গ্রাহকের আর্থিক সক্ষমতা যাচাই করে ক্রেডিট কার্ড ইস্যুর নির্দেশ
Printed Edition
বিশেষ সংবাদদাতা
গ্রাহকের আর্থিক সক্ষমতা যাচাই করে ব্যাংকগুলোকে ক্রেডিট কার্ড ইস্যু করার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ বাংক। একইসাথে অতিরিক্ত ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ প্রদান থেকে বিরত থাকারও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ বিষয়ে এক সার্কুলার জারি করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, ভোক্তাদের সুবিধাচাহিদা এবং ইলেকট্রনিক পেমেন্ট অবকাঠামোর সম্প্রসারণের কারণে দেশে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনলাইন কেনাকাটা, ই-কমার্স ও ডিজিটাল লেনদেনের বিস্তারের ফলে ক্রেডিট কার্ড এখন গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক লেনদেনের মাধ্যম হয়ে উঠেছে। তবে এই খাতের দ্রুত প্রসারের সাথে ঝুঁকিও বাড়ছে। তাই আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং গ্রাহকদের আস্থা নিশ্চিত করতে একটি সমন্বিত ও আধুনিক নিয়ন্ত্রক কাঠামো প্রণয়ন জরুরি হয়ে পড়েছে।
এ প্রেক্ষাপটে নতুন নির্দেশিকায় ব্যাংকগুলোর জন্য শক্তিশালী ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে তোলা, দায়িত্বশীল ঋণ প্রদান নিশ্চিত করা এবং ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারে আর্থিক শৃঙ্খলা জোরদারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, এসব নির্দেশিকা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ক্রেডিট কার্ড কার্যক্রম আরো স্বচ্ছ, নিরাপদ ও কার্যকর হবে।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, ব্যাংকগুলোকে ক্রেডিট কার্ডের বিলিং, সুদের হার, জরিমানা এবং অন্যান্য চার্জ সম্পর্কে গ্রাহকদের কাছে পরিষ্কার ও স্বচ্ছ তথ্য প্রদান করতে হবে। এতে গ্রাহকরা তাদের আর্থিক দায়বদ্ধতা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাবেন এবং অপ্রয়োজনীয় ঋণ ঝুঁকি কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সাথে গ্রাহকদের তথ্য সুরক্ষা, প্রতারণা প্রতিরোধ এবং লেনদেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর জোর দেয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরো জানিয়েছে, ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার দ্রুত সম্প্রসারণের সাথে সাইবার ঝুঁকি ও প্রতারণার সম্ভাবনাও বাড়ছে। তাই ব্যাংকগুলোকে উন্নত নিরাপত্তাব্যবস্থা, লেনদেন পর্যবেক্ষণ এবং গ্রাহক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরো শক্তিশালী করতে হবে। ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন এই নির্দেশিকা বাস্তবায়িত হলে দেশে ক্রেডিট কার্ড ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা বাড়বে, গ্রাহক সুরক্ষা জোরদার হবে এবং ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থার ওপর আস্থা আরো বৃদ্ধি পাবে। একই সাথে এটি দেশের ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল অর্থনীতিকে আরো নিরাপদ ও টেকসই ভিত্তি দিতে সহায়ক হবে।