কঙ্গোতে খনি ধসে প্রাণহানি ২ শতাধিক
Printed Edition
আলজাজিরা
কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলে রুবায়া কোলটান খনি ধসে ২০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। প্রদেশটির বিদ্রোহী নিয়োজিত গভর্নরের মুখপাত্র লুমুম্বা কাম্বেরে মুইসা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন। গোমা শহরের উত্তর-পশ্চিমে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এ খনি বুধবার ধসে পড়ে। শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সঠিক হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মুইসা বলেন, মৃতদের মধ্যে খনি শ্রমিক, শিশু ও বাজারের নারীও রয়েছে। কিছু মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও তারা গুরুতর আহত। প্রায় ২০ জনকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, বর্তমানে বর্ষাকাল চলছে। মাটি ভঙ্গুর হয়ে পড়েছিল। ভুক্তভোগীরা খনির ভেতরে থাকাকালীন মাটি ধসে পড়ে। এম২৩ বিদ্রোহী নিয়োজিত উত্তর কিভু প্রদেশের গভর্নর এরাস্টন বাঁহাতি মুসাঙ্গা জানান, কিছু লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে সঠিক সংখ্যা জানাননি। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, মৃতের সংখ্যা অনেক বেশি হতে পারে। গভর্নরের এক উপদেষ্টা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, নিহতের সংখ্যা দুই শতাধিক। তবে তিনি গণমাধ্যমে কথা বলার অনুমতি না থাকায় নাম প্রকাশ করেননি।
শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত স্বাধীনভাবে মৃতের সংখ্যা নিশ্চিত করা যায়নি। রুবায়ার এক খনি শ্রমিক ফ্রাঙ্ক বোলিঙ্গো বলেন, এখনো অনেক মানুষ খনির ভেতরে আটকে আছে। তিনি জানান, বৃষ্টির পর ভূমিধস হয় এবং মানুষকে ভেসে নিয়ে যায়। কেউ জীবিত কবর দেয়া হয়েছে, আবার কেউ খনির ভেতরে আটকে আছে। রুবায়া বিশ্বের প্রায় ১৫ শতাংশ কোলটান উৎপাদন করে। কোলটান থেকে তৈরি ট্যান্টালাম ধাতু মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, মহাকাশযান ও গ্যাস টারবাইন তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। স্থানীয়রা প্রতিদিন কয়েক ডলার আয় করতে হাতে খনন করে এ খনিতে কাজ করে। ২০২৪ সাল থেকে রুয়ান্ডা-সমর্থিত এম২৩ বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এ খনি। এর আগে এটি সরকার ও বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠীর হাতে পাল্টাপাল্টি নিয়ন্ত্রণে ছিল।
ভারী অস্ত্রধারী এম২৩ বিদ্রোহীরা গত বছর দ্রুত অগ্রযাত্রায় আরো খনিজসমৃদ্ধ এলাকা দখল করে। তাদের লক্ষ্য কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসায় সরকার উৎখাত করা। জাতিসঙ্ঘ অভিযোগ করেছে, এম২৩ বিদ্রোহীরা রুবায়ার সম্পদ লুট করে বিদ্রোহের অর্থ জোগাচ্ছে। রুয়ান্ডার সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কঙ্গোতে বিপুল খনিজসম্পদ থাকা সত্ত্বেও দেশটির ৭০ শতাংশ মানুষ প্রতিদিন ২.১৫ ডলারের কম আয়ে জীবনযাপন করে।