বরিশালে পাউবোর ৭৮ সেচপাম্প অচল

বিপাকে কৃষক, নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার সম্পদ

Printed Edition

আযাদ আলাউদ্দীন বরিশাল ব্যুরো

বরিশাল অঞ্চলের কৃষি ও সেচসুবিধার এক সময়ের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) পাম্পহাউজগুলো এখন কেবলই পরিত্যক্ত স্থাপনা। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৭৮টি সেচপাম্পহাউজ দীর্ঘকাল ধরে অচল পড়ে থাকায় এর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয় চাষিরা। সরকারি এই সেচব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়ায় কৃষকরা বাধ্য হয়ে ব্যয়বহুল ব্যক্তিগত পাম্পের ওপর নির্ভর করছেন, যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে কৃষি উৎপাদনে।

সরেজমিন দেখা গেছে, অধিকাংশ পাম্পহাউজের যন্ত্রাংশ বহু আগেই নষ্ট হয়ে গেছে। কোথাও ইঞ্জিনে মরিচা ধরেছে, কোথাও পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত, আবার অনেক স্থানে ভবনের কঙ্কালসার দশা। অভিযোগ রয়েছে, বিগত সময়ে অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে অনেক পাম্পহাউজের দামি ইঞ্জিন ও পাইপ খুলে বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। বর্তমানে এসব স্থাপনা দেখভালের কেউ নেই বললেই চলে। অথচ ১৯৭৫ ও ১৯৮৫ সালে ‘বরিশাল ইরিগেশন প্রজেক্ট’-এর আওতায় যখন এই প্রকল্প শুরু হয়েছিল, তখন এটি দক্ষিণাঞ্চলের কৃষিতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছিল।

পাউবো সূত্রে জানা গেছে, এই প্রকল্পের আওতায় বরিশাল সদর, বাবুগঞ্জ, বাকেরগঞ্জ, নলছিটি, ঝালকাঠি সদর, রাজাপুর ও কাউখালী উপজেলার প্রায় এক লাখ ৫৭ হাজার ৮৫ হেক্টর জমিতে সেচসুবিধা দেয়া হতো। বর্তমানে ডিজেলচালিত ব্যক্তিগত পাম্পে একরপ্রতি সেচখরচ যেখানে প্রায় সাত হাজার ৫০০ টাকা, পাউবোর বিদ্যুৎচালিত পাম্প সচল থাকলে সেই খরচ কমে দাঁড়াত মাত্র দুই হাজার টাকায়। অর্থাৎ সরকারি সুবিধা না থাকায় কৃষকদের খরচ বাড়ছে প্রায় তিন থেকে চার গুণ। সদর উপজেলার কৃষক এনায়েত হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, ‘ডিজেলের দাম বাড়ায় চাষাবাদ এখন দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ ঘরের কাছের সরকারি পাম্পগুলো ভুতুড়ে বাড়ি হয়ে পড়ে আছে।’

বরিশাল পাউবোর তথ্যমতে, ২০১০ সালের দিকে কিছু অসাধু ব্যক্তি পাম্পগুলোর যন্ত্রাংশ সরিয়ে ফেলে, যার কোনো হিসাব বর্তমানে দফতরে নেই। তবে বর্তমান কর্মকর্তারা দাবি করছেন, তারা পরিস্থিতি উন্নয়নের চেষ্টা চালাচ্ছেন। ইতোমধ্যে ১৮টি পাম্প আধুনিক প্রযুক্তিতে সচল করা হয়েছে এবং আরো ২১টি চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কৃষি বিভাগ সতর্ক করে বলছে, উপকূলীয় এই অঞ্চলে লবণাক্ততার ঝুঁকি বাড়ায় সরকারি সেচব্যবস্থার গুরুত্ব এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি। সময়মতো সেচ নিশ্চিত করা না গেলে বোরো ও আমন মৌসুমে খাদ্য নিরাপত্তা বিঘিœত হতে পারে।

বরিশাল পাউবোর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ শাহিদুল আলম বলেন, ‘বাজেট সীমাবদ্ধতা ও যন্ত্রপাতির সঙ্কটের কারণে সংস্কারকাজ কিছুটা বিলম্বিত হয়েছে। তবে আমরা প্রায় ২৩৯ কোটি টাকার একটি বড় প্রকল্প গ্রহণ করেছি। এটি বাস্তবায়িত হলে ধাপে ধাপে সব পাম্পহাউজ ফের চালু করা সম্ভব হবে।’ একসময়ের আশীর্বাদ হয়ে আসা এই পাম্পহাউজগুলো দ্রুত সংস্কার করে কৃষকদের হাতে ফিরিয়ে দেয়ার প্রত্যাশা ভুক্তভোগী সাধারণ কৃষকদের।