শর্ত বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
বর্তমানে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান পদে ১২ থেকে ১৫ বছরের অভিজ্ঞতার শর্ত রয়েছে। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্প্রতি সংশোধিত এমপিও নীতিমালায় প্রধান শিক্ষক বা অধ্যক্ষ পদে ১৮ বছরের অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানা গেছে।
শিক্ষকদের মতে, এ ধরনের শর্ত আরোপ করা হলে অনেক যোগ্য ও মেধাবী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন। কারণ চলমান নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে যারা ১৮ বছরের কম অভিজ্ঞতা নিয়ে আবেদন করেছেন, তারা নতুন নিয়ম কার্যকর হলে আর পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন না।
শিক্ষক নেতারা জানান, অতীতে প্রধান ও সহকারী প্রধান পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে কখনোই উভয় পদের জন্য সমানভাবে ১৮ বছরের অভিজ্ঞতা নির্ধারণ করা হয়নি। বরং দুই পদের মধ্যে কয়েক বছরের অভিজ্ঞতার পার্থক্য থাকত। নতুন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে অনেক তরুণ ও দক্ষ শিক্ষক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দেয়ার সুযোগ হারাবেন।
এ অবস্থায় বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন অভিজ্ঞতার শর্ত কমানোর দাবি জানিয়েছে। তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষক বা অধ্যক্ষ পদের জন্য ১৫ বছর এবং সহকারী প্রধান বা উপাধ্যক্ষ পদের জন্য ১২ বছরের অভিজ্ঞতা নির্ধারণ করা উচিত। শিক্ষক সংগঠনগুলোর নেতারা এ দাবিতে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের কাছে লিখিত বক্তব্য ও ব্যাখ্যা জমা দিয়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার শিক্ষকদের পক্ষে আবু নাছের সুমন, তোফায়েল আহমেদ, আসিফ আলী ও নজরুল ইসলাম মৃধা শিক্ষামন্ত্রীর কাছে একটি স্মারকলিপি দেন। স্মারকলিপিতে বলা হয়, বর্তমানে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতায় প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর। সে হিসাবে ১৮ বছরের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে একজন শিক্ষকের বয়স প্রায় ৫৩ বছরে পৌঁছে যায়, যা অবসরের সময়ের কাছাকাছি। ফলে তরুণ নেতৃত্বের সুযোগ কমে যাবে এবং আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়নও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
শিক্ষক নেতাদের মতে, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য তুলনামূলক কম অভিজ্ঞ হলেও উদ্যমী ও প্রযুক্তিতে দক্ষ তরুণ শিক্ষকদের নেতৃত্বে আনা প্রয়োজন। তাই প্রধান ও সহকারী প্রধান পদে অন্তত ১০ থেকে ১২ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন শিক্ষকদেরও নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্যসচিব অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজী নয়া দিগন্তকে বলেন, নির্দিষ্ট একটি সময়ে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের পদোন্নতির পথ বন্ধ করতেই নতুন শর্ত আরোপের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে তাদের কাছে তথ্য রয়েছে। অভিজ্ঞতার বয়সসীমা বাড়ানো হলে বয়সে তরুণ এবং আইসিটি দক্ষ শিক্ষকদের পদোন্নতির পথ রুদ্ধ হবে। এতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমও ধীর হয়ে পড়তে পারে। তাই এনটিআরসিএ ঘোষিত শর্ত অনুযায়ীই নিয়োগ পরীক্ষা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।