সব কর্মীকে দুই সপ্তাহের ছুটি
Printed Edition
নয়া দিগন্ত ডেস্ক
ভাষা শেখানোর অ্যাপ ডুওলিঙ্গো সব কর্মীকে দুই সপ্তাহের জন্য ছুটি দিয়েছে। এটি অনেক করপোরেট প্রতিষ্ঠানের কাছে অপ্রচলিত বা ‘অচিন্ত্যনীয়’ ব্যাপারে বলেই মনে হতে পারে। তবে ডুওলিঙ্গোর সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) লুইস ভন আহনের মতে, এই ছুটির নীতিই কোম্পানির দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি।
প্রায় এক হাজার কর্মীর কোম্পানি হওয়া সত্ত্বেও, ডুওলিঙ্গো প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই এই দুই সপ্তাহের শীতকালীন ছুটির নীতি অনুসরণ করে আসছে। চলতি বছর কর্মি সংখ্যা ১৪ শতাংশ বেড়ে ৯৫০ জনের বেশিতে পৌঁছালেও, প্রতিষ্ঠানটি এই ঐতিহ্য থেকে সরে আসেনি।
ভন আহনের মতে, সাধারণত ব্যক্তিগত ছুটি কর্মীদের প্রকৃত বিশ্রাম নিশ্চিত করতে পারে না। কারণ, ছুটিতে গেলেও কাজ থেমে থাকে না-ইমেইল জমে, স্ল্যাক বার্তা বাড়ে, ফিরে এসে আবার সব সামলাতে হয়। ফলে মানসিকভাবে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হওয়া সম্ভব হয় না।
ডুওলিঙ্গো এই সমস্যা এড়াতে সব কর্মীকে একই সময়ে ছুটিতে পাঠায়। শুধু অ্যাপ চালু রাখার জন্য একটি ছোট দল কাজ করে, বাকি সব কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত থাকে। ফলে ছুটি শেষে কাজে ফিরে কোনো চাপ বা জমে থাকা কাজের বোঝা থাকে না কর্মীদের।
ডুওলিঙ্গোর কর্মীরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করেন। কেউ সহজেই পরিবারে যেতে পারলেও, অনেক কর্মীর জন্য পরিবারে যেতে হলে ১০ ঘণ্টারও বেশি সময়ের ফ্লাইট নিতে হয়। তাঁদের জন্য এক-দুই দিনের ছুটি যথেষ্ট নয়। দুই সপ্তাহের টানা ছুটি কর্মীদের দূরদেশে ভ্রমণ ও পরিবারের সাথে মানসম্মত সময় কাটানোর সুযোগ দেয় বলে জানান ভন আহন। তার মতে, দীর্ঘ ছুটি শুধু বিশ্রামের জন্য নয়, আত্মবিশ্লেষণেরও সুযোগ তৈরি করে। এতে কর্মীরা নিজেদের ব্যক্তিগত লক্ষ্য, কাজ এবং জীবনের ভারসাম্য নিয়ে ভাবার সময় পান। ইন্টারনেট।