ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে ভারতের নীরবতায় শিবশঙ্কর মেননের প্রশ্ন
Printed Edition
ইনডিয়া টুডে
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হত্যাকাণ্ড এবং মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে ভারত সরকারের নীরবতার সমালাচনা করেছেন দেশটির সাবেক পররাষ্ট্র সচিব শিবশঙ্কর মেনন। ইনডিয়া টুডেকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ভারতের এই নীরবতা কোনো কৌশলগত পদক্ষেপ নয়; বরং এটি কূটনৈতিক নীরবতার একটি ধারাবাহিক প্রবণতার অংশ, যা বৈশ্বিক পরিসরে নয়াদিল্লির কথার গুরুত্ব ‘কমিয়ে দিতে পারে’।
মেনন বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বড় বৈশ্বিক সঙ্ঘাতের সময় নয়াদিল্লি প্রকাশ্যে স্পষ্ট কোনো অবস্থান নেয়া এড়িয়ে গেছে। তার মতে, যখন ভারতের স্বার্থ সরাসরি জড়িত থাকে, তখন নীরবতাকে কোনো কৌশল হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায় না।
‘‘গত পাঁচ বছরে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনকে ‘আগ্রাসন’ বলতে অস্বীকৃতি জানানো থেকে শুরু করে গাজায় ইসরাইলি হত্যাকাণ্ডেরর বিষয়ে জাতিসঙ্ঘের প্রস্তাবে বিরত থাকা পর্যন্ত বড় বড় প্রায় সব ইস্যুতে আমরা নীরব থাকার পথ বেছে নিয়েছি।’’
এমন অবস্থান ভারতের কূটনৈতিক প্রভাবকে ‘দুর্বল করছে’ মন্তব্য করে সাবেক এই কূটনীতিক বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত এটা আপনার কথার মূল্য কমিয়ে দেয়। আপনি যদি সবসময় নীরব থাকেন, মানুষ আপনাকে আর গুরুত্ব দিয়ে শোনে না, কারণ তারা আপনার কথা না শুনতে অভ্যস্ত হয়ে যায়।’ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার কয়েক দিন পর ভারতের নিন্দা জানানো প্রসঙ্গে মেনন বলেন, এই বিলম্ব তার কাছে ‘ব্যাখ্যাতীত’ মনে হয়েছে।
তার ভাষায়, ‘আপনার প্রতিবেশী অঞ্চলের একটি স্বীকৃত রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধানকে অবৈধভাবে হত্যা করার পর আমাদের নীরব থাকা, নিন্দা না করা, এমনকি সমবেদনাও না জানানো এবং পাঁচ দিন পরে প্রধানমন্ত্রী বা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বদলে পররাষ্ট্র সচিবকে পাঠানো- সত্যি বলতে এটা আমার কাছে ব্যাখ্যাতীত।’
প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সময় ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করা মেনন বলেন, ‘ভারত যদি নীরব থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখে, তাহলে এই সঙ্ঘাতে কোনো ভূমিকা রাখার প্রত্যাশাও করতে পারে না। আমার কাছে এটি সত্যিই ব্যাখ্যাতীত। এখানে আমাদের নিজস্ব স্বার্থ আছে এবং আমাদের নিজের পক্ষে কথা বলা উচিত। মুখ বন্ধ রাখা কোনো কৌশল নয়, বিশেষ করে যখন এতে এমন ধারণা তৈরি হয় যে আপনি পরোক্ষভাবে আক্রমণকারীদের পক্ষ বেছে নিচ্ছেন।’
নীরবতাকে কৌশলগত রাষ্ট্রনীতি হিসেবে দেখা যেতে পারে কি না- প্রশ্নের জবাবে সাবেক এই পররাষ্ট্র সচিব দ্বিমত পোষণ করেন। তিনি বলেন, ‘যেখানে আপনার স্বার্থ সরাসরি জড়িত এবং যার প্রভাব তাৎক্ষণিকভাবে পড়বে, সেখানে আমি এটিকে কোনো কৌশল হিসেবে দেখি না।’ তার মতে, তেলের দাম বাড়লে তাৎক্ষণিকভাবে ভারতের ওপর প্রভাব পড়ে। একইভাবে সার সরবরাহ কমে গেলে তার প্রভাবও দ্রুত দেখা দেয়।
‘আপনি দেখছেন, সারা দেশে এলপিজি সরবরাহ কমে যাচ্ছে। এসব ঘটনার প্রভাব সাথে সাথে পড়ে। তাহলে এই পরিস্থিতিতে নীরবতা কিভাবে কৌশল হতে পারে?’ মেনন বলেন, ‘আমার কাছে এই যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়’। তার ভাষ্য, ভারতের অতীতের সরকারগুলো এমন পরিস্থিতিতে নীরব থাকেনি। স্বল্পমেয়াদি চরণ সিং সরকারের সময়ও সোভিয়েত ইউনিয়ন আফগানিস্তানে আগ্রাসন চালালে ভারত প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল।