ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলায় নিহত ১৭
Printed Edition
রয়টার্স
রাশিয়া ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও অন্য শহরগুলোতে চলতি বছরের সবচেয়ে মারাত্মক হামলা চালিয়েছে, এতে ১২ বছরের এক শিশুসহ অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোররাতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে চালানো এসব হামলায় আরো বহু মানুষ আহত হয়েছে, জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
মেয়র ভিটালি ক্লিটসকো জানিয়েছেন, রাজধানী কিয়েভে এক শিশুসহ চারজন নিহত হয়েছে। ভোররাতে বেশ নিচু দিয়ে উড়ে আসা একটি ড্রোন ১৮ তলা এক ভবনে আঘাত হানে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কিয়েভজুড়ে চালানো হামলায় অন্তত ৬০ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে জরুরি বিভাগের চার কর্মী ও দ্ইু পুলিশ কর্মকর্তাও আছেন।
রাতে এসব হামলার পর কিয়েভের বিভিন্ন এলাকায় আগুন ধরে যায় ও ঘন কালো ধোঁয়ায় আকাশ ছেয়ে যায়। সকালে উদ্ধারকাজ চলার সময়ও চারদিকে পোড়া গন্ধ ছড়িয়ে ছিল। দক্ষিণে কৃষ্ণসাগরীয় বন্দর নগরী ওদেসায় একই সময় চালানো হামলায় আটজন নিহত ও আরো ২৬ জন আহত হয়। এখানে একটি সুউচ্চ আবাসিক ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। আঞ্চলিক গভর্নর জানিয়েছেন, হামলায় ওদেসা বন্দর ও নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর পাশাপাশি সকালে এক বাজারে চালানো আরেকটি হামলায় আরো তিনজন আহত হয়।
দনিপ্রোর আঞ্চলিক গভর্নর ওলেক্সান্দর হানঝা জানিয়েছেন, দনিপ্রো নগরীতে বুধবার সন্ধ্যায় ও পরে রাতে হামলা চালানো হয়, এতে চারজন নিহত ও আরো ৩০ জন আহত হয়েছে। হামলায় এখানে আবাসিক ভবনগুলোতে আগুন ধরে যায়। ওই অঞ্চলে আরেকটি হামলায় আরো এক ব্যক্তি নিহত হয়। উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ইউক্রেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভে ড্রোন হামলায় দু’জন আহত হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ইউক্রেনের উপপ্রধানমন্ত্রী ওলেক্সি কুলেবা জানিয়েছেন, উদ্ধার অভিযান চলমান আছে আর মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।
মস্কো জানিয়েছে, ইউক্রেনের বাহিনীগুলোর ব্যবহৃত বিদ্যুৎ স্থাপনা, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎপাদন কেন্দ্রে ‘ব্যাপক’ হামলা চালিয়েছে তারা।
ইউক্রেনের ড্রোন বাহিনীর কমান্ডার জানিয়েছেন, রাশিয়ার অধিকৃত ক্রাইমিয়া ও দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর তুয়াপসের অবকাঠামোগুলোতে আঘাত হেনেছে ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনী। রাশিয়ার গণমাধ্যম ও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গুরুত্বপূর্ণ কৃষ্ণসাগরীয় বন্দর তুয়াপসে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় ১৪ বছরের এক কিশোরীসহ দু’জন নিহত ও আরো সাতজন আহত হয়েছে। এ সময় বড় ধরনের এক অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত্র হয়। তুয়াপসে রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগার এলাকা আর এই বন্দর দিয়ে তেল, কয়লা ও সার রফতানি করে দেশটি।