ধোবাউড়ায় ২০ বছর ধরে জরাজীর্ণ সেতু৩
প্রতিশ্রুতিতেই আটকে আছে ২০ হাজার মানুষের ভাগ্য
Printed Edition
ধোবাউড়া (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা
ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার দক্ষিণ মাইজপাড়া ও ঘোষগাঁও ইউনিয়নের সংযোগ সড়কটি এখন এলাকাবাসীর কাছে এক ‘মরণফাঁদ’। দীর্ঘ ২০ বছর ধরে এ সড়কের আটটি সেতু জরাজীর্ণ ও ভাঙা অবস্থায় পড়ে থাকলেও তা সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ফলে দুই ইউনিয়নের ১০টি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বছরের পর বছর পার হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি, স্থানীয়দের ভাগ্যে জুটেছে কেবল নির্বাচনের সময় দেয়া জনপ্রতিনিধিদের ফাঁকা প্রতিশ্রুতি।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঘোষগাঁও থেকে দক্ষিণ মাইজপাড়া ইউনিয়ন সংযোগ সড়কের গিলাগড়া ও বাকপাড়া গ্রামের মধ্যবর্তী সেতুটি ভেঙে বর্তমানে বিপজ্জনকভাবে ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে। উত্তর রানীপুর গ্রামের একটি সেতু তো অস্তিত্ব হারিয়ে মাটির সাথে মিশে গেছে। শুকনো মৌসুমে স্থানীয়রা খালের নিচ দিয়ে কোনো মতে হেঁটে পার হতে পারলেও বর্ষা এলেই চিত্র বদলে যায়। পানির স্রোতে তখন যাতায়াত পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। উত্তর রানীপুর থেকে সানখলা বাজার পর্যন্ত এক কিলোমিটারের মধ্যেই দু’টি সেতু ভেঙে ঝুলে আছে, যা যেকোনো সময় ধসে বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
কয়েকটি সেতুতে স্থানীয়রা নিজ উদ্যোগে স্লাব ও বাঁশের জোড়াতালি দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করছেন। কোথাও আবার সেতুতে ওঠার জন্য ব্যবহার করতে হচ্ছে বাঁশের মই। পণ্যবাহী কোনো গাড়ি বা অসুস্থ রোগীকে নিয়ে যাতায়াতের সময় চরম বিপাকে পড়তে হয়। অনেক ক্ষেত্রে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অন্যের সহযোগিতার জন্য অপেক্ষা করতে হয়। স্থানীয় বাসিন্দা মাসুদ করিম ও মজিবুল কাইয়ূম আক্ষেপ করে বলেন, নির্বাচন আসলে সবাই বড় বড় কথা বলে, কিন্তু আমাদের এ কষ্ট কেউ দেখে না। ছোট-বড় দুর্ঘটনা প্রতিদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দক্ষিণ মাইজপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর সরকার বলেন, অবহেলিত ও উন্নয়ন বঞ্চিত এ পাহাড়ি জনপদের যোগাযোগব্যবস্থা সচল করা জরুরি। তিনি দ্রুত এ সেতুগুলো পুনঃনির্মাণের দাবি জানান। ধোবাউড়া উপজেলা এলজিইডি অফিসের উপসহকারী প্রকৌশলী আরিফুর রহমান জানান, স্বল্প ব্যয়ে ব্রিজ নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় এ সেতুগুলো ইতিমধ্যে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও বরাদ্দ পেলে যত দ্রুত সম্ভব নির্মাণকাজ শুরু করা হবে। তবে সে ‘অনুমোদন’ কবে আসবে, সে অপেক্ষায় দিন গুনছেন অবহেলিত ১০ গ্রামের মানুষ।