বোদোর রূপকথা থামিয়ে কোয়ার্টারে স্পোর্টিংষ ক্রীড়া ডেস্ক

Printed Edition
khela-4
স্পোর্টিংয়ের গোলের পর হতাশ বোদোর খেলোয়াড়রা (হলুদ জার্সি) : ইন্টারনেট

৪২ হাজার জনসংখ্যার নরওয়ের ছোট্ট শহরের ক্লাব বোদো বা গ্লিমিট। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এবারের আসরের বড় চমক ছিল এই ক্লাবটি। একসময় দেউলিয়া হওয়ার পথে থাকা দলটি একের পর এক চমক জাগিয়ে অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতায় ছুটছিল ইউরোপ সেরার আসরে। পারফরম্যান্সে ঝলক দেখিয়ে বিস্ময় যাত্রায় আরো এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার খুব কাছাকাছিও ছিল বোদো। তবে খাদের কিনারা থেকে চমৎকার পারফরম্যান্সে ঘুরে দাঁড়িয়ে তাদের সেই চমক থামিয়ে দিলে পর্তুগালের ক্লাব স্পোর্টিং সিপি। রূপকথার গল্প লিগে এগিয়ে চলা দলটি নিজেদের মাঠে শেষ ষোলোর প্রথম লেগে তিন গোলে এগিয়ে ছিল। সেই ঘাটতি পুষিয়ে ফিরতি লেগে নির্ধারিত সময় দুই লেগ মিলে ৩-৩ সমতায় ফেরে স্পোর্টিং। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ের দুই গোলে নরওয়েজিয়ান ক্লাবটিকে পেছনে ফেলে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে পর্তুগালের ক্লাবটি।

ইউরোপসেরার প্রতিযোগিতাটির নতুন ফরম্যাটের দ্বিতীয় আসরে গ্রুপ পর্বের শেষ দুই রাউন্ডে ম্যানচেস্টার সিটি ও অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ হারিয়ে চমক শুরু করেছিল বোদো বকা গ্লিমিট। সেই ধারা প্লে-অফে ধরে রেখে ইন্টার মিলানকে দুই লেগেই হারায় নরওয়ের ক্লাবটি। এরপর গত সপ্তাহে তারা শেষ ষোলোর প্রথম লেগে ৩-০ গোলে হারিয়ে দেয় স্পোর্টিংকে। নিজেদের মাঠের খেলার সেই ধারা আর গত পরশু ধরে রাখতে পারল না ছোট্ট শহরের ক্লাবটি। ঘরের মাঠে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া স্পোর্টিং ম্যাচের শুরু থেকেই ঝড় তোলে আক্রমণের। সেই ঝড়ের সামনে প্রতিরোধ গড়ার কোনো সুযোগই পায়নি বোদা। ৫৯ শতাংশ সময় বল দখলে রেখে গোলের জন্য নেয়া ৩৬টি শটের ১৪টি লক্ষ্যে রেখে পাঁচবার জালের দেখা পায় স্পোর্টিং। আর এলোমেলো ফুটবল খেলে গোলের জন্য নেয়া ৮ শটের ৪টি লক্ষ্যে রাখলেও জালের দেখা পেল না বোদো। ফিরতি লেগে নিজেদের মাঠে গত পরশু ৫-০ গোলে জয় পায় স্পোর্টিং। আর দুই লেগ মিলে ৫-৩ ব্যবধানে এগিয়ে পরের ধাপে উঠল পর্তুগালের ক্লাবটি।

এস্তাদিও হোসে আলভালাদে ম্যাচে আক্রমণের ঝড় তুললেও প্রথম গোল পেতে স্পোর্টিংকে অপেক্ষা করতে হেয়ছে ৩৪ মিনিট পর্যন্ত। অবশেষে জালের দেখা পান গন্সালো ইনাসিও। এরপর ৬৪ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন পেদ্রো গনসালভেস। আর ৭৮ মিনিটে লুইস সুয়ারেসের সফল স্পট কিকে দুই লেগ মিলিয়ে সমতায় ফেরে ক্লাবটি। তবে নির্ধারিত সময়ে আর কোনো গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ৯২ মিনিটে প্রথমবারের মতো ম্যাক্সিমিলিয়ানো আরাউজোর গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিক দল। অতিরিক্ত সময়ের যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে গোল করে প্রতিপক্ষের সব আশা গুঁড়িয়ে দেন রাফায়েল নেল। এই জয়ে ১৯৮২-৮৩ মৌসুমের পর আবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠল স্পোর্টিং সিপি।