ইরানকে বাদ দেয়ার ক্ষমতা নেই ট্রাম্পের
Printed Edition
ক্রীড়া প্রতিবেদক
বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে সবচেয়ে জমজমাট ও জনপ্রিয় খেলাধুলার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ফুটবল। আর যদি বলা হয় ফুটবল বিশ্বকাপ, তাহলে তো কোনো কথায় নেই। ফুটবলের সেই মেগা আসর শুরু হতে আর তিন মাসেরও কত সময় বাকি। এরই মধ্যে বল নিয়ে মাঠের খেলার চেয়েও জোরেশোরে চলছে কথার লড়াই। সম্প্রতি ইরানের ওপর যৌথভাবে সামরিক আগ্রাসন চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। এতে বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়ে যায় ইরান। বিশ্বকাপে খেলা না- খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা ক্রমেই বাড়ছে দেশটির। কারণ এই মেগা আসরের যৌথ আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা। আর গ্রুপ পর্বে ইরানের সবগুলো ম্যাচই খেলতে হবে যুক্তরাষ্ট্রে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে বিশ্বকাপ থেকে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেন। তারপর পাল্টা জবাব দিয়ে পরিস্থিতিকে আরো ঘোলাটে করে তুলেছে ইরান। ইরান জানিয়েছে বিশ্বকাপ থেকে ইরানকে বাদ দেয়ার ক্ষমতা ট্রাম্পের নাই।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেছিলেন, বিশ্বকাপে ইরান জাতীয় দলকে স্বাগত জানাবে ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই তা ভুল প্রমাণিত কররেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্প নিজের ট্রথ সোস্যালে গত পরশু দেয়া পোস্টে ইরানকে স্বাগত জানানোর কথা দিয়েই শুরু করেন। এরপর তিনি বলেন, তার বিশ্বাস বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান ফুটবল দলের নিজেদের জীবন ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে যুক্তরাষ্ট্রে আসা ঠিক হবে না।
সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৫ জুন ক্যালিফোর্নিয়ায় নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ইরান। এরপর ২১ জুন একই ভেনুতে বেলজিয়াম ও ২৬ জুন সিয়াটলে মিসরের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটি খেলবে ইরান।
তবে ইরানে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হামলার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মূলত তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। এ সঙ্ঘাত এখন আঞ্চলিক সীমা ছাড়িয়ে পৌঁছে গেছে বৈশ্বিক স্তরেও। স্বাভাবিকভাবেই এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে আসন্ন বিশ্বকাপ ফুটবলেও। আগামী ১১ জুন শুরু হবে এই মেগা আসর। বিশ্বকাপে টানা চতুর্থবারের মতো খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে ইরান। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়া নিয়ে আশঙ্কার কথা জানায় ইরান। প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ইরানের অংশগ্রহণ করার বিষয়টিকে তিনি পাত্তা দিচ্ছেন না।
ট্রাম্পের সাথে পরে বৈঠক করে ভিন্ন বার্তা দিয়েছিলেন ফিফা সভাপতি। তিনি জানান, ইরানকে বিশ্বকাপে স্বাগত জানাবে যুক্তরাষ্ট্র। তবে ট্রাম্প আবার গত পরশু ‘জীবন ও নিরাপত্তা’র কথা বিবেচনা করে ইরানকে বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর পরামর্শ দিলে সেই বক্তব্যের জবাব দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিও। বলেছে, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ থেকে কেউ তাদের বাদ দিতে পারবে না।
ইরান জাতীয় ফুটবল দলের অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে দেয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপে তাদের অংশগ্রহণ কোনো ব্যক্তি বা দেশের সিদ্ধান্তে নির্ধারিত হবে না। সেই সাথে সমালোচনা করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপের নিরাপত্তাব্যবস্থারও।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বিশ্বকাপ একটি ঐতিহাসিক ও আন্তর্জাতিক আয়োজন। কোনো ব্যক্তি বা দেশ নয়, এর নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। ইরান টুর্নামেন্টে সবার আগে যোগ্যতা অর্জন করা দলগুলোর একটি। নিশ্চিতভাবে কেউ ইরানকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিতে পারবে না। বরং বাদ পড়তে পারে সেই দেশ, যারা শুধু ‘আয়োজক’ নামটি বহন করে। কিন্তু এই বৈশ্বিক আসরে অংশ নেয়া দলগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সক্ষমতা নেই।’