স্ট্রাইকার থেকে সংসদের স্পিকার

Printed Edition
Sports----1
স্পিকারের ভূমিকায় মেজর (অব:) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীরবিক্রম)

ক্রীড়া প্রতিবেদক

গতকাল সংসদ অধিবেশনে মেজর (অব:) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীরবিক্রম) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। সংসদ পরিচালনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই পদে বসার মধ্য দিয়ে রাজনীতির দীর্ঘ পথচলায় নতুন দায়িত্ব পেলেন ৮১ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ।

যদিও মেজর হাফিজের জীবনের প্রথম পরিচিতি হয়েছিল ফুটবল মাঠে। ফুটবল মাঠে গোল করে যে মানুষ একসময় দর্শকদের উল্লাসে ভাসিয়েছেন, এখন সেই মানুষই সংসদের অধিবেশনে শৃঙ্খলা ও আলোচনার ছন্দ ঠিক রাখার দায়িত্বে। খেলাধুলা, যুদ্ধ, প্রশাসন ও রাজনীতির বহু বাঁক পেরিয়ে মেজর (অব:) হাফিজ উদ্দিন আহমদের স্পিকারের আসন যেন সব ক্রীড়াবিদের আরো একটি আস্থার জায়গা।

পাকিস্তান জাতীয় দল ও ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের হয়ে স্ট্রাইকার হিসেবে খেলেছেন। গতি, গোল করার ক্ষমতা, দক্ষতা ও নেতৃত্ব গুণ তাকে দ্রুতই ফুটবল অঙ্গনে আলাদা পরিচিতি দেয়। দেশের ঘরোয়া ফুটবলে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে দীর্ঘদিন অধিনায়কত্ব করেছেন। মাঠে তার উপস্থিতি মানেই প্রতিপক্ষের জন্য বাড়তি চাপ ছিল। তিনি শুধু গোলদাতাই ছিলেন না, সতীর্থদের জন্য ছিলেন অনুপ্রেরণার উৎসও।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়ার কারণে ফুটবল ক্যারিয়ারে সাময়িক ছেদ পড়লেও স্বাধীনতার পর তার অবদান স্বীকৃতি পায় নানা ভাবে। বীরত্বের জন্য পান ‘বীরবিক্রম’ খেতাব এবং ১৯৭৩ সালে অর্জন করেন জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার। একজন মুক্তিযোদ্ধা, সেনা কর্মকর্তা এবং ফুটবলার, এই তিন পরিচয় তার ব্যক্তিত্বকে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা। খেলোয়াড়ি জীবনে তিনি শুধু ফুটবলারই নন, ছিলেন একজন সফল অ্যাথলেটও। জাতীয় অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে একাধিকবার দ্রুততম মানব হয়েছিলেন। স্বাধীনতার আগে পূর্ব পাকিস্তানে ১০০ মিটার স্প্রিন্টে তার দাপট ছিল সুপরিচিত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে খেলার সময় তিনি ‘ব্লু’ পদকও অর্জন করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দল-ঢাকা ওয়ান্ডারার্স-মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবে খেলেছেন। স্বাধীনতার পর ঢাকা প্রথম বিভাগ ফুটবলে এক ম্যাচে ডাবল হ্যাটট্রিক করেছিলেন। পাকিস্তান আমলে যখন বাঙালি খেলার সুযোগ পেত না তখন হাফিজ পাকিস্তান জাতীয় দলের হয়ে খেলেছিলেন। এত সাফল্যের পরও স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় দলে খেলতে না পারা তার জীবনের আক্ষেপ। ঘরোয়া লিগে মোহামেডানের হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার কৃতিত্বও ছিল।

খেলোয়াড়ি জীবন শেষে সংগঠক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন হাফিজ। বাফুফে সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি, দুই পদেই দায়িত্ব পালন করেছেন। এএফসির সহসভাপতি ও ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটির সদস্যও। সাবেক ফুটবলারদের সংগঠন সোনালী অতীত ক্লাবের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতাও তিনি। ২০০৪ সালে বাংলাদেশের শতাব্দীর সেরা ফুটবলব্যক্তিত্ব হিসেবে ফিফা অর্ডার অব মেরিট পুরস্কার পান তিনি। নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে ক্রীড়াঙ্গনের চেয়ে রাজনীতিতে বেশি সময় দিতে শুরু করেন।