রাঙ্গাবালীতে রাস্তার কাজ শেষ না হতেই উঠে যাচ্ছে পিচ

Printed Edition

রফিকুল ইসলাম, রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী)

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) আওতাধীন একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত মানদণ্ড উপো করে কাজ সম্পন্ন, নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার এবং পর্যাপ্ত তদারকির অভাবে কাজ শেষ হওয়ার আগেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে যাচ্ছে এবং সড়কে কোথাও কোথাও ফাটল ধরেছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, কাজ শেষ হওয়ার আগেই সড়কের বিভিন্ন অংশে পিচের স্তর দুর্বল হয়ে পড়েছে। কোথাও হাত দিয়ে টান দিলেই পিচ উঠে আসছে। এতে সরকারি অর্থ ব্যয়ে নির্মিত সড়কের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে এবং জনমনে ােভের সৃষ্টি হয়েছে।

এলজিইডির প্রকল্প নথি অনুযায়ী, বাহেরচর বাজার থেকে নেতা বাজার নাদু প্যাদা বাড়ি পর্যন্ত প্রায় তিন দশমিক ৫১ কিলোমিটার সড়কের পর্যায়ক্রমিক রণাবেণ কাজের জন্য ৭৮ লাখ ৬৫ হাজার ২৮২ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। প্রকল্পে রাস্তার বেস প্রস্তুত, পাথরের খোয়া বিছানো, প্রাইম কোট, ট্যাক কোট, ২৫ মিলিমিটার পুরু কার্পেটিং এবং তার ওপর ১৫ মিলিমিটার সিল কোট দেয়ার কথা ছিল। নথিতে উল্লেখ রয়েছে, ২৫ মিলিমিটার কার্পেটিংয়ের জন্য প্রায় ৩৯ লাখ ৩৫ হাজার টাকা এবং ১৫ মিলিমিটার সিল কোটের জন্য প্রায় ১৭ লাখ সাত হাজার টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। তবে বাস্তবে অনেক স্থানে নির্ধারিত পুরুত্ব বজায় রাখা হয়নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয়দের দাবি, পিচ ঢালাইয়ের সময় পর্যাপ্ত বিটুমিন ব্যবহার না করায় রাস্তার উপরিভাগ শক্তভাবে বসেনি। ফলে নতুন নির্মিত সড়কের বিভিন্ন অংশে সামান্য চাপেই পিচ উঠে যাচ্ছে। পরিমাপে দেখা গেছে, যেখানে ১৫ মিলিমিটার সিল কোট থাকার কথা, সেখানে অনেক স্থানে তা ১০ থেকে ১২ মিলিমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। এছাড়া প্রকল্প অনুযায়ী রাস্তার দুই পাশে এজিং বা সাইড ড্রেসিং করার কথা থাকলেও অনেক স্থানে সেই কাজ অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। এতে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে সড়কের স্থায়িত্ব নিয়ে আশঙ্কা আরো বেড়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পুরো কাজের সময়জুড়ে এলজিইডির কোনো প্রকৌশলী বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নিয়মিত তদারকি করতে দেখা যায়নি। বিশেষ করে পিচ ঢালাই ও সিল কোটের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজের ধাপে কোনো প্রকৌশলীর উপস্থিতি ছিল না বলেও দাবি করছেন তারা।

স্থানীয় বাসিন্দা রাসেল মৃধা বলেন, রাস্তার অবস্থা এমন যে, ‘পা দিয়ে চাপ দিলেই পিচ উঠে আসে। ভারী যানবাহন চললে দুই দিনও টিকবে না।’

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম এস জিয়াউল অ্যান্ড ব্রাদার্সের কেয়ারটেকার আইয়ুব গাজী দাবি করেন, তারা নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করেছেন। তিনি বলেন, ‘উপজেলা প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান পারিবারিক কারণে বাইরে আছেন। পুরনো রাস্তার সাথে সমন্বয় করতে গিয়ে কোথাও সামান্য তারতম্য হতে পারে। রোলারের চাপেও কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে।’ এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের অনুপস্থিত পাওয়া যায়। অফিস সহায়ক জানান, উপজেলা প্রকৌশলী পারিবারিক কারণে বাইরে রয়েছেন। উপসহকারী প্রকৌশলী (এসও) আরিফ হোসেনের অবস্থান সম্পর্কেও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরের সাথে যোগাযোগ করে তদন্ত সাপেে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

স্থানীয়দের দাবি, সরকারি অর্থ ব্যয়ে নির্মিত এ সড়কে নিম্নমানের কাজ হলে অল্প সময়ের মধ্যেই তা নষ্ট হয়ে জনদুর্ভোগ বাড়াবে। সচেতন মহলের মতে, সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রকল্পটির কাজ নিরপেভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া জরুরি।