১২ অর্থনীতিবিদের বিবৃতি
তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ দ্রুত আইনে পরিণত করার দাবি
Printed Edition
বিশেষ সংবাদদাতা
জনস্বাস্থ্য রক্ষা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশকে দ্রুত আইনে রূপান্তরের দাবি জানিয়েছেন দেশের ১২ জন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ। গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে তারা সরকারের এই সময়োপযোগী উদ্যোগের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী অর্থনীতিবিদদের মধ্যে রয়েছেন- সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান, অধ্যাপক ড. নাজমা বেগম, অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান, অধ্যাপক ড. মাসুদা ইয়াসমিন, অধ্যাপক ড. রুমানা হক এবং অধ্যাপক ড. শাফিউন নাহিন শিমুলসহ ১২ জন প্রথিতযশা বিশেষজ্ঞ।
অর্থনীতিবিদরা বলেন, ২০০৫ সালে প্রণীত এবং ২০১৩ সালে সংশোধিত বর্তমান আইনটির কিছু দুর্বলতা দূর করে একে আরো শক্তিশালী ও যুগোপযোগী করা জরুরি। তারা অভিযোগ করেন, তামাক কোম্পানিগুলো ব্যবসায়িক স্বার্থরক্ষায় ‘রাজস্ব কমে যাওয়ার’ দোহাই দিয়ে সরকারকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তবে পরিসংখ্যান বলছে ভিন্ন কথা। ২০০৫ সালে আইন পাসের সময় তামাক খাত থেকে রাজস্ব ছিল দুই হাজার ৮৮৮ কোটি টাকা, যা গত ২০ বছরে ১৪ গুণ বেড়ে বর্তমানে ৪০ হাজার ৪১১ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ, তামাক নিয়ন্ত্রণ এবং কর বৃদ্ধি সত্ত্বেও রাজস্ব আয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে।
বিবৃতিতে তামাকের ভয়াবহ স্বাস্থ্যগত ও অর্থনৈতিক ক্ষতির চিত্র তুলে ধরে বলা হয়, দেশে প্রতিবছর তামাকজনিত রোগে প্রায় এক লাখ ৯৯ হাজার মানুষ মারা যান। পরোক্ষ ধূমপানে মৃত্যু হয় ২৫ হাজার মানুষের এবং ৬১ হাজার শিশু রোগাক্রান্ত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জন্স হপকিন্স ইউনিভার্সিটির গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৪ সালে তামাকজনিত স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ ছিল ৮৬ হাজার কোটি টাকা, যা এই খাত থেকে অর্জিত রাজস্বের দ্বিগুণেরও বেশি। এ ছাড়া তামাকজনিত রোগের চিকিৎসা খরচ মেটাতে গিয়ে প্রতি বছর দেশের প্রায় চার লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে তলিয়ে যাচ্ছে। নতুন নির্বাচিত সরকারের হাত ধরে তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশটি আইনে পরিণত হলে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক ক্ষতি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে অর্থনীতিবিদরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।