ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভনে নারীকে ধর্ষণের ঘটনা উত্থাপন, পরে এক্সপাঞ্চ
গুম-খুনে জড়িত সব পুলিশ সদস্যের বিচার দাবি সংসদে
Printed Edition
সংসদ প্রতিবেদক
পুলিশের সাবেক আইজি বেনজির আহমেদ দুবাইতে গ্রেফতারের পর আওয়ামী লীগ আমলে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতনে জড়িত সব পুলিশ সদস্যকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন ফেনী-১ আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য মুন্সি রফিকুল আলম মজনু। তিনি বলেছেন, শুধু বেনজিরই নয় আওয়ামী লীগ আমলে পুলিশের যেসব সদস্য বিরোধী দল বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন করেছে তাদের সবাইকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। এ দিকে ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভনে নারীকে ধর্ষণ করা হচ্ছে বলে জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় এক সংসদ সদস্যের অভিযোগের পর বক্তব্যের ওই অংশ এক্সপাঞ্চ করেছেন স্পিকারের দায়িত্বে থাকা ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
বেনজিরের সাথে গুম-খুনে জড়িত সব পুলিশ সদস্যের বিচার দাবি : শুধু পুলিশের সাবেক আইজি বেনজির আহমেদই নয় আওয়ামী লীগ আমলে পুলিশের যেসব সদস্য বিরোধী দল বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন করেছে তাদের সবাইকে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন ফেনী-১ আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য মন্সি রফিকুল আলম মজনু।
আজ জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি জানান। এ সংসদে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
সংসদ সদস্য রফিকুল আলম বলেন, যারা গুম-খুন করেছিল তারা আজ কোথায়? শুধু বেনজির আহমেদকে গ্রেফতার করলেই আমাদের দুঃখকষ্ট শেষ হবে না। আরো যারা গুম-খুনে জড়িত ছিল তাদের খুঁজে বের করে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী আমলে আমরা বর্তমানের সরকারি দল-বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা গ্রেফতার-নির্যাতনের শিকার হয়েছি। আমরা একসাথে জেলখানায়ও ছিলাম। আওয়ামী লীগের যেসব কর্মী পুলিশে ছিল বিশেষ করে ২০১৮ সালে যারা দায়িত্বে হাজার হাজার নেতাকর্মী গুম-খুন করেছিল তাদের প্রত্যেককে বিচারের আওতায় আনতে হবে।
ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভনে নারীকে ধর্ষণ : ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভনে নারীকে ধর্ষণ এবং টাকা নেয়া হচ্ছে বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন মেহেরপুর-১ এর বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য জামায়াত নেতা তাজউদ্দিন খান।
গতকাল বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের ৯ম দিনে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। অবশ্য পরে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন জাতীয় সংসদে অসংসদীয় শব্দ ব্যবহার করায় তা এক্সপাঞ্চ করার আহ্বান জানালে স্পিকারের দায়িত্বে থাকা ব্যারিস্টার কায়সার কামাল তা এক্সপাঞ্চ করেন। এরপর সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের জামায়াতের এমপি রফিকুল ইসলাম খান পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে ওই বক্তব্য সত্য বলে জানিয়ে তা প্রত্যাহার করার বিরোধিতা করে বলেন, বক্তব্য অসত্য হলে তা প্রত্যাহার করা যেতে পারে, কিন্তু সত্য বক্তব্য দেয়ার পরও কেন এক্সপাঞ্চ করা হলো তা বোধগম্য নয়।
মেহেরপুর-১ এর জামায়াতের সংসদ সদস্য তাজউদ্দিন খান আবারো কোন কোন এলাকায় এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে তার তারিখসহ উল্লেখ করেন। তিনি জানান, ফরিদপুরে এ বছরের গত ২ এপ্রিল ও ফেনীর সোনাগাজীতে ৫ এপ্রিল এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় স্পিকার কায়সার কামাল আবারো জানান, ওই বক্তব্য এক্সপাঞ্চ করার সিদ্ধান্ত অব্যাহত থাকবে।
পরে রফিকুল ইসলাম খান আবারো পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বলেন, মেহেরপুরের সংসদ সদস্য যা বলেছেন তা সব পত্রিকায় এসেছে। এর জন্য একটি দলের নেতাকে বহিষ্কার এবং আরেকজন নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আর তিনি ফ্যামিলি কার্ডের বিরুদ্ধে কিছু বলেননি। শুধু ফ্যামিলি কার্ড পেতে যে ভোগান্তি হচ্ছে তা তুলে ধরেছেন। তখন স্পিকার কায়সার কামাল বলেন এ বক্তব্য রেকর্ডেড থাকল।
এর আগে মেহেরপুর-১ এর সংসদ সদস্য তাজউদ্দিন খান বাজেট বক্তৃতায় বলেন, কত বড় বাজেট পেশ করা হয়েছে তা সাধারণ মানুষ জানতে চায়না, তারা জানতে চায় সিলিন্ডার গ্যাসের দাম কমেছে কিনা? বিদ্যুত-জ¦ালানি তেলের দাম কমেছে কিনা? বাজেট দেখে সাধারণ মানুষের মুখ মলিন হয়ে গেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সারা দেশে ৪১ লাখ ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে। এতে ওয়ার্ড প্রতি মাত্র ৯০টি পড়ে। এত অল্প কার্ড বিতরণ করার কারণে কার্ড পেতে মানুষকে টাকা দিতে হচ্ছে। এ ছাড়া কার্ডের প্রলোভনে নারীকে ধর্ষণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া বাজেটের ওপর আরো আলোচনায় অংশ নেন, মুপতি আমির হামজা, সামসুন্নাহার বেগম, আব্দুল হান্নান, শফিকুল হক মিলন, নাজমুল হুদা, সালমান ওমর, আবু সাঈদ চাঁদ, সবর্ণা শিকদার, মোহাম্মদ উল্লাহ, মঞ্জুরে এলাহী, আব্দুল মান্নান, মোবাশে^র আলম ভুইয়া, মোস্তাফিকুর রহমান মোস্তাক, গোলাম রব্বানী, আব্দুল ওয়ারেছ, সাবিরা সুলতানা, শওকত আরা আকতার, রফিকুল ইসলাম হেলালী প্রমুখ।