আত্রাইয়ের বুক এখন ফসলের মাঠ
Printed Edition
আত্রাই (নওগাঁ) সংবাদদাতা
এক সময়ের প্রমত্তা আত্রাই এখন শান্ত, শীর্ণ। যে নদীতে একসময় বছরজুড়ে পালতোলা নৌকা চলত, সেখানে এখন ঢেউয়ের বদলে দুলছে বোরো ধান আর ভুট্টার সবুজ পাতা। শুষ্ক মৌসুম আসার আগেই নদীটি পানিশূন্য হয়ে পড়ায় এর বুক জুড়ে জেগে উঠেছে বিশাল ফসলের মাঠ। কালের বিবর্তনে উত্তরবঙ্গের এই ঐতিহ্যবাহী নদীটি এখন মৃতপ্রায় খালে পরিণত হয়েছে।
ইতিহাস ও ঐতিহ্যের দিক থেকে আত্রাই নদীর ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ির ‘ত্রিস্রোতা’ থেকে উৎপন্ন হয়ে নদীটি বাংলাদেশের দিনাজপুর ও নওগাঁর ধামুইরহাট, পতœীতলা, মহাদেবপুর ও মান্দা হয়ে আত্রাই উপজেলায় প্রবেশ করেছে। উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ এই নদীটি আত্রাই উপজেলা পরিষদের কাছে এসে দক্ষিণে মোড় নিয়ে নাটোরের সিংড়া ও বিখ্যাত চলনবিলের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে যমুনায় মিশেছে। আবার উত্তর দিকে মোড় নিয়ে ‘গুড় নদী’ নামে একটি শাখা নদী হিসেবেও এটি প্রবাহিত হয়েছে।
স্থানীয় প্রবীণদের মতে, গত শতাব্দীর আশির দশকে আত্রাই উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন এলাকায় মাত্র এক গেটবিশিষ্ট একটি স্লুইসগেট নির্মাণ করা হয়। এই অপরিকল্পিত স্লুইসগেট নির্মাণের ফলে নদীর স্বাভাবিক পানির প্রবাহ কমে যেতে থাকে। ধীরে ধীরে পলি জমে নদীটি মরা খালে পরিণত হয়। বর্তমানে উপজেলার পাঁচপাকিয়া থেকে শুরু করে বিপ্রবোয়ালিয়া হয়ে পারবিশা পর্যন্ত নদীর বুকে দিগন্তজোড়া ফসলের মাঠ তৈরি হয়েছে, যা দেখতে অনেকটা সমতল ভূমির মতো মনে হয়।
বিপ্রবোয়ালিয়া গ্রামের কৃষক গোলাম মোস্তফা ও জিল্লুর রহমান বলেন, আগে এই নদীতে সারা বছর পানি থাকত, জাল ফেললে প্রচুর মাছ পাওয়া যেত। এখন পানি না থাকায় আমরা পেটের তাগিদে বোরো ধান ও অন্যান্য ফসলের আবাদ করছি। একই এলাকার কৃষক আব্দুল মজিদ ও ওহিদুর রহমান আক্ষেপ করে বলেন, নদীটি মরে যাওয়ায় ঐতিহ্য যেমন হারিয়েছে, তেমনি জীববৈচিত্র্যও হুমকির মুখে পড়েছে। নদীটি পুনখনন করে এর স্বাভাবিক গতিপথ ফিরিয়ে দেয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।