উচ্ছেদের পরও দখলমুক্ত হয়নি ভুলতা-গাউছিয়া মহাসড়ক

সিন্ডিকেটের দাপটে বাড়ছে ভোগান্তি

Printed Edition
bangla-2
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দৃশ্য : নয়া দিগন্ত

শফিকুল আলম ভুঁইয়া রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ)

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ভুলতা-গাউছিয়া এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করতে গত তিন বছরে একাধিকবার উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও স্থায়ী সমাধান মিলছে না। স্থানীয়দের অভিযোগ, সঙ্ঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের দাপটে প্রশাসনের অভিযান ব্যর্থ হয়ে পড়ছে এবং উচ্ছেদের কয়েকদিনের মধ্যেই আবার ফুটপাথ ও সড়ক দখল হয়ে যাচ্ছে।

জুলাই ২০২৪ ও মার্চ ২০২৬ সালে প্রশাসন কয়েক দফা অভিযান চালিয়ে সড়কের দুই পাশের অবৈধ দোকানপাট, অস্থায়ী স্টল ও যানবাহনের স্ট্যান্ড উচ্ছেদ করে। অভিযানের সময় কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও অল্প সময়ের মধ্যেই আগের চিত্র ফিরে আসে। রাতের অন্ধকার কিংবা দিনের ব্যস্ত সময়ে আবার ফুটপাথ দখল করে বসানো হচ্ছে দোকানপাট। এতে মহাসড়কে তীব্র যানজট ও জনদুর্ভোগ নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, ভুলতা বাসস্ট্যান্ড থেকে গাউছিয়া মার্কেট পর্যন্ত মহাসড়কের দুই পাশে অসংখ্য ভাসমান দোকান, ফলের স্টল, পোশাক ও খাবারের অস্থায়ী দোকান বসানো হয়েছে। ফুটপাথ দখল হয়ে যাওয়ায় পথচারীরা বাধ্য হয়ে সড়ক দিয়ে চলাচল করছেন। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে, বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্কদের চলাচল হয়ে উঠেছে ঝুঁকিপূর্ণ। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীদের অভিযোগ, একটি চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট নিয়মিত হকারদের কাছ থেকে প্রতিদিন ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করছে। অভিযোগ রয়েছে, কথিত কিছু লাইনম্যান ও প্রভাবশালীদের মাধ্যমে এই অর্থ সংগ্রহ করা হয়। ফলে প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযান দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে না।

এলাকাবাসী জানান, সকালে অফিসগামী মানুষ ও শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন। সামান্য দূরত্ব অতিক্রম করতেও দীর্ঘ সময় লাগছে। যানজটের কারণে অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি যানবাহনও আটকে পড়ছে।

সচেতন মহলের মতে, শুধু উচ্ছেদ অভিযান দিয়ে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। প্রয়োজন নিয়মিত নজরদারি, চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং হকারদের জন্য বিকল্প পুনর্বাসন। সাধারণ মানুষের দাবি, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের মতো গুরুত্বপূর্ণ সড়কে স্থায়ীভাবে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।