একাই যা লড়লেন মুমিনুল

বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে টেস্ট

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনায় যখন গোটা ক্রীড়াঙ্গন ব্যস্ত, ঠিক তখনই চার বছর পর জিম্বাবুয়ের মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমেছে বাংলাদেশ দল। গতকাল একমাত্র টেস্টে একসময় মনে হচ্ছিল, হারারের উইকেটে লড়াই করার মতো একটি সংগ্রহ গড়বে বাংলাদেশ। মুমিনুল হক ও নাজমুল হোসেন শান্তর জুটিতে সেই স্বপ্নও দেখাচ্ছিল সফরকারীরা। কিন্তু মুমিনুলের বিদায়ের পর যেন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে ব্যাটিং লাইনআপ। মাত্র ২৭ রান যোগ করতেই শেষ ৮ উইকেট হারিয়ে ১৪০ রানেই থেমে যায় বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস!

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তাদের মাটিতে বাংলাদেশের পথচলা সুখকর নয়। বিশেষ করে টেস্টে। সবশেষ ২০২৫ সালে টেস্ট সিরিজে ১-১ সমতা। ২০২২ সালের জুলাই-আগস্টে সর্বশেষ জিম্বাবুয়ে সফরে ওয়ানডে সিরিজে ২-১ ব্যবধানে হেরেছিল টাইগাররা। টি-২০ সিরিজের ফলও ছিল একই ২-১ ব্যবধানে জিম্বাবুয়ের জয়। গত ২৫ বছরে জিম্বাবুয়ের মাটিতে হওয়া ৯ ওয়ানডে সিরিজের মধ্যে বাংলাদেশ জিতেছে মাত্র তিনটি। বাকি ছয় সিরিজেই আধিপত্য দেখিয়েছে জিম্বাবুয়ে। অন্য দিকে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত টি-২০ বিশ্বকাপের পর এটিই হবে জিম্বাবুয়ের প্রথম আন্তর্জাতিক সিরিজ। তাই নিজেদের মাঠে নতুন করে শুরু করার লক্ষ্য ছিল তাদের। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এক টেস্ট, তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-২০ খেলবে টাইগাররা। টেস্ট দিয়েই কি জিম্বাবুয়ে তাদের মিশন শুরু করছে।

হারারে টেস্টের প্রথম ইনিংসের প্রথম দিনে ভয়াবহ ব্যাটিং ধসে সর্বনাশ বাংলাদেশের। মুমিনুল হক ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর দায়িত্বশীল জুটিতে বড় সংগ্রহের আশা জাগলেও তাদের বিদায়ের পর মাত্র ২৭ রানের ব্যবধানে শেষ ৮ উইকেট হারিয়ে ১৪০ রানেই অলআউট সফরকারীরা। ৪৭.২ ওভার ব্যাটিং করে সব ক’টি উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

ইনিংসের শুরুটা ছিল হতাশার। ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয় মাত্র দুই রান করে বিদায় নেন। নিউম্যান নিয়ামহুরির বলে রক্ষণাত্মক শট খেলতে গিয়ে উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। বলটি গ্লাভসে লেগেছিল নাকি শরীরের অন্য কোথাও, তা স্পষ্ট না হলেও জোরালো আবেদনের পর আউটের সিদ্ধান্ত দেন আম্পায়ার। এই সিরিজে ডিআরএস না থাকায় সিদ্ধান্তটি চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ পাননি জয়। হতাশ হয়েই মাঠ ছাড়তে হয় তাকে।

এরপর সাদমান ইসলামকে সাথে নিয়ে ইনিংস মেরামতের চেষ্টা করেন মুমিনুল। সাদমান ২০ রান করে ফিরলেও মুমিনুল ও শান্ত মিলে ৭৭ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে বাংলাদেশের ইনিংসকে স্থিতিশীল করেন। লাঞ্চের পরও দু’জন সাবলীল ব্যাটিং চালিয়ে যান। ৮১ বলে ৬০ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলেন মুমিনুল, যেখানে ছিল আত্মবিশ্বাসী ও পরিণত ব্যাটিংয়ের ছাপ। তবে দলের ১১৩ রানের মাথায় মুমিনুল আউট হওয়ার পরই বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে বাংলাদেশ।

অপর প্রান্তে থাকা শান্তও ৭৩ বলে ১৯ রান করে ১২৫ রানের মাথায় ফিরে গেলে প্রতিরোধ পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। শীর্ষ চার ব্যাটারের বাইরে আর কেউ দুই অঙ্কের ঘর স্পর্শ করতে পারেননি। মুশফিকুর রহীম ২১ বলে ৯, তৌহিদ হৃদয় ১৬ বলে তিন এবং অমিত হাসান ১৫ বলে চার রান করেন। শেষ দিকে ব্যাটারদের আসা-যাওয়ার মিছিলেই দ্রুত গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। জিম্বাবুয়ের নিউম্যান নিয়ামহুরি চারটি উইকেট শিকার করেন। এ ছাড়া ব্লেসিং মুজারাবানি, রিচার্ড এনগারাভা ও ব্র্যাড ইভান্স দু’টি করে উইকেট নিয়ে শেষ করে দেন বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ!

জবাবে ১ম ইনিংসে জোরালো এবং আত্মবিশ্বাসী শুরু কর স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে। ৯৮ বলে ৮৯ রানের জুটি গড়েন কাইয়া ও বেন কারান। ১৬তম ওভারে বেন কারানকে ভুগিয়েছেন তাইজুল ইসলাম। পরের ওভারে ওভারে সিøপে ধরা পড়েন বাঁ হাতি ওপেনার। অফ স্টাম্পের বাইরের স্কিড করা ডেলিভারিতে খোঁচা মারেন কারান। সিøপে ক্যাচ নেন নাজমুল হোসেন শান্ত। ৫১ বলে পাঁচ চারে ৪২ রান করে ফিরেন কারান। ১৭ ওভারে জিম্বাবুয়ের রান এক উইকেটে ৯১। ক্রিজে ইনোসেন্ট কাইয়ার সাথী ব্রেন্ডন টেইলর।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস : ৪৭.২ ওভারে ১৪০/১০ (জয় ২, সাদমান ২০, মুমিনুল ৬০, শান্ত ১৯, মুশফিক ৯, হৃদয় ৩, অমিত ৪, তাইজুল ৯, হাসান ০, খালেদ ০, ইবাদত ০*; এনগারাভা ২/১৮, মুজারাবানি ২/১৯, নিয়ামহুরি ৪/৬১, ইভান্স ২/৩০)।

জিম্বাবুয়ে ১ম ইনিংস : ৩৪ ওভারে ১৩৬/১