যুদ্ধে বিধ্বস্ত ইরানি ক্রীড়াঙ্গন
Printed Edition
ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে ইরান একটি বড় নাম। কুস্তিতে ইরান বিশ্বের অন্যতম সেরা। অলিম্পিকেও রয়েছে তাদের ধারাবাহিক সাফল্য। বেশির ভাগ পদক এসেছে কুস্তি ও ভারোত্তোলনে। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপেও আছে অসংখ্য পদক জয়ের ইতিহাস। ফুটবলে তারা এশিয়ার অন্যতম সেরা দল। একাধিকবার দলটি এএফসি এশিয়ান কাপ নিজেদের ঘরে তুলেছে। আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপেও তারা সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে।
তবে ইরান ও ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে ইরানের ক্রীড়াঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোক ও ধ্বংসের ছাপ। জেনেভা কনভেনশন ও অলিম্পিক চার্টার অনুযায়ী যুদ্ধচলাকালীন ক্রীড়া ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান লক্ষ্যবস্তু করা নিষিদ্ধ। তবে সে সবের ধার ধারেনি ইঙ্গ-মার্কিন বাহিনী। নির্বিচারে ক্ষেপণাস্ত্র ও বোমা হামলা চালিয়ে ফুটবলার, ভলিবল খেলোয়াড়, কুস্তিগীরসহ নানা পেশার ক্রীড়াবিদদের হত্যা করেছে। বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সঙ্ঘাতের প্রথম দিকের সময়েই অন্তত ১০০ জনের বেশি ক্রীড়াবিদ ও ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছেন। এ ছাড়াও স্টেডিয়াম, সুইমিংপুলসহ বিভিন্ন ক্রীড়া স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে।
ক্রীড়াবিদদের প্রাণহানি
ইরানের বিভিন্ন প্রদেশে সামরিক হামলা ও অস্থিরতার মধ্যে বেশ কয়েকজন ক্রীড়াবিদের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ঘটনা ঘটে ফার্স প্রদেশের লামের্দ শহরে। সেখানে একটি জিমনেসিয়ামে বিমান হামলায় ২০ জন নারী ভলিবল খেলোয়াড় নিহত হন। এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক ভলিবল সংস্থা এফআইভিবি।
এ ছাড়া ইসরাইলি হামলায় তিনজন বক্সার রুহুল্লাহ সালেক, সৈয়দ আলী বাঘেরনিয়া ও রেজা বাহরামী নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ইরানের ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তথ্যে বলা হয়েছে, যুদ্ধের প্রথম ১২ দিনেই অন্তত ১০০ জন ক্রীড়াবিদ প্রাণ হারান। নিহতদের মধ্যে উশু খেলোয়াড় মেহেদি গাফফারী, কারাতে খেলোয়াড় হেলেনা গোলামী, হ্যান্ডবল খেলোয়াড় সাবের আকবরী, শুটার হামিদ তোমারি এবং সাইক্লিস্ট নাজমেহ সিয়ামসসহ আরো অনেকে রয়েছেন।
পশ্চিম আজারবাইজান প্রদেশেও হামলায় ৯জন তরুণ ক্রীড়াবিদ নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ফুটবলারও ছিলেন।
অভ্যন্তরীণ অস্থিরতায় নিহত
যুদ্ধের পাশাপাশি দেশের ভেতরে অস্থিরতার সময়ও কয়েকজন খেলোয়াড় নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে সাবেক ফুটবলার মজতবা তর্শীজ, সাইপা ক্লাবের ১৭ বছর বয়সী ফুটবলার রেবিন মোরাদী, সেপাহান নোভিনের ১৫ বছর বয়সী ফুটবলার পেদ্রাম খালুয়ী এবং নারী ফুটবলার ও পর্বতারোহী জোহরা আজাদপুরের নাম উল্লেখযোগ্য।
ক্রীড়া অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি
যুদ্ধের ফলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ ক্রীড়া স্থাপনাগুলোরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রাজধানী তেহরানের বিখ্যাত আজাদি স্পোর্টস কমপ্লেক্সের ১২ হাজার আসনের ইনডোর অ্যারেনা ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। এই স্টেডিয়ামটি মূলত ভলিবল ম্যাচের জন্য ব্যবহৃত হতো।
এ ছাড়া ইরানের সাইক্লিং ফেডারেশনের নতুন ভবন ও খেলোয়াড়দের ডরমিটরি ধ্বংস হয়ে গেছে। একই কমপ্লেক্সের সুইমিং পুল ও রোয়িং ফেডারেশনের অংশবিশেষও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দক্ষিণ তেহরানের বেসাত স্পোর্টস কমপ্লেক্সেও একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়াও তেহরানের শাহিদান ইসমাইলি ও এস্কান্দারলু স্পোর্টস ও বোমা হামলার শিকার হয়েছে।
আন্তর্জাতিক ক্রীড়ায় অনিশ্চয়তা
এমতাবস্থায় ইরানের আন্তর্জাতিক ক্রীড়ায় অংশগ্রহণও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। দেশটির ক্রীড়া মহলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, সঙ্ঘাত দীর্ঘায়িত হলে বড় টুর্নামেন্টগুলোতে অংশগ্রহণে বাধা তৈরি হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ।
ইরান দাবি করেছে, ক্রীড়া অবকাঠামোতে হামলা আন্তর্জাতিক আইন এবং অলিম্পিক নীতিমালার পরিপন্থী। তবে কিছু প্রতিবেদনে কয়েকটি স্টেডিয়াম সামরিক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।