রাজশাহী মেডিক্যালের পরিচালককে ফাঁসি দেয়া উচিত: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

Printed Edition
3rd-1
ঢাকায় শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে সোসাইটি অব সার্জনস অব বাংলাদেশ আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো: সাখাওয়াত হোসেন : পিআইডি

নিজস্ব প্রতিবেদক

ভেন্টিলেটর নেই বলে গত ১১ দিনে ৩৩ শিশুর মৃত্যুর দায়ে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালককে ফাঁসি দেয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো: সাখাওয়াত হোসেন। তিনি গতকাল শনিবার শাহবাগের শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে সোসাইটি অব সার্জনস অব বাংলাদেশের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ব্যক্তি উদ্যোগে ওষুধ কোম্পানির সহায়তায় তিনটি ভেন্টিলেটর কিনে দেয়ার ব্যবস্থা হচ্ছে, আরো দু’টি দেয়া হবে। এর ব্যাখ্যা হিসেবে তিনি বলেন, সরকারি উদ্যোগে দ্রুত ভেন্টিলেটর কিনে দেয়া সম্ভব নয়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী দেশের চিকিৎসা খাতকে এগিয়ে নিতে চিকিৎসকদের সহযোগিতা চেয়ে বলেন, সবাই সমন্বিতভাবে এগিয়ে এলে সততা ও নিষ্ঠার সাথে লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে। অন্যথায় এত বিশাল স্বাস্থ্য খাতের তত্ত্বাবধান করা অত্যন্ত কঠিন।

চিকিৎসকদের পেশাগত আচরণ ও নৈতিকতা (মেডিক্যাল এথিকস) নিয়ে কথা বলতে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসকদের ওপর রোগীদের ভরসা অনেক। তাই তাদেরকে আচরণ, কথা ও সেবায় আরো দায়িত্বশীল হতে হবে। নতুন চিকিৎসাপদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চিকিৎসকদের নিয়মিত পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণের ওপর তাগিদ দিয়ে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আপনাদের প্রতিনিয়ত জ্ঞান অর্জন করতে হবে। প্রবীণ চিকিৎসকদের কাছ থেকে শিখতে হবে এবং বিশ্বের নতুন চিকিৎসাপদ্ধতি সম্পর্কে জানতে মেডিক্যাল জার্নালগুলো পড়তে হবে।

তিনি বলেন, ‘অনেকসময় পত্রিকায় দেখি, অস্ত্রোপচারের পর রোগীর পেটের ভেতর সুতা রেখে দেয়া হয়েছে এমনকি কাঁচিও। পরে ব্যথায় রোগী কষ্ট পান। এগুলো কেন হয়? চিকিৎসকরা যখন অতিরিক্ত ক্লান্ত থাকেন বা খুব বেশি ব্যস্ত থাকেন, তখন কাজে মনোযোগ দিতে পারেন না। এই বিষয়গুলো চিকিৎসকদের খেয়াল রাখতে হবে।’

সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমি আজকের এই প্রোগ্রামে এসেছি শুধু একটি কথা বলতে যে, আমি জাতির সেবার জন্য আপনাদের সহযোগিতা চাই, আমার জন্য নয়। আমি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়টাকে সম্পূর্ণরূপে দুষ্কৃতিমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত করতে চাই। সন্ত্রাস মানে মারামারি না, কলমের সন্ত্রাস, সিদ্ধান্তের সন্ত্রাস। আমাদের ডাক্তারদের যেন আপনাদের সহযোগিতায় একটি সম্মানিত জায়গায় নিয়ে যেতে পারি। আর এটা করা মানে বাংলাদেশের আঠারো কোটি মানুষের উপকার করা। স্বাস্থ্যমন্ত্রী তার বক্তব্যে সম্প্রতি জলাতঙ্ক রোগের ভ্যাকসিন নিয়ে ব্যবস্থাপনা, সম্প্রতি বেড়ে যাওয়া হাম রোগ মোকাবেলায় প্রস্তুতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে সরকার গৃহীত ব্যবস্থা ও পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

সোসাইটি অব সার্জনস অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা: মো: মনির হোসেন খানসহ প্রখ্যাত সিনিয়র ও জুনিয়র চিকিৎসকরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।