শ্রীপুরে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ, শতাধিক বাড়িতে লুটপাট, আহত ১০

Printed Edition

শ্রীপুর (মাগুরা) সংবাদদাতা

মাগুরার শ্রীপুর উপজেলায় সামাজিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে শতাধিক বাড়িঘরে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। গত শুক্রবার রাত ৯টা থেকে শনিবার ভোর ৩টা পর্যন্ত প্রায় ছয় ঘণ্টাব্যাপী চলা এ সহিংসতায় উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার নোহাটা গ্রামের বিএনপিকর্মী টিটন মোল্লা এবং একই গ্রামের উপজেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক আনিসুর রহমান কনক ও স্থানীয় বিএনপি নেতা লিপটন মিয়ার গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে শুক্রবার রাতে দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরে আশপাশের গ্রামের লোকজনও এতে যুক্ত হলে পরিস্থিতি ব্যাপক সহিংস রূপ নেয়।

সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষ পরস্পরের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করে। একাধিক বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। হামলায় গবাদিপশু লুট, ঘরের মালামাল তছনছ এবং নগদ অর্থ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে নোহাটা ও আমতৈল গ্রামের বহু পরিবার রয়েছে।

আমতৈল গ্রামের গোলাম তহুরের স্ত্রী নাসিমা খাতুন অভিযোগ করেন, তার স্বামী ও দেবর বাইরে চাকরি করেন। সেই সুযোগে বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। নোহাটা গ্রামের আনিছুর রহমানের স্ত্রী লিপি বেগম বলেন, তাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে সবকিছু লুট করে নেয়া হয়েছে। ছোট তিন সন্তান নিয়ে এখন কোথায় থাকবেন, তা নিয়ে তিনি দিশেহারা।

একই গ্রামের সালমা বেগম জানান, রাতে শিশু সন্তানদের নিয়ে চরম আতঙ্কে ছিলেন। হামলাকারীরা ঘরে ঢুকে সবকিছু ভেঙে ফেলে এবং শিশু সন্তানের সঞ্চিত টাকাও নিয়ে যায়।

স্থানীয়রা জানান, সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্বের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে এ ঘটনায়। সংঘর্ষের পর এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

শ্রীপুর থানার ওসি আতাউর রহমান বলেন, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।