খনিজ সম্পদের সরবরাহ চেইন গড়তে এডিবির নতুন অর্থায়ন
কোরিয়া, যুক্তরাজ্য ও জাপান ৫২ কোটি ১৬ লাখ ডলার দেবে
Printed Edition
বিশেষ সংবাদদাতা
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোকে পরিচ্ছন্ন শক্তি, ব্যাটারি, বৈদ্যুতিক যানবাহন এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তুলতে সাহায্য করার জন্য একটি নতুন অর্থায়ন ব্যবস্থা চালু করেছে। এডিবি জানায়, ক্রিটিক্যাল মিনারেলস-টু-ম্যানুফ্যাকচারিং ফাইন্যান্সিং পার্টনারশিপ ফ্যাসিলিটি নামের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য অঞ্চলটিকে শুধু খনি উত্তোলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রক্রিয়াকরণ, উৎপাদন এবং রিসাইক্লিংয়ের মতো উচ্চ-মূল্যের শিল্পে নিয়ে যাওয়া। এটি প্রকল্প প্রস্তুতি, নীতি সংস্কার ও সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগে সহায়তা করবে। কোরিয়া, যুক্তরাজ্য ও জাপান মিলে দেবে ৫২ কোটি ১৬ লাখ ডলার।
রোববার উজবেকিস্তানের সমরকন্দে এডিবির ৫৯তম বার্ষিক সম্মেলনে এই উদ্যোগের ঘোষণা দেন সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট মাসাতো কান্দা। ঢাকা অফিস থেকে পাঠানো এক বার্তায় এই তথ্য জানানো হয়।
প্রেসিডেন্ট মাসাতো কান্দা এই বিষয়ে বলেন, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো শুধু কাঁচামালের উৎস হয়ে থাকবে না। বরং এই খনিজ থেকে সৃষ্ট কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি ও ভ্যালু-অ্যাডিশনের সুফলও যেন এ অঞ্চলের মানুষ পায় তা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি জানান, এই সুবিধার লক্ষ্য হলো একটি দায়িত্বশীল সরবরাহ চেইন গড়ে তোলা। যাতে উন্নয়নশীল সদস্য দেশগুলো উন্নত উৎপাদন খাতে প্রতিযোগিতা করতে পারে। সেই সাথে নিজেদের দেশেই নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।
এডিবি জানায়, এই অর্থায়ন সুবিধার দু’টি অংশ রয়েছে। একটি হলো অনুদান উইন্ডো, যা প্রকল্পের প্রাথমিক কাজ যেমন সম্ভাব্যতা যাচাই, পরিবেশগত ও সামাজিক মূল্যায়ন এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করবে। জাপান সরকার এখানে দুই কোটি ডলার এবং যুক্তরাজ্য সরকার ১৬ লাখ ডলার প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
অন্যটি হলো ক্যাটালিটিক ফাইন্যান্স উইন্ডো। এটি অংশীদারদের কাছ থেকে সহ-অর্থায়ন এবং ঝুঁকি ভাগ করে নেয়ার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। কোরিয়া এক্সিম ব্যাংক এবং কোরিয়ান ট্রেড ইন্স্যুরেন্স করপোরেশন প্রত্যেকে ৫০ কোটি ডলারের প্রাথমিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে।
এডিবি এরই মধ্যে ভারতের ব্যাটারি উৎপাদন, মঙ্গোলিয়ার ভূতাত্ত্বিক ডেটা ম্যাপিং, উজবেকিস্তানে এআই-চালিত ধাতু উৎপাদন এবং ফিলিপাইনের খনিজ খাতের নীতি সংস্কারে কাজ করছে। নতুন এই সুবিধাটি এডিবির ২০২৫ সালের খনিজসম্পদ কৌশলকে আরো বেগবান করবে। এই সুবিধার আওতায় সব প্রকল্পকে এডিবির কঠোর পরিবেশগত ও সামাজিক সুরক্ষা নীতিমালা এবং যথাযথ যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। এর মাধ্যমে এ অঞ্চলে অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রত্যাশা করছে এডিবি।