মুস্তাফা জামান আব্বাসীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মারক বক্তৃতা অনুষ্ঠিত
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
লোকসঙ্গীতশিল্পী ও গবেষক মুস্তাফা জামান আব্বাসীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে স্মারক বক্তৃতা অনুষ্ঠিত হয়। কাঠপেন্সিল সাহিত্য সংসদ এবং ইন্টেলেকচুয়াল রিসার্চ সেন্টারের (আইআরসি) যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন।
স্মারক বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক, লোকগবেষক ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. ওয়াকিল আহমদ। তিনি আব্বাসীর জীবন, কর্ম ও লোকসঙ্গীতে তার অবদান সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। প্রধান অতিথি ছিলেন দেশবরেণ্য সঙ্গীতজ্ঞ শেখ সাদী খান। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সঙ্গীতশিল্পী ফাতেমাতুজ জোহরা, লেখক ও গবেষক অনুপম হায়াৎ, গীতিকার ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব কবি জাকির আবু জাফর এবং সঙ্গীতশিল্পী ও লেখক শারমিনী আব্বাসী।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন কাঠপেন্সিল সাহিত্য সংসদের সভাপতি সীমান্ত আকরাম। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আইআরসির সভাপতি মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন।
বক্তারা বলেন, মোস্তফা জামান আব্বাসী একাধারে সুমধুর কণ্ঠশিল্পী ও প্রায় অর্ধশত গ্রন্থের প্রণেতা। লোকসঙ্গীতকে জনপ্রিয় করে তুলতে তিনি দীর্ঘ দিন টেলিভিশনের মাধ্যমে প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। সম্পূর্ণ একক উদ্যোগে লোকসঙ্গীত নিয়ে যে মান ও পরিমাণের কাজ তিনি করেছেন, তা প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তাসম্পন্ন বাংলা একাডেমি ও এশিয়াটিক সোসাইটির মতো প্রতিষ্ঠানের পক্ষেও একই মাত্রায় সম্পাদন করা সম্ভব হয়নি। বাংলার লোকসঙ্গীতে তার অবদান অনন্য ও অতুলনীয়। উল্লেখ্য, মুসলিম রেনেসাঁর অন্যতম প্রেরণাদায়ী ব্যক্তিত্ব আব্বাসউদ্দিন আহমদের সুযোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে মোস্তফা জামান আব্বাসী লোকসঙ্গীতকেই নিজের সাধনার ক্ষেত্র হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন।
অনুষ্ঠানে আব্বাসীকে স্মরণ করে সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পী আবুবকর সিদ্দিক ও ইয়াসমিন মুশতারী এবং আবৃত্তি পরিবেশন করেন শরীফ বায়জীদ মাহমুদ ও সীমা ইসলাম। অনুষ্ঠানের শেষে রঞ্জন মল্লিক নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘ভাওয়াইয়া শিল্পী মোস্তফা জামান আব্বাসী’ প্রদর্শিত হয়।