ভিজিএফের তালিকা নিয়ে দলাদলি, দর্শনায় চাল না পেয়ে কাঁদলেন গরিবরা

Printed Edition

দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) সংবাদদাতা

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা পৌরসভায় ভিজিএফের চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে চরম বিশৃঙ্খলা ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের অন্তর্দ্বন্দ্ব, স্বজনপ্রীতি ও তালিকা প্রণয়নে জটিলতায় অনেক প্রকৃত দুস্থ ও অসহায় মানুষ চাল না পেয়ে কেঁদে বাড়ি ফিরেছেন। অন্যদিকে, অনেক সচ্ছল ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীর নাম তালিকায় থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ৯টি ওয়ার্ডের তিন হাজার ৮৫ জন সুবিধাভোগীর জন্য মোট ৩০ হাজার ৮৫০ কেজি চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। গত বুধ ও বৃহস্পতিবার চারপি ওয়ার্ডে বিতরণ কার্যক্রম চললেও গত ১৫ মার্চের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়া শেষ করার কথা। তবে বিতরণস্থলে গিয়ে দেখা যায় হাহাকার। তালিকায় নাম না থাকায় অনেক বৃদ্ধা ও স্বামীপরিত্যক্তা নারী শূন্য হাতে ফিরে যাচ্ছেন। ইসারন নেছা নামের এক বৃদ্ধা অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, আমার কেউ নেই, ভিক্ষা করে চলি। অথচ কার্ড পেলাম না। একই অভিযোগ ভ্যানচালক নিয়াজ উদ্দিনসহ অসংখ্য মানুষের।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যকার রাজনৈতিক মতবিরোধ ও প্রভাব খাটানোর কারণে তালিকা তৈরিতে নয়ছয় হয়েছে। নিয়ম রক্ষার জন্য দুই দলের প্রতিনিধি নিয়ে সভা করা হলেও বাস্তবে তারা নিজেদের স্বজন ও পরিচিতদের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি কেরু অ্যান্ড কোম্পানির চাকরিজীবী ও বাজারের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীরাও ভিজিএফের চাল পেয়েছেন। বিতরণের সময় এক নারী ১৭টি কার্ড নিয়ে চাল তুলতে এলে পৌর কর্তৃপক্ষ তা জব্দ করে।

দর্শনা পৌর বিএনপির সমন্বয়ক হাবিবুর রহমান বুলেট বলেন, প্রতিনিধিদের মাধ্যমেই তালিকা করা হয়েছে। কোনো সচ্ছল ব্যক্তি চাল পেয়ে থাকলে তা সংশ্লিষ্টদের ভুল। অন্যদিকে, দর্শনা পৌর জামায়াতের আমির শাইকুল ইসলাম অপু অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমাদের দলের কেউ স্বজনপ্রীতি করেনি।

এ বিষয়ে দর্শনা পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহিন আলম বলেন, কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানান, সচ্ছলদের নাম থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে।