দাপুটে জয়ে সমতায় বাংলাদেশ

Printed Edition
first-3
ফিফটির পথে শট খেলছেন নাজমুল হোসেন শান্ত : নয়া দিগন্ত

ক্রীড়া প্রতিবেদক

শেরেবাংলায় নিউজিল্যান্ডের দেয়া ১৯৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ অনায়াস জয় তুলে নিয়েছে। লিটন দাসের শততম ওয়ানডে ও সৌম্য সরকারের দলে ফেরার ম্যাচটি তাদের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে উজ্জ্বল না হলেও, তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যাটে ভর করে ৮৭ বল হাতে রেখেই ৬ উইকেটের জয় নিশ্চিত করেছে টাইগাররা। দাপুটে এই জয়ে সিরিজে সমতায় ফিরল স্বাগতিক বাংলাদেশ। ২৩ এপ্রিল সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচটি হবে চট্টগ্রামে।

মন্থর, অসমান বাউন্সে গতির ঝড় তুললেন নাহিদ রানা। পেস আর বাউন্সে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটারদের নিলেন বড় পরীক্ষা। ওয়ানডেতে তার দ্বিতীয় পাঁচ উইকেট শিকারে সফরকারীরা থামল দুই শ’র ঠিক নিচে। গতকাল মিরপুর শেরেবাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে সব ক’টি উইকেট হারিয়ে ১৯৮ রান করেছে কিউইরা। ১০২ বলে সর্বোচ্চ ৮৩ রান করেন কেলি। ১০ ওভারে ৩২ রানে ৫ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের সফল বোলার নাহিদ।

এমনিতে মন্থর উইকেটে রান করা ছিল কঠিন, দুই রকম বাউন্স থাকায় বল পড়াও ছিল মুশকিল। এমন বাইশ গজে নাহিদের বাড়তি গতি অনেকটা দুর্বোধ্য ঠেকল ব্ল্যাক ক্যাপসদের কাছে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে স্পোর্টিং উইকেটে খেলার পরিকল্পনা জানিয়েছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। কিন্তু দেখা গেলো মিরপুরের উইকেটে মূলত বোলারদেরই সহায়তা বেশি। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে দেখা গেল আরো মন্থরতা, অসমান বাউন্স। সফরকারী নিউজিল্যান্ড সেখানে ধুঁকল বিস্তর।

টস জিতে ব্যাট করতে নামা নিউজিল্যান্ডের ইনিংসে রান বলতে গেলে একা নিক কেলিই করেছেন। বাঁহাতি এ ওপেনার খেলেছেন ৮৩ রানের ইনিংস। অন্য কোনো ব্যাটসম্যান ২০ রানের ঘরেও যেতে পারেননি, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৯ রান পাঁচে নামা মুহাম্মদ আব্বাসের।

তাসকিন আহমেদের করা প্রথম বলটাই গেল হাঁটুর নিচে। তাতেই আভাস মিলল উইকেটের ধরনের। চ্যালেঞ্জিং উইকেটে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে নিউজিল্যান্ডের ওপেনাররা কুঁকড়ে গেলেন। প্রথম চার ওভারে এলো স্রেফ ৩ রান! রানের গতি পরে খানিকটা বাড়লেও জুটি বড় হলো না। নাহিদ আসতেই এলবিডব্লিউতে কাটা পড়েন হেনরি নিকোলস। তিনে নামা উইল ইয়ংকেও ছাঁটেন নাহিদ। তার লাফানো বলে আলতো করে ক্যাচ উঠিয়ে হাঁটা ধরেন কিউই ব্যাটার। ২৮ রান ২ উইকেট হারানো নিউজিল্যান্ডকে টেনে তোলার চেষ্টায় ছিলেন অধিনায়ক টম ল্যাথাম। তবে থিতু হতে পারেননি তিনি। একাদশে আসা সৌম্য সরকারের মিডিয়াম পেসে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ৩৫ বলে ১৪ রান করে। চতুর্থ উইকেটে মোহাম্মদ আব্বাসকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়েন কেলি। ওই সময় রানের চাকাও কিছুটা সচল হয়। কেলি সাবলীল থাকলেও আব্বাস রান বাড়াতে ধুঁকছিলেন। তাদের ৫৫ রানের জুটি ভাঙে নাহিদের বলে। তার বাউন্সারে পুল করতে গিয়ে টাইমিং গড়বড় হয় আব্বাসের। কিপার লিটন দাস অনেকখানি পেছনে বা দিকে ছুটে গিয়ে নেন দুর্দান্ত ক্যাচ।

কেলি পরে ফক্সক্রফটকে নিয়ে যোগ করেন আরো ৩৭ রান। বাকিদের ভোগান্তির মাঝে কেলিকেই মনে হয়েছিল স্বচ্ছন্দ। সেঞ্চুরির আভাস দেয়া বাঁহাতি ব্যাটারের ধৈর্যচ্যুতি ঘটে শরিফুল ইসলামের বলে। টেল এন্ডাররা আর বেশিদূর এগোতে পারেননি। ইনিংসের শুরুর মতো শেষেও এসে সফরকারীদের ইনিংসে হানা দেন নাহিদ। ন্যাথান স্মিথ চেষ্টা চালালেও দুইশো ছুতে পারেনি কিউইরা। নাহিদ রানার শিকার হেনরি নিকোলাস (১৩), উইল ইয়ং (২), আব্বাস (১৯), ফক্সক্রফট (১৫) ও লিনক্স (০)।

জবাবে খেলতে নেমে প্রথম ওভারেই দু’টি চার মেরে সাজঘরের পথ ধরেন সাইফ হাসান। স্মিথের ওভারের শেষ বলে সরাসরি বোল্ড হন প্রথম ম্যাচের টপ স্কোরার। চতুর্থ ওভারের শেষ বলে আউট হন অনেক দিন পর একাদশে সুযোগ পাওয়া সৌম্য সরকার। ও‘রুকির বলে ফক্সক্রফটকে ক্যাচ দিয়ে ১১ বলে এক ছক্কায় ৮ রান করে দিতে পারেননি আস্থার প্রতিদান।

২১ রানে দুই উইকেট হারানোর পর হাল ধরেন তানজিদ তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত। দলীয় ১৪১ রানে লিনক্সের বলে নিকোলাসকে ক্যাচ দিয়ে বিচ্ছিন্ন হন তানজিদ। ৩৩ বলে ৬ চার ও ৩ ছক্কায় হাফ সেঞ্চুরি করার পর বিদায় নেন ৭৬ রানে (৫৮ বলে ১০ চার ও ৪ ছক্কা)। লিটন দাস এসে নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। ১১ বলে ১ বাউন্ডারিতে ৭ রান করে বিদায় নেন। তৌহিদ হৃদয় এসে সঙ্গ দেন নাজমুল হোসেন শান্তকে। শান্ত ৭১ বলে পাচ চার ও দুই ছক্কায় কাটায় কাটায় হাফ সেঞ্চুরি করে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে সাজঘরে যান। অধিনায়ক মিরাজ (২৫ বলে ৮) ও তৌহিদ হৃদয় (৩১ বলে ৩০) মিলে ৩৫.৩ ওভারে ৪ উইকেটে ১৯৯ রান করে দলকে ৬ উইকেটে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর :

নিউজিল্যান্ড ইনিংস : ৪৮.৪ ওভারে ১৯৮ (কেলি ৮৩, আব্বাস ১৯, স্মিথ ১৮*, ফক্সক্রফট ১৫, লাথাম ১৪, নাহিদ ৫/৩২, শরীফুল ২/৩২, রিশাদ ১/২১, সৌম্য ১/২৭, তাসকিন ১/৪৬)।

বাংলাদেশ ইনিংস : ৩৫.৩ ওভারে ১৯৯/৪ (সাইফ ৮, সৌম্য ৮, তানজিদ তামিম ৭৬, লিটন ৭, শান্ত ৫০ রি-হার্ট, হৃদয় ৩১*, মিরাজ ৮*, লেনক্স ২/৩৬, নাথান ১/৪৬, রুকি ১/৪১)।

ফল : বাংলাদেশ ৬ উইকেটে জয়ী।

ম্যাচ সেরা : নাহিদ রানা

সিরিজ : তিন ম্যাচ সিরিজ ১-১ সমতা।