স্মরণ সভায় সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা

সাংবাদিক মোস্তফা জামাল ছিলেন নিরহঙ্কারী মানুষ

Printed Edition
3rd-3
চট্টগ্রামে সাংবাদিক সৈয়দ মোস্তফা জামালের স্মরণসভায় বক্তব্য রাখেন সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন : নয়া দিগন্ত

চট্টগ্রাম ব্যুরো

সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আ.ফ.ম খালিদ হোসেন বলেছেন, ভাষা সৈনিক, সাংবাদিক ও সমাজ সংগঠক সৈয়দ মোস্তফা জামাল ছিলেন একজন নিরহঙ্কারী, ত্যাগী এবং আপাদমস্তক ভালো মানুষ। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের অন্যতম অগ্রগামী এই সৈনিক চট্টগ্রাম অঞ্চলে ভাষা আন্দোলন সংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। রাষ্ট্র্রভাষা আন্দোলনের সময় তিনি ঢাকা, চট্টগ্রাম ও দক্ষিণ চট্টগ্রামে ব্যাপক ধর্মঘটে নেতৃত্ব দেন। বৃহত্তর সাতকানিয়া থানার রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের আহ্বায়ক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তার বাবা মৌলভী সৈয়দ সোলতান আহমদ ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সক্রিয় সংগঠক হিসেবে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সৈয়দ মোস্তফা জামালের বাবা ছিলেন কলকাতাস্থ নিখিলবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির প্রথম সাধারণ সম্পাদক ও ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের কারাবরণকারী কংগ্রেস। গতকাল বুধবার বিকেলে সৈয়দ মোস্তফা জামালের ২২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ সমাজকল্যাণ সমিতির উদ্যোগে নগরীর শাহ আমানত দরগাহ লেনস্থ তনজিমুল মোছলেমিন এতিমখানা মিলনায়তনে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ড. আ.ফ.ম খালিদ হোসেন বলেন, দীর্ঘ তিন যুগেরও বেশি সময় ধরে সৈয়দ মোস্তফা জামাল সাংবাদিকতার সাথে জড়িত ছিলেন। তিনি দৈনিক আজাদ, দৈনিক সংবাদ, দৈনিক মিল্লাত, সাপ্তাহিক সৈনিকসহ বিভিন্ন পত্রিকায় সহ-সম্পাদক ও সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করেছেন। অত্যন্ত বিনয়ী, নিরহঙ্কারী, নীতিবান, মানবতাবাদী ও সমাজহিতৈষী মানুষ হিসেবে বরাবরই সৈয়দ মোস্তফা জামাল আমৃত্যু মানুষের কল্যাণে কাজ করে গেছেন। মওলানা ভাসানীর আদর্শে উজ্জীবিত সৈয়দ মোস্তফা জামাল আজীবন মাওলানা ‘রবুরিয়ত’ কায়েমের মাধ্যমে শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখতেন। সর্বোপরি স্বীয় পিতার আদর্শ অনুকরণেও সক্রিয় ছিলেন।

বায়তুশ শরফ আনজুমনে ইত্তেহাদ-এর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল হাফেজ মোহাম্মদ আমান উল্লাহর সভাপতিত্বে ও বাংলাদেশ সমাজকল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক সোহেল তাজের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় অতিথি ছিলেন কবি ও প্রাবন্ধিক চৌধুরী গোলাম রব্বানী, অধ্যাপক শাব্বির আহমদ। বক্তব্য রাখেন মা ও শিশু হাসপাতালের সভাপতি সৈয়দ মোরশেদ হোসেন, অধ্যাপক নইম কাদের, কাজী মাওলানা শিহাব উদ্দিন, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ওয়ালি উল্লাহ মুঈন প্রমুখ।