নিয়মরক্ষার ম্যাচে প্রতিশোধ মিশন

সিঙ্গাপুর-বাংলাদেশ ম্যাচ আজ

Printed Edition
khela-2
সিঙ্গাপুরে অনুশীলনের সময় হামজা চৌধুরীসহ বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়রা : বাফুফে

ক্রীড়া প্রতিবেদক

নিজেদের সুযোগ নিজেরাই নষ্ট করেছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। গত বছর শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচটি যেভাবে ভারতের বিপক্ষে জয়ে শেষ করেছিল জামাল ভূঁইয়া- হামজা চৌধুরীরা তা যদি শুরু থেকেই হতো তাহলে হতো আরেক ইতিহাস। দ্বিতীয়বারের মতো এশিয়ান কাপের ফাইনাল রাউন্ডে খেলা হতো লাল-সবুজদের। কিন্তু যে হোম ম্যাচ সব দলের জয়ের বড় শক্তি বাংলাদেশ সেই হোমেই জিততে পারেনি হংকং এবং সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে। ঢাকার মাঠে ১০ জুন সিঙ্গাপুর এবং ৯ অক্টোবর হংকংয়ের কাছে হারের ফলেই হাভিয়ার কাবরেরা বাহিনীর ছিটকে পড়া। সিঙ্গাপুরের কাছে ১-২ এবং হংকংয়ের কাছে চরম নাটকীয়তার পর ৩-৪ গোলে হারেই সব শেষ। ফলে আজ সিঙ্গাপুরের মাঠে তাদের বিপক্ষে বাংলাদেশের ম্যাচটি নিয়মরক্ষার। জিতলে র‌্যাংকিং বাড়বে। সান্ত¡না খুঁজে পাওয়া যাবে জয়ে এশিয়ান কাপ বাছাই পর্ব শেষ করার। সে সাথে প্রথম পর্বে তাদের কাছে হারের বদলাও নেয়া যাবে। এখন সোহেল রানা, ফাহামিদুল, শমিত শোমরা কি পারবেন সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে বাংলাদেশকে প্রথম জয়ের সন্ধান দিতে। এর উত্তরের জন্য আজ সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হওয়া ম্যাচের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। খেলা দেখাবে টি স্পোর্টস।

এই ম্যাচ কোচ হাভিয়ার কাবরেরার শেষ ম্যাচও। যদি বাফুফে তার সাথে নতুন করে চুক্তি করে তাহলে ভিন্ন কথা। এই স্প্যানিশ কোচ চান বর্তমান দায়িত্বেই থাকতে। আজ বাংলাদেশ যদি জিততে পারে তাহলে তার দাবিটা পোক্ত হবে। যদিও তাকে ব্যর্থ হিসেবেই অভিহিত করছেন বাফুফের কর্মকর্তারা।

ফিফা র‌্যাংকিংয়ে সিঙ্গাপুর আছে ১৪৮ এ। আর বাংলাদেশের অবস্থান ১৮১। আসিয়ান অঞ্চলের দেশটি সাফ অঞ্চলের দেশটির চেয়ে ৫৩ ধাপ এগিয়ে থাকলেও তারা কিন্তু ধরা ছোঁয়ার বাইরে নয়। ঢাকার মাঠে যদি গোলরক্ষক মিতুল মারমাসহ অন্যরা ভুল না করতেন তাহলে সেই ম্যাচের চিত্র ভিন্ন হতো। দুই গোলে পিছিয়ে পড়া বাংলাদেশ দল রাকিব হোসেনের গোলে ব্যবধান কমালেও শেষ রক্ষা হয়নি। থাই রেফারি পেনাল্টি না দেয়ায়, হামজা চৌধুরী গোলের সুযোগ মিস করায় এবং একেবারেই শেষ মিনিটে তারিক কাজীর হেড ক্রসবারে লাগায় স্বাগতিকদের হারতে হয়।

আজ বাংলাদেশের প্রতিশোধ নেয়ার মিশন। অন্য দিকে সিঙ্গাপুরের জন্যও এই ম্যাচ নিয়মরক্ষার। তারা পাঁচ খেলায় ১১ পয়েন্ট নিয়ে ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষে। আজ গ্রুপের অন্য ম্যাচে ভারতের প্রতিপক্ষ হংকং। হংকংয়ের পয়েন্ট ৮। বাংলাদেশের ৫ এবং ভারতের ২। তবে আজ হংকং জিতলেও তারা এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে যেতে পারবে না। কারন তখন দুই দলের পয়েন্ট সমান ১১ হলেও হেড টু হেডে সিঙ্গাপুর এগিয়ে। আবার আজ যদি হংকংয়ের বিপক্ষে ভারত জয়ী হয় তাহলে তারাও বাংলাদেশকে টপকাতে পারবে না। কারন বাংলাদেশ আগের ম্যাচেই ভারতকে হারিয়েছে।

তবে হাভিয়ার কাবরেরা পূর্ণ শক্তি নিয়ে আজ নামতে পারছেন না সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে। কার্ড সমস্যায় এই ম্যাচে খেলা হচ্ছে না ফরোয়ার্ড লাইনের অন্যতম ভরসা রাকিব হোসেনের। ঢাকায় বাংলাদেশ দল তার গোলেই সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ব্যবধান কমিয়েছিল। আবার হংকংয়ের বিপক্ষে শেষ অ্যাওয়ে ম্যাচে বাংলাদেশের ড্র করাটাও তার গোলে। অন্য দিকে ডিফেন্সে অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে খেলা তপু বর্মণও নেই আজ। তিনিও কার্ড সমস্যায় মাঠের বাইরে। বিপক্ষ আক্রমণ সামলাতে তিনি যেমন দক্ষ তেমনি সেট পিচে গোলও আছে তার। জাতীয় দলের জার্সিতে তার করা গোলের সংখ্যা ছয়টি। যার অর্থ রাকির এবং তপুর অভাবটা প্রকটভাবেই অনুভূত হবে।

তপু ও রাকিবের এই অভাবটা ২৬ মার্চ ভিয়েতনামের বিপক্ষে ম্যাচেই প্রমাণিত হয়েছে। সেই ম্যাচে ১০৩ এ থাকা ভিয়েতনাম ৩-০তে উড়িয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশকে। যদিও বিরতির পর আর গোলের দেখা পায়নি ভিয়েতনাম। সেটাকেই ইতিবাচক বলেছিলেন কোচ কাবরেরা।

সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে এই ম্যাচটিই চলতি বছর বাংলাদেশের প্রথম টুর্নামেন্ট-ভিত্তিক ম্যাচ। সে সাথে এশিয়ান কাপ বাছাই পর্বেরও শেষ ম্যাচ। তাই এ ম্যাচে জয়টা বাংলাদেশ দলের জন্য জরুরি। তবে আগের ম্যাচে বাংলাদেশ যেভাবে সেট পিচে দুই গোল হজম করেছিল ভিয়েতনামের কাছে সে বিষয়ে সর্তকই থাকতে হবে। জানান কোচ কাবরেরা।

বাংলাদেশ দল এ পর্যন্ত তিনবার মুখোখি হয়েছিল মালয়েশিয়ার পাশের এই দেশের। তবে কোনো জয় নেই। ১৯৭৩ সালে মারদেকা কাপে ১-১ গোলে ড্র করার পর ২০১৫ সালে ফিফা প্রীতিম্যাচে ঢাকায় তাদের কাছে ১-২ গোলে হার। আর গত বছর ফের একই স্কোর লাইনে হারের পুনরাবৃত্তি। ২০০৭ সালে মারদেকা কাপে সিঙ্গাপুর অনূর্ধ্ব-২৩ দলের কাছে ১-২ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ দল। তবে সেটি ছিল দ্বিতীয় জাতীয় দল। প্রথম জাতীয় দল একই সময়ে ভারতের নেহরু কাপে খেলতে গিয়েছিল।