গ্রিসে যাওয়ার প্রলোভন : ২৬ লাখ টাকা খুইয়ে দিশেহারা দুই যুবক

Printed Edition
bangla-2
গ্রিসে যাওয়ার প্রলোভন : ২৬ লাখ টাকা খুইয়ে দিশেহারা দুই যুবক

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা

গ্রিসে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে ২৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে এক আদম ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। প্রতারণার শিকার হয়ে বিদেশে গিয়ে অমানবিক নির্যাতন সহ্য করে অবশেষে প্রাণ নিয়ে দেশে ফিরেছেন সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার দুই যুবক- মো: শিহাব উদ্দিন ও মো: হাবিবুর রহমান।

ঘটনাটি উপজেলার বারুহাস ইউনিয়নের বিনসাড়া গ্রামে। ভুক্তভোগী শিহাব উদ্দিন পেঙ্গুয়ারি গ্রামের এবং হাবিবুর রহমান বিনসাড়া গ্রামের বাসিন্দা। অভিযুক্ত আদম ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম ও তার পুত্রবধূ জলি খাতুন একই গ্রামের বাসিন্দা।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গত ফেব্রুয়ারির শুরুতে গ্রিসে কাজের ব্যবস্থা করে দেয়ার আশ্বাস দিয়ে তাদের সাথে যোগাযোগ করেন জাহাঙ্গীর আলম ও জলি খাতুন। দরকষাকষির একপর্যায়ে দুই দফায় মোট ২৬ লাখ টাকা নেন তারা। পরে গত ৭ মার্চ ঢাকার বিমানবন্দর থেকে এক ব্যক্তির মাধ্যমে তাদের বিদেশে পাঠানো হয়।

শিহাব ও হাবিবুর জানান, গ্রিসে না নিয়ে তাদের লিবিয়ার বেনগাজি বিমানবন্দরে নামানো হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি জাকারিয়ার লোক পরিচয়ে তাদের নিয়ে নির্জন স্থানে একটি কক্ষে আটকে রাখে। একই কক্ষে আরো প্রায় ৪০ জনকে বন্দী করে রাখা হয়েছিল।

তাদের দাবি, সেখানে প্রায় ২০ দিন অনাহার-অর্ধাহারে রেখে দফায় দফায় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয় তাদের। একপর্যায়ে জনপ্রতি ১০ লাখ টাকা দাবি করে পরিবারের সাথে যোগাযোগের সুযোগ দেয়া হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা হুন্ডির মাধ্যমে জনপ্রতি সাত লাখ টাকা পাঠালে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়।

ভুক্তভোগী হাবিবুর রহমান জানান, মুক্তির পর লিবিয়ায় অবস্থানরত এক প্রবাসীর সহায়তায় আরো এক লাখ টাকা ব্যয় করে গত ৫ এপ্রিল দেশে ফেরেন তারা। তবে দেশে ফিরে এসেও তারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। নির্যাতনের স্মৃতি ভুলতে না পেরে রাতে ঘুমের মধ্যে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন বলে জানিয়েছেন স্বজনরা। এ ঘটনায় শিহাব উদ্দিন গত ১২ এপ্রিল তাড়াশ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার ওসি মো: হাবিবুর রহমান।

অভিযোগের বিষয়ে জলি খাতুন মুঠোফোনে বলেন, তিনি নিজে চার লাখ এবং তার শ্বশুর জাহাঙ্গীর আলম এক লাখ টাকা নিয়েছেন। সরাসরি গ্রিসে যাওয়া সম্ভব না হওয়ায় প্রথমে তাদের লিবিয়ায় পাঠানো হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। জলি খাতুন আরো বলেন, তারা উচ্চ বেতনের কাজ না পেয়ে দেশে ফিরে এসেছেন।

তাড়াশ থানার ওসি মো: হাবিবুর রহমান বলেন, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।