ইফতারে গাজর

Printed Edition

ইফতারে ফলমূল এবং কাঁচাসবজির সালাদ রাখার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। ভাজাপোড়া খাবারের চেয়ে এ ধরনের খাবার অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর। এমন খাবার খেলে পেট ঠাণ্ডা থাকে।

গাজর তেমনই এক সবজি। সালাদ না করেও গাজর টুকরা করে খেয়ে নেয়া যায়। অনেকেই আবার কাঁচা গাজর খেতে পারেন না বলে সেদ্ধ গাজর খেয়ে থাকেন। কারণ কাঁচা গাজরের চেয়ে সেদ্ধ গাজর দ্রুত হজম হয়।

গাজরে থাকে বিটা ক্যারোটিন। গাজর যেভাবেই খাওয়া হোক না কেন, খাওয়ার পর আমাদের দেহে এই বিটা ক্যারোটিন থেকে তৈরি হয় ভিটামিন এ। তবে গাজর যদি সেদ্ধ করে বা ভাপিয়ে নেয়া হয়, তা থেকে ভিটামিন এ পাওয়া সহজ হয়। তবে কাঁচা খাওয়া হলেও যে ভিটামিন এ-র পরিমাণ খুব কম হয়, তা কিন্তু নয়।

অন্য দিকে ভিটামিন সি আবার উত্তাপে নষ্ট হয়ে যায়। তাই গাজর কাঁচা খেলেই আপনি এর ভিটামিন সি পুরোপুরি পাবেন। সেদ্ধ বা ভাপালে ভিটামিন সি নষ্ট হবে। গাজর কাঁচা খেলে এতে থাকা আঁশ আপনার পুরোপুরি কাজে আসবে। কোষ্ঠকাঠিন্য এড়ানো সহজ হবে। রমজান মাসে ভুল খাদ্যাভ্যাস বেছে নেয়ার কারণে কেউ কেউ কোষ্ঠকাঠিন্যে ভোগেন। তাই এই সময় আপনি কাঁচা গাজর খেতে পারেন।

পর্যাপ্ত আঁশ গ্রহণ করা হলে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হবে। রক্তের খারাপ কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণেও কাজে আসবে আঁশ। তবে সেদ্ধ করলে বা ভাপিয়ে নিলে আঁশের কার্যকারিতা তুলনামূলক কম হবে।

সব বিচারে গাজর কাঁচা খাওয়াই ভালো। তবে কাঁচা গাজর হজমে কারো কারো সমস্যা। তাই কাঁচা না খেয়ে অন্যভাবে খেলে যদি স্বস্তি পান, তবে সেটিই করুন। আর সেদ্ধ করতে গিয়ে ভিটামিন সি যদিও হারিয়ে যায়, তাতে বিশাল কোনো ক্ষতি নেই। কোনো টক ফল কাঁচা খেয়ে নিলেই ভিটামিন সি-এর চাহিদা পূরণ করে নিতে পারবেন। ইন্টারনেট।