আগডুম বাগডুম কবিতা গুলি
Printed Edition
ইরানী চাঁদ
আফসার নিজাম
শোন মা আগুন পাখি এসেছে পড়ার ঘরে
দূর থেকে উড়ে এসে পড়েছে টেবিল পরে
এক নিমিষে জ্বলে গেলো বই
- বলো না কেমন করে
জ্বলে গেলো খাতা চেয়ার টেবিল
- আর সেই গায়ের জামা
জ্বলে গেলো তুরিন সাফিন যায়েদ
- আর সে দফতির মামা
জ্বলে গেলো আমার প্রিয় শিক্ষক যারা
পড়াতো দরদ ভরে
- আগুনের জামা পরে
- কেনো গেলো তারা মরে
আমিওতো মা মরে গেছি জায়নবাদী বোমে
আমার কী দোষ! বলো, বিশ্ব কি আজ ঘুমে
ইশকুল আমার গুঁড়িয়ে গেছে দুঃখ তো নাই মোটে
দুঃখ আমার আর কোনো দিন
তোমার চুমু পাবো না এই ঠোঁটে
চিন্তা করো না মা জননী
বসরার গোলাপ বাগানে আমরা
ফুটবো গোলাপ হয়ে
সেদিন তোমার চুমু খাবো মা ইরানি চাঁদ হয়ে।
দুইটি ছানা
শামীম খান যুবরাজ
একটি পাখি
দুইটি ছানা
ছানার নরোম ছোট্ট ডানা
উড়তে গেলে তাইতো না না
উড়তে মানা
উড়তে মানা।
একটি পাখি
দুইটি ছানা
নরম ঠোঁটে গান হবে না
এই কথাটি মায়ের জানা
গাইতে মানা
গাইতে মানা।
একটি পাখি দুইটি ছানা
সবকিছুতে শুধুই না না।
ছোট্ট টুনটুনি
মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ
যদি দোয়েল পাখি গায়
যদি শ্যামা পাখি গায়
বনের টুনটুনি কেন টুনটুনিয়ে
সবারে জানায়?
টুন টুন টুন টুন ছোট্ট টুনটুনি
শুধু টুনটুনায়।
যদি ডাহুক উঠে ডাকি
গাছে জাগে ভোরের পাখি
হলদে পাখির লেজ ঝুলে
মৌটুসী মৌ-ফুল খুলে
জোশে মধু খায়।-ঐ
যদি দাঁড় কাকটা নায়
ময়না গয়না পরে গায়
ঝিঙে মাচায় ফিঙে নাচে
কালো কোকিল লুকিয়ে গাছে
মনের সুখে গায়।-ঐ
যদি ময়ূর নাচে ধুম তানা না
পাখি মেলে দূরে ডানা
বাবুই পাখি বুনে বাসা
জলাধারে মিটায় আশা
চাতক পিপাসায়।-ঐ
(বাফেলো, নিউ ইয়র্ক থেকে)
চাঁদ মামা
শেখ মিজানূর রহমান মিনু
চাঁদ মামাটা দুষ্টু বেজায়
দেয় না ঘরে আলো
তাইতো খোকন ভাত খাবে না
মুখ করেছে কালো।
চাঁদের বুড়ি নানি বুড়ি
ফোকলা দাঁতের হাসি
মাঝে মাঝে গোমড়া মুখো
সেটাও ভালোবাসি।
সুতো কাটো চরকি দিয়ে
তোমার নিপুণ হাতে
মেঘের সাথে লুকোচুরি
খেলো চাঁদনী রাতে।
তোমার ছেলে চাঁদ মামাটা
দুষ্টু কেন বলো
চাঁদনী রাতে ঘুম পরীটার
পাশে নিয়ে চলো
কি বললে, আর নেবে না
মুখ ফিরিয়ে নিলে?
আড়ি দেবো তখন দেখো
কানটা নেবে চিলে।
আমের দেশে
ফেরদৌস জামান খোকন
আয় রে সখি আয় রে সখা
আমের বনে যাই
মিষ্টি মধুর আমের গাছে
খেতে মজা পাই।
আসবি তোরা খাবো সবাই
মজা করে আম
ফলের রাজা আমের মজা
হরেক রকম নাম।
আসবি বলে আমার বাড়ি
বেঁধে সবাই দল
ফলের রাজা খেলে জানি
বাড়বে দেহে বল।
ইশকুল ছুটি তাইতো বলি
আয় রে ছুটে আয়
স্বাদের মজা লুটে নিতে
সময় বহে যায়।
জ্যৈষ্ঠমাসে মধুর রসে
আমার গাছের ফল
তোদের জন্য আমি বসে
আসবি কখন বল।
নাচছে ফড়িং
গোলাম আযম
নাচছে ফড়িং তিড়িং বিড়িং
তরু লতার গায়
রুপার পালক দেয় ছড়িয়ে
নূপুর পরে পায়!
হেলেদুলে তরুলতা
মন খুশিতে নাচে
পোকামাকড় খেতে ফড়িং
উঠে পড়ে গাছে।
লেজ নাড়িয়ে ইশারাতে
বলে এদিক আয়
শস্য ক্ষেতে পোকামাকড়
মজা করে খায়।
ফড়িং ছানার পালকেতে
থাকে রুপার রঙ
এদিক ওদিক উড়ে বেড়ায়
দেখায় কত ঢং।