গুনাহ মুক্তি ও ক্ষমার মাস রমজান : মীযান মুহাম্মদ হাসান

Printed Edition

মাহে রমজান গুনাহ মাফের মাস। ক্ষমার মাস। গুনাহ বর্জন ও নেকি অর্জনের মাস। সব ধরনের গুনাহ ও অন্যায় থেকে বিরত থাকার সঠিক অনুশীলনের উপযুক্ত সময় এই রমজান মাস। পাপাচার থেকে সংযম অবলম্বন করার মাস রমজান। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন- ‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রমজানের সিয়াম পালন ফরজ করা হয়েছে। যেমনটি ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর। যাতে তোমরা তাকওয়া-খোদাভীতি অর্জন করতে পারো।’ (সূরা বাকারা-১৮৩)

তাকওয়া এটি আরবি শব্দ। যার অর্থ- খোদাভীতি, ধার্মিকতা, পরহেজগারিতা- ইত্যাদি। বাস্তবে যিনি আল্লাহকে ভয় করেন, তার মধ্যেই আল্লাহভীতি আছে। তিনি ধার্মিক। আল্লাহর বিধান মেনে তিনি হালাল বিষয়ে আমল করেন। হারাম বিষয় থেকে নিজেকে বিরত রাখেন। পরহেজ করেন, এমন কার্যাবলিকে পরহেজগারিতা বলে। আর সারকথা হচ্ছে- যার মধ্যে আল্লাহর ভয় থাকবে। তিনি কখনো কারো সম্পদ লুট করবেন না। কারো জায়গা জমি দখল করবেন না। কাউকে গালমন্দ করা। হত্যা করা। জুলুম করা। কারও টাকা পয়সা আত্মসাৎ করা। এ জাতীয় কোনো ধরনের অন্যায় আচরণ তার থেকে প্রকাশ পাবে না। বাবা-মা, ভাইবোন, স্ত্রী-সন্তান, আত্মীয়, প্রতিবেশী- কারো কোনো হক বা অধিকারও তিনি নষ্ট করবেন না। তিনি হবেন আমানতদার। সর্বোচ্চ সৎ মানুষ। এটিই হলো তাকওয়ার বাস্তবতা। এরই নাম সংযম তথা গুনাহ বর্জন করা। আল্লাহ ভীতি অর্জন করা। সহি বুখারি ও মুসলিমের বিশুদ্ধ বর্ণনা মতে, এ মাসে যেহেতু শয়তানকে বন্দী করে রাখা হয়। এজন্য মানুষ এ মাসে ইবাদত পালনের অনেক বেশি সুযোগ পায়। ফলে গুনাহ বর্জন সহজ হয়। গুনাহের কাজ হতে বিরত থাকে। আর এটা তার স্বভাবে পরিণত হয় খুব সহজে। যার ফলে তার মধ্যে তাকওয়া অর্জন করা সহজ হয়। হাদিসে প্রিয়নবী মুহাম্মদ সা: বলেন, ‘রমজানের প্রতি দিনে ও রাতে আল্লাহ তায়ালার কাছ থেকে বহু বান্দা মুক্তি লাভ করে। তাদের (বান্দার) প্রত্যকের দোয়া কবুল হয়।’ (মুসনাদে আহমদ) এ জন্য আমাদের সবার উচিত গুনাহ মাফ ও হেদায়েতের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা। নিজের হালাল প্রয়োজন আল্লাহর সামনে পেশ করা।

সহি মুসলিমের বর্ণনায় এসেছে। রাসূল সা: বলেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সাওয়াব লাভের আশায় রমজানের সিয়াম পালন করে। তার আগের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়।’ একইভাবে সুনানে নাসায়ির বর্ণনায় এসেছে উপর্যুক্ত বর্ণনার সাথে, ‘যে ব্যক্তি রমজানের রাতে আল্লাহর ইবাদতে নামাজে দাঁড়ায়। তার আগের গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়। এমনকি সেই বান্দা গুনাহমুক্ত নিষ্পাপ নবজাতকের মতো নবজীবন লাভ করে।’

এ জন্য আমাদের প্রত্যেকের জন্য জরুরি কর্তব্য হলো, আমরা রমজানের পবিত্রতা রক্ষা করব। যাবতীয় গুনাহকে বর্জন করব। অন্যায় পাপাচার থেকে বিরত থাকব। তাওবা করে বিগত জীবনের জন্য ক্ষমা চাইব। বিশেষ করে প্রতিদিন এ মাসে বান্দার দোয়া কবুল হয়। ইফতারের সময় দোয়া কবুল হয়। ভোর রাতেও দোয়া কবুল হয়। এ জন্য এ সময়গুলো কাজে লাগানো জরুরি। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে ক্ষমা করুন। গুনাহ বর্জনের তাওফিক দান করুন। গুনাহ মুক্ত নিষ্পাপ জীবন দান করুন। আমিন।

লেখক : খতিব, ভবানীপুর মাইজপাড়া হক্কানি জামে মসজিদ, গাজীপুর