ভালুকায় গণপিটুনিতে নিহত দীপুর পরিবারের দায়িত্ব নেবে সরকার : শিক্ষা উপদেষ্টা
Printed Edition
ময়মনসিংহ অফিস
শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি আর আবরার বলেছেন, কিছু দুষ্কৃতকারী গোষ্ঠী দেশে বিভাজন সৃষ্টি ও অস্থিরতা উসকে দেয়ার চেষ্টা করছে। এসব অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে হবে। এ ধরনের সহিংসতার বিরুদ্ধে আইনি পূর্ণ শক্তি প্রয়োগ করা হবে। প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশে দীপু চন্দ্র দাসের বাবা-মাসহ পরিবারের দায়িত্ব সরকার গ্রহণ করবে বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, একটা ঘটনা ঘটেছে, এখন পরিবারের কী চাহিদা, তাদের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া। এ ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসন সহযোগিতা করবে।
ময়মনসিংহের ভালুকায় ধর্ম নিয়ে কটূক্তির কথিত অভিযোগে পোশাক কর্মী দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে হত্যার পর পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনার পরিবারের খোঁজ নিতে এসে গতকাল সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন শিক্ষা উপদেষ্টা।
এ সময় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। কান্নায় ভেঙে পড়েন দীপুর পরিবারের সদস্যরা। শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সান্ত্বনা দিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন শিক্ষা উপদেষ্টা। পরে সাংবাদিকদের বলেন, এ ধরনের বিভিন্ন রকমের সম্প্রদায়গত সমস্যা সৃষ্টির জন্য একটি চক্র সুযোগ নেবে। কিন্তু মিডিয়া, বৃহত্তর সমাজ ও রাষ্ট্রকে সজাগ থাকতে হবে। যেন এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, দুর্বলের ওপর যেন আর অত্যাচার না হয়। সেটি নিশ্চিত করতে হবে।
নির্বাচন প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, গণতান্ত্রিক উত্তরণের যে পথ আমরা জাতি হিসেবে নির্দিষ্ট করেছি, আমরা অতি দ্রুত নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এবং কালক্ষেপণ না করে সেই পথেই এগোতে চাই। ‘সরকার নির্বাচনের ব্যাপারে অঙ্গীকারবদ্ধ। যত রকমের অপচেষ্টা হোক না কেন, এসব ঘটনা নির্বাচন বানচালে কোনো প্রকার প্রভাব ফেলবে না। নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতেই হয়তো এসব করা হচ্ছে। কিন্তু সেই চাপে নতি স্বীকার করার ইচ্ছা সরকারের নেই। সব সমস্যা ও সঙ্কট নিরসনে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে উত্তরণ ঘটাতে পারবে। জাতি হিসেবে আমরা সবাই এটাই প্রত্যাশা করি। একই সাথে সরকারও অঙ্গীকারবদ্ধ।’
এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রেজা মো: গোলাম মাসুম প্রধান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আব্দুল্লাহ আল মামুন, তারাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার ভূমি এস এম নাজমুস ছালেহীনসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাবিতে আন্তর্জাতিক সম্মেলন শুরু
ঢাবি প্রতিনিধি জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গতকাল মঙ্গলবার ‘ডিকলোনাইজেশন অ্যান্ড মওলানা ভাসানী’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন শুরু হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড রিসার্চ ইন আর্টস অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেস (কারাস) এ সম্মেলনের আয়োজন করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে কারাসের পরিচালক অধ্যাপক ড. আশফাক হোসেনের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে উদ্বোধনী অধিবেশন শুরু হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার (সি আর আবরার)। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কারাসের চেয়ারম্যান ও ইমিরিটাস অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউনিভার্সিটি অব ব্রুনাই দারুসসালামের সহযোগী অধ্যাপক ড. ইফতেখার ইকবাল।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি আর আবরার বলেন, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী কেবল একজন রাজনৈতিক নেতা নন; তিনি ছিলেন জনতার বিবেক, নৈতিকতার প্রতীক এবং সাম্রাজ্যবাদবিরোধী দূরদৃষ্টি রাষ্ট্রচিন্তক। তিনি বলেন, ভাসানীর রাজনীতি ছিল দরিদ্র কৃষক, শ্রমজীবী ও নিপীড়িত মানুষের পক্ষে দাঁড়ানো রাজনীতি। ক্ষমতার রাজনীতির চেয়ে জনতার রাজনীতিকেই তিনি অগ্রাধিকার দিয়েছেন।
তিনি আরো বলেন, ভাসানী রাজনৈতিক স্বাধীনতাকে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, সাংস্কৃতিক মর্যাদা ও মানবিক সম্মানের সাথে অবিচ্ছেদ্যভাবে দেখতেন। এ কারণেই তিনি পাকিস্তানি শাসনব্যবস্থার বৈষম্য খুব আগেই অনুধাবন করতে পেরেছিলেন এবং ১৯৫৭ সালে ঐতিহাসিক ‘আসসালামু আলাইকুম’ উচ্চারণ করেন। তার কাছে শিক্ষা ছিল চেতনার জাগরণ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস সৃষ্টির মাধ্যম।
সভাপতির বক্তব্যে ইমিরিটাস অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, মওলানা ভাসানী ছিলেন আজীবন সংগ্রামরত সমাজবিপ্লবী ও দূরদর্শী রাষ্ট্রচিন্তক। নদী, কৃষক, শ্রমিক ও প্রান্তিক মানুষের প্রশ্নকে তিনি রাজনীতির কেন্দ্রে এনেছেন। ভাসানীর রাজনীতি ছিল সাম্য, সামাজিক মালিকানা ও গণতান্ত্রিক সমাজতান্ত্রিক রূপান্তরের রাজনীতি। আজকের বৈশ্বিক সঙ্কটের প্রেক্ষাপটে তার চিন্তাধারা মানবমুক্তির পথনির্দেশ করে।
স্বাগত বক্তব্যে অধ্যাপক ড. আশফাক হোসেন বলেন, ঔপনিবেশিক শাসন, পুঁজিবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে মওলানা ভাসানীর সংগ্রাম উপমহাদেশের কৃষক আন্দোলনে অনন্য ভূমিকা রেখেছে। তার রাজনৈতিক অবদান নতুন করে মূল্যায়ন জরুরি। উদ্বোধনী অধিবেশন শেষে মওলানা ভাসানীর জীবন ও সংগ্রামভিত্তিক একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।
আজ সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে ভাসানীর বিশ্বদর্শন, রাজনৈতিক চিন্তা ও বি-উপনিবেশায়ন প্রক্রিয়ায় তার ভূমিকা নিয়ে প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি ‘ফিরে দেখা ফারাক্কা লংমার্চ’ শীর্ষক একটি বিশেষ পর্যালোচনা অধিবেশনও অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।