সংসদ শেষে ব্রিফিংয়ে বিরোধীদলীয় নেতা

সরকারি দল বিশ^াস ভঙ্গ করেছে

Printed Edition

সংসদ প্রতিবেদক

সরকারি দল বিশ^াস ভঙ্গ করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান।

গতকাল জাতীয় সংসদের অধিবেশন থেকে ওয়াকআউটের পর এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। ডা: শফিকুর রহমান বলেন, জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদে উত্থাপন করা হয়। ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে এগুলো পাস করার নিয়ম রয়েছে। এগুলো নিয়ে স্পিকার সরকারদলীয় এমপি জয়নুল আবেদীনকে প্রধান করে একটি কমিটি করা হয়। যাতে বিরোধী দলের সদস্যও ছিল। কিন্তু বিরোধী দলের সদস্য ছাড়াই প্রথম মিটিংয়ে সরকারদলীয় সদস্যরা সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছে। সেখান থেকেই সমস্যা শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, সংসদে সবগুলো অধ্যাদেশ উপস্থাপন করা হয়নি। শুক্রবারও সংসদ বসেছে। আজ শেষ দিন ছিল। আমরা সবগুলোর বিলের জন্য অপেক্ষায় ছিলাম। এর মধ্যে গণভোট অধাদেশ, গুম কমিশন, মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ কমিশন, পিএসসি কমিশনসহ অনেকগুলো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপন না করায় ল্যাপস হয়ে গেছে। তারা বলছে পরে উত্থাপন করা হবে। কিন্তু তারা আজকের সংসদেই যখন এগুলো উপস্থাপন করল না তখন তারা বিশ^াস ভঙ্গ করেছে। তাদের ওপর আমাদের আর আস্থা নেই।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেছেন তিনিও সংশোধনী বিষয়ে আগে জানেন না। তাহলে কে জানে? তাহলে কোন জায়গা থেকে কলকাঠি নাড়ানো হচ্ছে?

ডা: শফিকুর রহমান বলেন, সংসদে বিলের ব্যাপারে অন্তত একদিন আগে কাগজপত্র দেয়ার কথা। কিন্তু আমাদের সংসদে বসে একের পর এক বস্তা বস্তা কাগজপত্র সরবরাহ করা হয়েছে। সেগুলো আমরা পড়ে দেখারও সময় হয়নি। তাহলে আমরা কিভাবে মতামত দেবো?

তিনি বলেন, ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে যেগুলো তাদের পক্ষে যায় সেটি তারা পাস করছে। জাতির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।

ডা: শফিকুর রহমান বলেন, জাতীয় নির্বাচন নিয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেছেন জুলাই আন্দোলনের ক্যাপ্টেনের হাতে ড. মুহাম্মদ ইউনূস লন্ডনে গিয়ে ট্রফি দিয়ে এসেছেন। ট্রফি যদি ওখানেই দিয়ে থাকেন তাহলে কিসের নির্বাচন? তাহলে তো নির্বাচনের ভাগ্য অন্তরালে ঠিক করে জাতিকে ব্লাকমেইল করা হয়েছে।

তিনি বলেন, অতীতে অনেক সরকার নিজেরাই এ ধরনের অনেক বিলে পাত্তা দেয়নি পরে আবার নিজেরাই সেই বিষয়টি সংসদে আনতে বাধ্য হয়েছে। এই সরকারও এক সময় সঠিক জায়গায় আসবে আশা করি। অতীতে এভাবে অনেকে আসতে বাধ্য হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা জাতির অধিকারের বিষয়ে চুল পরিমাণ ছাড় দেবো না। সংসদে সুবিচার পাইনি। রাজপথে জনগণকে নিয়ে এই দাবি আদায় করে ছাড়ব ইনশা আল্লাহ। সব দাবি আদায় হবে। এজন্য যত ত্যাগ স্বীকার করতে হয় তা আমরা করব। অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চলবে।

এক প্রশ্নের জবাবে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, তারা সবগুলো বিল সংশোধনে আনেনি। নির্ধারিত সময় শেষ করে দেয়ার অপকৌশল নিয়েছে তারা। এ জন্যই আমরা ওয়াকআউট করেছি।

এর আগে বিরোধীদলীয় চিফ হুইফ নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা সংসদের অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছি। আমরা সম্পূর্ণ সময় থাকার চেষ্টা করেও পারিনি। সংবিধান সংস্কার পরিষদ থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের অনেক জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো বিলে পরিণত করাসহ অনেকগুলো বিষয়ে বিএনপি সরকার ওয়াদা ভঙ্গ করেছে। জুলাই স্মৃতি জাদুঘর বিল আইনে পরিণত করা নিয়ে ওয়াদা ভঙ্গ হয়েছে। ৯৮টি অধ্যাদেশ ছিল যেগুলো নিয়ে সবাই ঐকমত্য ও সমঝোতা হয়েছিল। কয়েকটাতে নোট অব ডিসেন্ট ছিল। সব আলোচনা করে আমরা পাস করার বিষয়ে একমত হই এবং সংসদে পাস করা হয়। আজকে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর বিল নিয়ে কাউকে না জানিয়ে মাত্র আধা ঘণ্টা আগে সংশোধনী এনে পাস করা হয়েছে। এ ছাড়া আরো ১৬টি অধ্যাদেশ সংসদে উপস্থাপন না করে সরকার ওয়াদা ভঙ্গ করেছে।