ফাঁকা চরে মধ্যরাতে বালু লুটের মহোৎসব
Printed Edition
তোফায়েল আহমদ বিয়ানীবাজার (সিলেট)
সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার কুড়ারবাজার ইউনিয়নের আঙ্গারজুরে কুশিয়ারা নদীর চরে এখন চলছে বালু লুটের মহোৎসব। সরকারি কোনো ইজারা ছাড়াই রাতের আঁধারে একটি প্রভাবশালী চক্র এখান থেকে লাখ লাখ ঘনফুট বালু সরিয়ে নিচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার সাথে ‘অঁাঁতাত’ করে গত রমজানের মাঝামাঝি সময় থেকে এ লুটপাট চলছে। অথচ রহস্যজনক কারণে নীরব ভূমিকা পালন করছে স্থানীয় প্রশাসন। স্থানীয়রা বলছেন, দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা না নিলে বর্ষার আগেই বিলীন হয়ে যেতে পারে কুশিয়ারার তীরের এ বিশাল চর।
সরেজমিন আঙ্গারজুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কুশিয়ারা নদীর তীরে জেগে ওঠা বিশাল চরটি গত কয়েক বছর ধরে সরকারি তালিকাভুক্ত না হওয়ায় ইজারা দেয়া হয়নি। আর এ সুযোগটিই কাজে লাগাচ্ছে বালু খেকোরা। চরের বিভিন্ন স্থানে ১০-১৫ ফুট গভীর গর্ত করে বালু তুলে নেয়া হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত অন্তত অর্ধশত ট্রাক ও ট্রাক্টর দিয়ে বালু পরিবহন করা হয়। এতে একদিকে সরকার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্য দিকে হুমকির মুখে পড়ছে নদী তীরের গ্রামীণ সড়ক ও পরিবেশ।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এ চক্রের সাথে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা এবং প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশ রয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন যুবক বলেন, রমজান মাসে সেহরির পর থেকে সকাল পর্যন্ত লুট চলত। এখন রাত ১২টার পর থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত ট্রাকের দীর্ঘ লাইন থাকে। এ চক্রের মূল হোতা হিসেবে স্থানীয় সাকী আহমদ, শামীম আহমদ, রোয়েল আহমদ, ওমর ও জাহাঙ্গীর আলমসহ বেশ কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, কুড়ারবাজার ইউপি চেয়ারম্যান তুতিউর রহমান তুতাও এ চক্রকে পরোক্ষভাবে সহায়তা করছেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আঙ্গারজুরের এ চরটি ইজারা দেয়ার জন্য গত ১১ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান তুতিউর রহমান। তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক গত ১৩ ফেব্রুয়ারি হাইড্রো গ্রাফিক জরিপের নির্দেশ দিলেও সেটি এখনো মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়িত হয়নি। অর্থাৎ আইনিভাবে এ চর থেকে বালু উত্তোলনের কোনো সুযোগ নেই।
তবে অভিযুক্ত সাকী আহমদ ও রয়েল আহমদ বালু লুটের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সাকী আহমদের দাবি, তিনি বর্তমানে সিলেটে থাকেন এবং এসবের কিছু জানেন না। প্রতিহিংসাবশত কেউ তাদের নাম জড়াচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। অন্য দিকে, ইউপি চেয়ারম্যান তুতিউর রহমান তুতা ‘নয়া দিগন্ত’কে বলেন, একটি ইটভাটার মালিক তার নিজস্ব জমি থেকে মাটি কাটছেন, চরের বালু লুটের বিষয়ে আমি কিছু জানি না। তবে চরের বালু কারা নিচ্ছে, সে বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিয়ানীবাজার থানার ওসি ওমর ফারুক বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। তবে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান তিনি। বিয়ানীবাজার ইউএনও উম্মে হাবিবা মজুমদার বলেন, বালু লুটের খবর পাওয়ার পর আমরা গ্রাম পুলিশকে সেখানে পাহারার নির্দেশ দিয়েছি। দ্রুতই অভিযান চালিয়ে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।