ভেনিজুয়েলায় বেতন ও পেনশনের দাবিতে বিক্ষোভ

Printed Edition
onno-3
কারাকাসে বেতন ও পেনশন বৃদ্ধির দাবিতে বিক্ষোভকালে সরকার বিরোধীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ : ইন্টারনেট

আলজাজিরা

ভেনিজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে বেতন বৃদ্ধি ও সম্মানজনক পেনশনের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন শ্রমিক নেতা অবসরপ্রাপ্ত কর্মী এবং সরকারি খাতের কর্মচারীরা। বৃহস্পতিবার তারা দেশটির প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের ব্যাপক বাধার মুখে পড়েন।

গত জানুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো বন্দীওয়ার পর থেকেই ভেনিজুয়েলায় জীবনযাত্রার ব্যয় চরমভাবে বেড়েছে। এই বিক্ষোভের আগের দিনই ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ টেলিভিশনে দেয়া এক ভাষণে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়নে সরকারি ও বেসরকারি খাতের কর্মীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান। ভেনিজুয়েলার শ্রমিকদের বর্তমান মজুরি দিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় মৌলিক চাহিদা মেটানো বছরের পর বছর ধরে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বেশির ভাগ সরকারি কর্মচারী মাত্র ১৬০ ডলার বা তার কাছাকাছি আয় করেন যেখানে বেসরকারি খাতের কর্মীদের গড় আয় গত বছর ছিল প্রায় ২৩৭ ডলার। বিক্ষোভ মিছিল থেকে শ্রমিক নেতারা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে অবিলম্বে নির্বাচনের আয়োজন করে ক্ষমতা ছাড়ার দাবি জানান। তারা স্পষ্ট বলেন ১ মে সামান্য কয়েক ডলার বেতন বাড়িয়ে কোনো লাভ নেই তাদের এমন বেতন প্রয়োজন যা দিয়ে প্রয়োজনীয় পণ্য কেনার সক্ষমতা তৈরি হয়।

বৃহস্পতিবার ভোরে কারাকাস শহরের কেন্দ্রে বিক্ষোভকারীদের ঠেকাতে বিপুলসংখ্যক জাতীয় পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বেশ কয়েকবার বিক্ষোভকারীরা পুলিশের প্রাথমিক ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগিয়ে গেলেও পরে শক্তিশালী পুলিশি বেষ্টনী তাদের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের দুই কিলোমিটার দূরে আটকে দেয়। পুলিশের সাথে এই ধস্তাধস্তির ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত বা গ্রেফতারের খবর পাওয়া যায়নি। রদ্রিগেজ তার ভাষণে ১ মে শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো অঙ্কের কথা জানাননি। তিনি দাবি করেন এবারের বৃদ্ধি এমনভাবে করা হবে যাতে বাজারে মুদ্রাস্ফীতি না ঘটে। বর্তমানে ভেনিজুয়েলায় সর্বনিম্ন মজুরি মাত্র ১৩০ বলিভার বা মাসিক ০.২৭ ডলার যা ২০২২ সালের পর আর বাড়ানো হয়নি। এটি জাতিসঙ্ঘের নির্ধারিত চরম দারিদ্র্যসীমার চেয়েও অনেক নিচে। তবে বিভিন্ন বোনাস ও ভাতার মাধ্যমে সরকারি কর্মীরা মাসে ১৬০ ডলার পর্যন্ত পেয়ে থাকেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশজুড়ে অস্থিরতা আরো বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।