প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়

Printed Edition
khela-1
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক : পিআইডি

ক্রীড়া প্রতিবেদক

  • বেতন পাচ্ছেন ১২৯ ক্রীড়াবিদ
  • ক্রমান্বয়ে পাবেন ৫০০ জন
  • প্রথম ধাপে ২০ ডিসিপ্লিন
  • সম্মানসূচক স্পোর্টস কার্ড প্রদান
  • চার মাস পরপর রিভিউ
  • সব ডিসিপ্লিনই সমান গুরুত্বপূর্ণ
  • প্রতি স্কুলে তিনজন ক্রীড়া শিক্ষক
  • নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস চালু
  • ১০ জেলায় পরীক্ষামূলক স্পোর্টস ভিলেজ

পর্যায়ক্রমে জাতীয় পর্যায়ের সব ক্রীড়াবিদদের সরকারি বেতন কাঠামোর আওতায় আনার ঘোষণা দিয়েছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। আগামীকাল ৩০ মার্চ সেই ঘোষণার প্রথম বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে। সকাল ১০টায় নিজের সরকারি কার্যালয়ে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রাথমিকভাবে ৫০০ ক্রীড়াবিদের কথা বললেও প্রথম ধাপে ক্রীড়া ভাতার আওতায় আনা হচ্ছে ২০ ডিসিপ্লিনের ১২৯ ক্রীড়াবিদকে। যেখানে আপাতত থাকছেন না ক্রিকেটার ও ফুটবলাররা।

একই অনুষ্ঠানে নির্বাচিত ক্রীড়াবিদদের সম্মানসূচক ‘স্পোর্টস কার্ড’ প্রদান করা হবে। প্রধানমন্ত্রী ক্রীড়াবিদদের কার্ড হস্তান্তর করবেন। আপাতত এটি শুধু ক্রীড়াবিদ হিসেবে পরিচয়পত্র হিসেবে কাজ করলেও আগামীতে সামাজিক সুবিধা প্রদানের পরিকল্পনা রয়েছে। স্টেডিয়ামে খেলা দেখা, ট্রেন, হাসপাতাল কিংবা সেবামূলক খাতে যেন খেলোয়াড়রা অগ্রাধিকার পান এই কার্ডের মাধ্যমে সেটা চেষ্টা করবে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘শুধু আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যারা বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করে পদক জিতেছেন, কেবল তারাই পাবেন। আরেকটা বিষয় রয়েছে, আমরা এই যে জাতীয় পর্যায়ে যাদেরকে ক্রীড়া ভাতা প্রদান করব এইটা কিন্তু চার মাস পর পর আমরা রিভিউ করব। তাদের পারফরম্যান্সের ওপরে নিশ্চিত করেই তা সংযোজন-বিয়োজন হবে। তারা যদি তাদের পারফরম্যান্স ধরে রাখে তাহলে বেতন কন্টিনিউ হবে। আর যদি কেউ পারফরম্যান্স থেকে সরে যায় তখন তারা বাদ পড়বে।’

তিনি যোগ করেন, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য খেলোয়াড়দের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পরিবারগুলোকে খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে গ্রহণে উৎসাহিত করা। আমাদের কাছে সব খেলাই সমান গুরুত্বপূর্ণ। নিরপেক্ষ মূল্যায়নের মাধ্যমেই খেলোয়াড় নির্বাচন করা হয়েছে এবং সবাই সমান সম্মান ও সুবিধা পাবেন।

২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সাফল্য পাওয়া এসব খেলোয়াড় বিভিন্ন ডিসিপ্লিন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। প্রথম ধাপে বেতন পাবেন আরচারি, ব্যাডমিন্টন, টেবিল টেনিস, বক্সিং, ইয়োগা, জিমন্যাস্টিকস, ক্যারম, সাঁতার, প্যারা সাঁতার, ভারোত্তোলন, উশু, প্যারা অ্যাথলেটিক্স, অ্যাথলেটিক্স, কারাতে, সেপাক টাকরো, কাবাডি, ভলিবল, হুইলচেয়ার বাস্কেটবল, ব্রিজ, ফুটসালের ক্রীড়াবিদরা।

এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে আরো তালিকা করা হবে বলে জানান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘ক্রিকেটাররা অত্যন্ত ফাইন্যান্সিয়ালি সলভেন্ট। ক্রিকেটারদের বিষয় নিয়ে আমরা পরবর্তীতে ভাববো। আমরা আপাতত ফুটবল থেকে শুরু করে আমাদের যেসব ইভেন্টগুলো বা যেসব ক্রীড়াবিদরা অত্যন্ত জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে তাদেরকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আমরা এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।’

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করার কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী আমিনুল বলেন, ‘৪৯৫টি উপজেলার প্রত্যেকটি স্কুলে তিনজন করে ক্রীড়া শিক্ষক থাকবেন। এ ছাড়াও উপজেলা ক্রীড়া অফিসারও কাজ করবেন। আপাতত সাতটি ডিসিপ্লিনকে আমরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অন্তভুক্ত করতে চাই। এ জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় একসাথে কাজ করবে। সে রকম নির্দেশনা ইতোমধ্যে দেয়া হয়েছে।’

নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস চালু সম্পর্কে আমিনুলের কথা, ‘একই সাথে ১২-১৪ বছর বয়সীদের মধ্য থেকে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের মাধ্যমেও নতুন খেলোয়াড় তুলে আনার চেষ্টা করব।’

দেশব্যাপী স্পোর্টস ভিলেজ তৈরি করার পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা প্রত্যেক জেলায় একটি করে স্পোর্টস ভিলেজ করব। আপাতত ১০টি জেলায় এই কার্যক্রম পরীক্ষামূলক চালু করা হবে। তবে আমরা দেশব্যাপী এই স্পোর্টস ভিলেজ তৈরি, নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ও ভাতা প্রদানের মাধ্যমে ক্রীড়াবিদদের পরিবারের কাছে আস্থা অর্জন করতে চাই।’

জাতীয় সাঁতারু সামিউল ইসলাম রাফি থাইল্যান্ডে উচ্চ প্রশিক্ষণে ছিলেন। সেখান থেকে তিনি মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে আমন্ত্রণমূলক টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করে স্বর্ণ ও রৌপ্য জেতেন। যা সাঁতারের বড় অর্জন। কিন্তু তালিকায় রাফিকে রাখা হয়নি। কারণ রাফি জিও নিয়ে বিদেশ যাননি, বৃত্তি নিয়ে গিয়েছেন। ২০২৫ সালে যুব হকি দল বিশ্বকাপে খেলেছে। আমিরুল ইসলাম যুব বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার পেয়েছেন। যুব বিশ্বকাপের ইতিহাসে তার চেয়ে বেশি কেউ গোল করতে পারেনি। এরপরও হকি নেই এই তালিকায়। শুধু সিনিয়র দল বা সিনিয়রদের গণ্য করা হয়েছে।