ট্রাইব্যুনালের স্বচ্ছতায় কোনো ছাড় নয় : চিফ প্রসিকিউটর
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করেছেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। ট্রাইব্যুনালের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করে এমন কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ড বা বিতর্কিত পদক্ষেপ কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না বলে সাফ জানিয়েছেন তিনি। গতকাল রোববার ট্রাইব্যুনালের অনৈতিক কর্মকাণ্ড অনুসন্ধানে গঠিত ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন। চিফ প্রসিকিউটর স্পষ্ট করেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী এই বিচার প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার সুযোগ নেই; তাই কোনো অপরাধী যেন পার না পায় এবং নির্দোষ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন তা নিশ্চিত করাই বর্তমান প্রসিকিউশন টিমের মূল লক্ষ্য।
সাম্প্রতিক সময়ে পদত্যাগ করা এক প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে জামিনের বিনিময়ে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রসিকিউশন টিমের কেউ কোনো প্রকার অনিয়মে জড়িত কি না, তা খুঁজে বের করাই এই কমিটির কাজ।
চিফ প্রসিকিউটরের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- প্রসিকিউটর আবদুস সোবহান তরফদার, নতুন নিয়োগ পাওয়া প্রসিকিউটর মার্জিনা রহমান মদিনা, মোহাম্মদ জহিরুল আমিন ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ল’ রিসার্চ অফিসার সিফাতুল্লাহ।
নানক-তাপসসহ ২৮ জনের অভিযোগ শুনানি ৮ এপ্রিল
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালীন মোহাম্মদপুরে ৯ জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক ও ঢাকা দক্ষিণ সিটির তৎকালীন মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য আগামী ৮ এপ্রিল দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। মামলার অন্য উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন তৎকালীন ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, প্রলয় কুমার জোয়ারদার ও বিপ্লব কুমার সরকার। অভিযোগ রয়েছে, আসামিদের উসকানি, প্ররোচনা ও প্রত্যক্ষ উপস্থিতিতেই ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো হয়েছিল।
হানিফের বিরুদ্ধে ফের সাক্ষ্য ৫ এপ্রিল
কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফসহ চারজনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ৫ এপ্রিল দিন ধার্য করেন। এখন পর্যন্ত এই মামলায় মোট ১৮ জন সাক্ষীর জবানবন্দী সম্পন্ন হয়েছে। চারজন আসামিই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানোর রায়: ৫৯১ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ
আশুলিয়ায় ছয়জনের লাশ পোড়ানোসহ সাতজনকে হত্যার ঘটনায় করা মামলার ৫৯১ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত উল্লেখ করেন, অভিযোগগুলো ভয়াবহ হলেও প্রধান পরিকল্পনাকারী হিসেবে কয়েকজন আসামির সংশ্লিষ্টতা প্রমাণে প্রসিকিউশন পর্যাপ্ত সাক্ষ্য দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এই মামলায় সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামসহ ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া রায়ে সাতজনকে যাবজ্জীবন এবং দু’জনকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।