যুদ্ধবিরতি শেষ হতেই ইউক্রেনে ২০০ ড্রোন ছুড়ল রাশিয়া
Printed Edition
আলজাজিরা
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় তিন দিনের যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার পরপরই রাশিয়া ও ইউক্রেন একে অপরের ওপর বিমান হামলা শুরু করেছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রাতভর ইউক্রেনজুড়ে ২০০টিরও বেশি ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া।
গতকাল মঙ্গলবার সকালে ইউক্রেনের নিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে রুশ বিমান হামলায় অন্তত একজন নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক প্রধান ওলেক্সান্ডার গানজা। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, রাশিয়ার ড্রোন হামলায় মাইকোলাইভ অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া কিয়েভ অঞ্চলে আবাসিক ভবন ও একটি কিন্ডারগার্টেন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খারকিভ, জাইটোমির, সুমি এবং চেরনিহিভ অঞ্চলেও হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে বলেন, দূরপাল্লার ২০০টিরও বেশি ড্রোন এই হামলায় ব্যবহার করা হয়েছে। কয়েক দিনের সাময়িক নীরবতা রাশিয়া নিজেই শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ রাশিয়ার নতুন করে আক্রমণ শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘মানবিক যুদ্ধবিরতি শেষ হয়েছে এবং বিশেষ সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’ অন্য দিকে রাশিয়ার সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, বেলগোরোদ, ভোরোনেজ এবং রোস্তভ অঞ্চলে তারা ইউক্রেনের ২৭টি ড্রোন গুলি করে নামিয়েছে।
গত শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৭২ ঘণ্টার এই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিনি আশা করেছিলেন, এর মাধ্যমে ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানের সূচনা হবে। ৯ থেকে ১১ মে পর্যন্ত চলা এই যুদ্ধবিরতির সময়কাল রাশিয়ার বিজয় দিবসের (দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানির পরাজয় উদযাপন) সাথে মিলে গিয়েছিল। তবে যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার আগেই উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলার অভিযোগ তোলে। জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়া যুদ্ধবিরতি পালন করেনি, এমনকি চেষ্টাও করেনি। অন্য দিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে, ইউক্রেন এক হাজারেরও বেশিবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে এবং সম্মুখ সমরে হামলা চালিয়েছে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন আলোচনা এখন পর্যন্ত খুব একটা এগোতে পারেনি। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরাইল যুদ্ধের সঙ্কটের কারণে এই বিষয়টি আড়ালে পড়ে গেছে। তবে গত শনিবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন প্রথমবারের মতো ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, যুদ্ধ শেষ হয়ে আসছে। তিনি একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর পর জেলেনস্কির সাথে মস্কো বা কোনো নিরপেক্ষ দেশে দেখা করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। যদিও তিনি পশ্চিমাদের ঔদ্ধত্যের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়ে রাশিয়ার কৌশলগত বাহিনীকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। পুতিনের এই মন্তব্যের বিষয়ে মঙ্গলবার পেসকভ বলেন, যুদ্ধ শেষের সুনির্দিষ্ট সময় নিয়ে কথা বলা এখনই সম্ভব নয়। তবে শান্তি প্রক্রিয়ার যে ভিত্তি তৈরি হয়েছে, তাতে বলা যায় যে সমাপ্তি কাছেই। কিন্তু এই মুহূর্তে কোনো সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ বলা সম্ভব নয়।