রাজশাহীর বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালুর দাবিতে স্মারকলিপি

Printed Edition

রাজশাহী ব্যুরো

রাজশাহীতে শিশুমৃত্যুরোধ, সহজলভ্য ও সুচিকিৎসা নিশ্চিতে অবিলম্বে বিশেষায়িত রাজশাহী শিশু হাসপাতাল চালু ও অতি সংক্রামক রোগ ‘হাম’ প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, ‘স্বাধীন ও স্থায়ী স্বাস্থ্য কমিশন’ গঠনসহ ৫ দফা দাবিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা: এস আই এম রাজিউল করিম বরাবর পৃথক স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে। রোববার দুপুরে বরেন্দ্র অঞ্চলের যুব ও উন্নয়ন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর বৃহৎ ঐক্য বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের পক্ষ এ স্মারকলিপি দেয়া হয়। রাজশাহীর সিভিল সার্জনের পক্ষে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা: মোসা: মাহবুবা খাতুন।

স্মারকলিপির অনুলিপি প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব, ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালক, রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার, পরিচালক (স্বাস্থ্য), রাজশাহী, ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক, রাজশাহী জেলা প্রশাসক এবং রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক বরাবর পাঠানো হয়।

এ সময় লেখক এবং নদী ও পরিবেশ গবেষক মাহবুব সিদ্দিকীসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। স্মারকলিপিতে বলা হয়, চিকিৎসা অন্যতম একটি মৌলিক অধিকার। কিন্তু তারপরও দেশব্যাপী সহজলভ্য ও সুচিকিৎসার অভাবে প্রতিনিয়ত প্রচুর মানুষ মৃত্যুমুখে পতিত হচ্ছে। এভাবে শিশুরাও অকালে প্রাণ হারাচ্ছে। আইসিইউ সেবার অপ্রতুলতার কারণ গত ১১ মার্চ থেকে ২২ মার্চের মধ্যে ১১ দিনে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউয়ের অপেক্ষায় থাকা ৩৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আইসিইউ সেবা পেলে শিশুগুলো বেঁচেও যেতে পারত। স্মারকলিপিতে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো- রাজশাহীর বিশেষায়িত ২০০ শয্যার ‘রাজশাহী শিশু হাসপাতালটি’তে অবিলম্বে পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা চালু করা; রাজশাহীসহ দেশব্যাপী অতি সংক্রামক রোগ হামের বিস্তার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা; অসুস্থদের সহজলভ্য ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা; রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। সব অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা যেমন- চিকিৎসকের অবহেলা-অনুপস্থিতি, দালালের দৌরাত্ম্য, রোগীদের ভোগান্তি নিরসন করা; রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা সেবার মান উন্নয়ন করা। আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম অন্তর্ভুক্তকরণসহ আইসিইউ কমপ্লেক্সের অনুমোদন ও হাসপাতালে ভর্তি রোগীর ১০ শতাংশের জন্য আইসিইউ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা; একটি ‘স্বাধীন ও স্থায়ী স্বাস্থ্য কমিশন’ গঠন করাসহ ‘স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশন’ এর সুপারিশগুলো অবিলম্বে বাস্তবায়ন করা।