‘দক্ষ জনশক্তি-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ’ গড়তে উন্নয়ন পরিকল্পনা – ৩

ঝিমিয়ে পড়া কারিগরির গতি ফেরাতে শিক্ষকের শূন্যপদ পূরণের উদ্যোগ

শাহেদ মতিউর রহমান
Printed Edition

দেশের বিভিন্ন কারিগরি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকের অনেক পদ দীর্ঘদিন ধরেই শূন্য। ফলে নানা সঙ্কটের মধ্যে শিক্ষকদের এই শূন্যপদের কারণে গতি হারিয়েছিল এসব প্রতিষ্ঠান। তবে গত ১৬ বছরের অচলাবস্থা কাটাতে কারিগরি এসব প্রতিষ্ঠানের শূণ্য পদ পূরণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইতঃমধ্যে বিভিন্ন পদে ৩ হাজারের বেশি শূণ্যপদে শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে পূর্বেকার অচলাবস্থার কিছুটা হলেও অবসান করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সম্প্রতি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এবং সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজগুলোতে ৪৩তম বিসিএস (ক্যাডার এবং নন ক্যাডার) হতে ১৩১ জন এবং সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে ২৮৮১ জন অর্থাৎ ৯ম ও ১০ম গ্রেডের মোট ৩০১২ জন শিক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। এ ছাড়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এবং সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজগুলোয় ৯ম গ্রেডের ১৪৮ জন শিক্ষক আগামী ১ জুলাই কারিগরি শিক্ষা অধিদফতরে যোগদান করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে শূণ্য পদগুলো পূরণের জন্য অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় গতি আনতে সরাসরি কিংবা পিএসসির মাধ্যমেও জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। পলিকেটনিক ইনস্টিটিউট এবং সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজে সরাসরি নিয়োগযোগ্য ৫৩৩টি ক্যাডার পদ, ৪৭২টি নন ক্যাডার পদসহ মোট এক হাজার ৫টি পদ ৪৪তম, ৪৫তম এবং ৪৬তম বিসিএস থেকে পূরণের জন্য প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এর মধ্যে ৪৪তম বিসিএস থেকে ৪৫৮ জন, ৪৫তম বিসিএস থেকে ৪৭৮ জন এবং ৪৬তম বিসিএস থেকে ৫৭ জন এবং ৪৭তম থেকে ১২টি পদ পূরণের বা নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

অপর দিকে শুধু শিক্ষক নিয়োগই নয়, নিয়োগকৃত শিক্ষকদের পদোন্নতি দেয়ার জন্য নতুনভাবে প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। ইতঃমধ্যে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ পদে দু’জন, উপাধ্যক্ষ পদে ১৩ জন এবং চিফ ইনস্ট্রাক্টর পদে ১৪ জন, ইঞ্জনিয়ারিং কলেজের সহকারী অধ্যাপক পদে ১৪ জন, টেকনিক্যাল টিচার্স ট্রেনিং কলেজের জন্য সহকারী অধ্যাপক পদে ৩ জন, টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের জন্য অধ্যক্ষ পদে ১৯ জন, এবং চিফ ইনস্ট্রাক্টর পদে ৩ জনসহ মোট ৬৮ জনকে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে।

সূত্র আরো জানায়, টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের জন্য অধ্যক্ষ, চিফ ইনস্ট্রাক্টর, ইনস্ট্রাক্টর, জুনিয়র ইনস্ট্রাক্টর পদের ৮০৪ জন শিক্ষক/ কর্মকর্তাকে ভূতাপেক্ষভাবে উচ্চতর গ্রেড দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি পলিকেটনিক ইনস্টিটিউটের বিভিন্ন গ্রেডের ২৬৮ জন শিক্ষক কর্মকর্তাকে উচ্চতর গ্রেড এবং অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ পদে পদোন্নতির প্রস্তাব পাওয়া গেছে। শিগগিরই এসব পদে পদোন্নতি কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগ সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকদের শূণ্য পদ এবং অনেক পদের বিপরীতে কোনো প্রকার পদোন্নতি না থাকায় কারিগরি সেক্টরে একটা স্থবিরতা বা অচলাবস্থা চলে আসছিল। কিন্তু বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্বে আসার পর নতুন করে সব কিছু সাজানো হচ্ছে। অনেক পদে নতুন করে নিয়োগ এবং অনেক পদে শিক্ষকদের পদোন্নতিও দেয়া শুরু হয়েছে। এতে কারিগরি শিক্ষা সেক্টরে গতি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।