আমার নামাজ আমার অনুভূতি
Printed Edition
মুন্সি আব্দুল কাদির
আমার নামাজের আমি একেবারে শেষ প্রান্তে। আমি সালামের মাধ্যমে আমার নামাজ শেষ করতে যাচ্ছি। তাকবিরে তাহরিমার মাধ্যমে দুনিয়ার সব কিছু থেকে আমি বিচ্ছিন্ন হয়ে মহান রবের সান্নিধ্যে মগ্ন ছিলাম। সালামের মাধ্যমে আবার দুনিয়ার সব কিছুর সাথে আমার কর্মকাণ্ড শুরু হবে। নামাজের সর্বশেষে আমি ডানে বামে সালাম ফিরিয়ে আমার নামাজ শেষ করি। এই সালামের রয়েছে গভীর তাৎপর্য ও মাহাত্ম্য। মাওলার সাথে সম্পর্ক গভীরতার সাথে তার সৃষ্টির প্রতি গভীর মমত্ববোধ সৃষ্টি হয়। সালাম মানে সব মানুষ এবং সব সৃষ্টির প্রতি শান্তি ও নিরাপত্তার ঘোষণা।
আমি ডানদিকে আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ এবং বাম দিকে আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ বলে আমার নামাজ শেষ করছি। এই সালামের অর্থের গভীরতার দিকে তাকালে থ বনে যেতে হয়। সালামের মাধ্যমে নামাজের সমাপ্তি সালামের মাধ্যমে দুনিয়ার সব কর্মকাণ্ড শুরু। এই দুইয়ের মধ্যে এক গভীর সংযোগ। আমি নামাজের মাধ্যমে মাওলার শান্তি আর রহমত প্রত্যাশী। এই সালামের মাধ্যমে দুনিয়ার সবার জন্য শান্তি রহমত প্রত্যাশী। আমি এককভাবে এই শান্তি আর রহমত পেতে চাই না। আমার শান্তি আর রহমত সব সৃষ্টির মধ্যে বিলিয়ে যাক। সবাই এই শান্তি আর রহমতের ভাগী হোক।
আমি যদি ডান দিক এবং বাম দিক সালামে চোখের কৌণিক অবস্থানের দিকে তাকাই তাহলে দেখব এই সালাম আমার চতুর্দিক বেষ্টন করে আছে। আমার ডান দিকে সালাম ফেরানের সময় ডান চোখের কৌণিক অবস্থান আমার পেছনের যতটুকু অংশে দৃষ্টি যায় ঠিক তেমনি বাম দিকে সালাম ফেরানোর সময় আমার চোখের কৌণিক অবস্থান সেই পর্যন্ত আসে। অর্থাৎ- আমার চতুর্দিকে যাদের অবস্থান সবার জন্য আমি কল্যাণ নিরাপত্তা শান্তি কামনা করছি। সাথে সাথে আমি এই ঘোষণা দিচ্ছি- আমার পক্ষ থেকে সবাই নিরাপদ। সালাম শুধু শান্তি চাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; সাথে সাথে নিরাপত্তারও গ্যারান্টি। আমি সাধারণত আমার কাঁধের দিকে তাকাচ্ছি। কিন্তু আমার চোখের কৌণিক অবস্থান স্বয়ংক্রিয়ভাবে চতুর্দিককে বেষ্টন করে ফেলে। এটিও মহান রবের একটি সৃষ্টি বৈচিত্র্য। আমি প্রথমত আমার ডান কাঁধে এবং বাম কাঁধের ফেরেশতাদের সালামের অন্তর্ভুুক্ত করছি। আমার ডান বাম সামন পেছনের সব মুসল্লিকে সালামের অন্তর্ভুক্ত করছি। আমার চারদিকে মহান রবের যত সৃষ্টি আছে সবাইকে আমার সালামের অন্তর্ভুুক্ত করছি। নামাজে আমার ইবাদত ছাড়া সব বৈধ কাজও অবৈধ হয়ে যায়। সালামের মাধ্যমে সব বৈধ কাজ করার আমার সুযোগ সৃষ্টি হয়। কাজের সাথে বিচ্ছিন্নতা শুরু হয় তাকবিরে তাহরিমার মাধ্যমে। আবার কাজে ফিরে আসি সবার শান্তি কল্যাণ নিরাপত্তা কামনার মাধ্যমে। আমি নামাজের মাধ্যমে রবের কাছে হাজিরা দিয়েছি। এই হাজিরার মাধ্যমে আমি যে প্রশান্তি লাভ করেছি। এই নামাজের মাধ্যমে আমি যে কল্যাণ লাভ করেছি। আমার মাওলার আমার প্রতি যে রাজি আর খুশি হয়েছেন। আমি চাই প্রত্যেক সৃষ্টির মধ্যে সেই শান্তির ফল্গুধারা প্রবাহিত হোক। মাওলার রহমতের চাদরে সবাই ঢেকে থাকুক। রহমতের বারিধারা সবার ওপর বর্ষিত হোক।
ইসলামে সালাম শুধু একটি ইবাদতের অংশ নয়; বরং নিজেই একটি ইবাদত। এটি একটি সামাজিক প্রথা, যে একজন মুসলমান অপর মুসলমানের সাথে সাক্ষাৎ হওয়ার সাথে সাথে সবার আগে সালাম বিনিময় করবে। সবার আগে একে অপরের জন্য শান্তি রহমত, নিরাপত্তা কামনা করবে। এটি মুসলিম সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে সাহায্য করে। সালাম ফেরানোর বিষয়টি ইসলামের একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়। এটি শুধু একটি যান্ত্রিক প্রথা নয়, তথাকথিত প্রথা নয়; বরং এর পেছনে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ আধ্যাত্মিক ও সামাজিক মাহাত্ম্য।
আমি সালামের মাধ্যমে শান্তি রহমত কামনা করছি। আমি মাওলার কাছে যত দোয়া করি এই সালাম, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ এর ভেতরে সব কিছুকে ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে। আমি যত কিছুই করি সব কিছুর মূল উদ্দেশ্য হলো সুখ-শান্তি রহমত নিরাপত্তা আনন্দ ইত্যাদি। আমি আপনি একটু গভীরভাবে তাকালে দেখব, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ এর ভেতরে সব কিছু রয়েছে। মহান রব কবুল করলে আমার পুরো জীবনের জন্য শুধু সালাম নামক দোয়াটিই যথেষ্ট।
নামাজকেন্দ্রিক সমাজব্যবস্থা যেমন পাপপঙ্কিলতা থেকে মুক্ত সুখী সমাজ। অপর দিকে, এই সমাজ শুধু নিজের সুখ-শান্তি পেয়েই সুখী আর তৃপ্ত হয় না। সে চায় সমাজের প্রত্যেকটি ব্যক্তি সুখী সমৃদ্ধি, শান্তি স্বস্তি লাভ করুক। সবাইকে নিয়ে আমি সুখী হতে চাই। মহান রব নামাজের সব কল্যাণ লাভ করার তৌফিক আমাদের সবার জন্য নসিব করুন। আমিন।
লেখক : প্রাবন্ধিক