কালিগঙ্গা সেতুর সংযোগ সড়কে ধস, ঝুঁকিতে লক্ষাধিক মানুষ
Printed Edition
আল-আমিন হোসাইন নাজিরপুর (পিরোজপুর)
নির্মাণের মাত্র আট বছরের মাথায় পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কালিগঙ্গা সেতুর সংযোগ সড়ক (অ্যাপ্রোচ রোড) ধসে পড়েছে। বর্ষার শুরুতেই সড়কটির এই ভয়াবহ ভাঙনে চরম ঝুঁকিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারের উদ্যোগ না নিলে চলতি বর্ষা মৌসুমে পুরো সড়কটি নদীতে বিলীন হয়ে নাজিরপুর ও বৈঠাকাঠা অঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নির্মাণকাজের শুরু থেকেই চরম খামখেয়ালি ও দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছিল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। নিয়ম অনুযায়ী সড়কের অ্যাপ্রোচে পর্যাপ্ত পরিমাণে শক্ত মাটি ব্যবহার করার কথা থাকলেও, লাভবান হওয়ার জন্য সস্তায় ভিট বালু দিয়ে কোনোমতে রাস্তাটি উঁচু করা হয়েছিল। মজবুত প্রতিরক্ষা বাঁধ ছাড়াই নির্মিত হওয়ায় বর্তমান বর্ষার শুরুতেই বালু ধসে রাস্তাটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।
উপজেলার অধিকাংশ জনগোষ্ঠীর নদী পারাপারের একমাত্র মাধ্যম এই কালিগঙ্গা সেতুটি ২০১৮ সালে উদ্বোধনের পর থেকেই এই অঞ্চলের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখছে। প্রতিদিন এই সেতু পার হয়ে যাতায়াত করে ডাব, কলা, নারিকেল, সুপারি ও সবজি বোঝাই শত শত পণ্যবাহী ট্রাক এবং যাত্রীবাহী পরিবহন। বিকল্প কোনো সড়ক না থাকায় জেলা শহরের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখতে অতিদ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। তবে সড়কের এমন ভয়াবহ ধসের পরও এলজিইডি বিভাগের কোনো তৎপরতা চোখে পড়েনি। এ ব্যাপারে নাজিরপুর এলজিইডি কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
যোগাযোগের এই চরম সঙ্কটের বিষয়ে পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী বলেন, আমি ইতোমধ্যেই এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী ও উপজেলা প্রকৌশলীর সাথে কথা বলেছি এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে রাস্তা সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছি। এই মুহূর্তে চাহিদামাফিক বড় বরাদ্দ না থাকায় সাময়িকভাবে জিও ব্যাগ ফেলে ক্ষতিগ্রস্ত জায়গার ভাঙন রোধ করা হবে। পরবর্তীতে বরাদ্দ প্রাপ্তিসাপেক্ষে অতিদ্রুত ভেঙে পড়া রাস্তা কার্পেটিং করাসহ স্থায়ীভাবে অন্য সব কাজসম্পন্ন করা হবে।